১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাসপাতালে ডাক্তার কর্নার

মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকারকে সার্বিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে, শিক্ষার মান লক্ষ্যমাত্রাকে স্পর্শ করে যাচ্ছে, গৃহায়ন প্রকল্প সরকারী অর্থায়নে সিংহভাগ অংশের বাসস্থানকে তাদের আয়ত্তে এনে দিচ্ছে, পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানায় তার সুদৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করেছে। চিকিৎসাসেবার মতো মহৎ ও বৃহৎ কর্মোদ্যোগও বর্তমান সরকারের সফল কার্যক্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি শারীরিক ও মানবিক পর্যায়কে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের মূল উদ্দেশ্য অসুস্থ রোগীকে সেবা প্রদান করা। আর তা করতে হলে সরকারী ও ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্র হাসপাতালেই সেরে নেয়া সংশ্লিষ্টদের অন্যতম নীতি হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী সমস্ত সরকারী হাসপাতালে ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে হাসপাতালেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎকদের জন্য কর্নার থাকা উচিত বলে মত দেন। এতে চিকিৎসক এবং রোগী উভয় তরফ থেকেই শুধু সময় বাঁচবে না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আরও আধুনিক এবং উন্নতমানের হাসপাতাল তৈরি করতে নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে আগের পরিবেশ-পরিস্থিতিকে পাল্টে দিতে হবে। হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবার উপযুক্ত স্থান। বিশ্বের উন্নতমানের হাসপাতালের রোল মডেল নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মপরিচালনাকে আরও মানবিক এবং নির্মল পারিপার্শ্বিক অবস্থার অনুষঙ্গ করতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ-এর কার্যক্রম চালু করা, যাতে অসহায় রোগীদের বেসরকারী চিকিৎসালয়ে দৌড়াতে না হয়। চিকিৎসকরাও যেন সমস্ত বিপন্নতা এড়িয়ে যথাসময়ে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারেন। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত আলো, বাতাস অসুস্থ ও দুর্বল শরীরের জন্য বিশেষ আবশ্যক। প্রকৃতির স্নিগ্ধ বাতাস পরিবেশকে যে মাত্রায় উৎফুল্ল করে সেই নির্মল বাতাসও রোগীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। দেশটা সাধারণ মানুষের। এই মুহূর্ত তাদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকল্পে যা যা করা দরকার তার সবই করতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের চারপাশে ফুলের বাগান করে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে রোগীদের মানসিক প্রশান্তি আনতে হবে। মানবসেবাকে সর্বস্তরের মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে সরকারী উদ্যোগ ব্যতীত প্রায় অসম্ভব। জনগণের সময় এবং অর্থ বাঁচাতে এমন প্রকল্প জনস্বার্থেই নিবেদিত হবে। এ ছাড়াও হাসপাতালে কর্মজীবী মহিলাদের জন্য ‘শিশু দিবাযত্ন’ কেন্দ্র তৈরি করতে সরকারী সদিচ্ছার কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন তিনি। শুধু নার্স কিংবা চিকিৎসক নন, বরং রোগীদের শিশুদেরও যত্ন নেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ডে-কেয়ার কেন্দ্র থাকলে তেমন ঘাটতি মেটানো কোন ব্যাপার নয়। উন্নত বিশ্বের সরকারী ব্যবস্থাপনার সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবাও যেন কোনভাবে পিছিয়ে না থাকে তেমন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলোকে দীর্ঘসূত্রতার আবর্তে যেন ফেলে না দেয়- সচেতন জনগোষ্ঠীর এটাই প্রত্যাশা।