১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা

মসজিদে বা মন্দিরে আগেও নারকীয় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। তবে নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সময় হামলার যে ঘটনা ঘটে সেটি ব্যতিক্রমী। এর বৈশিষ্ট্য ও নেপথ্যের ‘মতাদর্শ’ জানতে পেরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়তে হয়। জঙ্গী হামলাকারী ব্রেন্টন হ্যারিসন ট্যারন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই নারকীয় তান্ডবের ভিডিও গ্রহণ এবং তা সম্প্রচারের ব্যবস্থা আগেভাগেই নিয়ে রেখেছিল। তার হত্যাকান্ড সংঘটনের নেপথ্যে কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, ছিল বর্ণবিদ্বেষও। নিজেকে শ্বেতাঙ্গ খ্রীস্টান হিসেবে দম্ভ প্রকাশে তার আধিপত্যবোধের অহঙ্কার রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে ঠান্ডা মাথার এক খুনী যে হত্যাযজ্ঞ চালায় তার নিন্দা প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয় প্রবলভাবে।

অত্যন্ত নৃশংস, ভয়াবহ ও জঘন্য হামলার ঘটনা ঘটেছে শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ডে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে অবস্থিত আল নূর ও এর কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করে উক্ত সন্ত্রাসী। এতে শেষ খবর অনুযায়ী অন্তত অর্ধশত মুসল্লি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আছেন দুজন বাংলাদেশী। এছাড়া পাঁচ বাংলাদেশীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জন। ঘটনার পর থেকে কয়েক বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন। সবচাইতে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। আল নূর মসজিদটি হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছাকাছি হওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিকাংশ সদস্য অনুশীলন শেষে সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন। এই হ্যাগলি ওভাল মাঠেই পরদিন শনিবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা এ ঘটনার পর বাতিল করা হয়। এই বর্বরোচিত হামলায় যারা নিহত হয়েছেন আমরা তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।

৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর ইউরোপ-আমেরিকায় মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব ও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে সব ধর্মের সাধারণ মানুষকেই টার্গেট করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সন্ত্রাসীকে ধর্ম-বর্ণ দিয়ে বিবেচনার পরিবর্তে কেবল সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতে হবে। হামলাকারী মুসলিম হলে সন্ত্রাসী, অন্য ধর্মের হলে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’- এমন নীতি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে বাধ্য। আমরা আশা করি, নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সবাই নিরাপদে থাকবেন। একটি সমাজে উগ্রপন্থী বা সন্ত্রাসীরা সংখ্যায় সামান্য থাকে। অধিকাংশ মানুষই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। বিশেষত নিউজিল্যান্ড একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। সেখানে এই হামলার ঘটনার পর সর্বোচ্চ সতর্কতার বিকল্প নেই।

সারা বিশ্বে ধর্ম পালনকারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে যে, তারা জঙ্গী। তারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সন্ত্রাসী হামলার আদর্শে বিশ্বাসী। নিউজিল্যান্ডের ঘটনা বর্ণবিদ্বেষ ও ভিন্নধর্মীদের প্রতি ঘৃণার বাস্তবতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কোন ধর্মেরই মূল সুর ধ্বংসাত্মক নয় বরং সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। শান্তি ও মানবতার ললিত বাণী সৃজনশীলভাবে প্রতিটি দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে কী উপায়ে পৌঁছানো এবং উগ্রপন্থার সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা রোধ করা যায় সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এজন্য ধর্মীয়গুরু, দার্শনিক ও রাষ্ট্রনায়কদের সচেতন উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি জরুরী। নিজ নিজ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওইসব রাষ্ট্রের শাসকদের অবশ্য কর্তব্য। এক্ষেত্রে সামান্যতম শিথিলতা ও অসতর্কতার কোন সুযোগ নেই। খ্রীস্টান সংখ্যাগুরু দেশে খ্রীস্টান জঙ্গীরা কোন ধরনের ছাড় পাবে না- এমনটাই প্রত্যাশিত।