২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভূমিতে নারীর অধিকার

আদিম কৌম সমাজে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ও অবদান ছিল প্রায় শতভাগ। পরে পিতৃতান্ত্রিক তথা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষি কাজে নারীর অংশগ্রহণ কমে যায়। তবে বর্তমানে আবার সেই দিন ফিরে আসার উপক্রম হয়েছে। কেননা, পুরুষরা বিভিন্ন কাজের সন্ধানে শহরমুখী ও বিদেশমুখী হওয়ায় কৃষিতে পুরুষের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। সত্যি বলতে কি পুরুষ কৃষি শ্রমিক পাওয়াই দুষ্কর। ফলে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে আবারও। কৃষিকাজনির্ভর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বর্তমানে কৃষির ১৭টি ধাপে নারী সরাসরি কাজ করলেও কৃষিতে নারীর মালিকানা আছে মাত্র ১৮ ভাগ। তাও নামমাত্র, বাস্তবে যার কোন অস্তিত্ব বা স্বীকৃতি নেই। সে অবস্থায় নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিতে নারীরও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নারীর ভূমি অধিকার, কৃষিতে অংশগ্রহণ এবং নারীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে উঠে এসেছে এই দাবি। ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টÑ এএলআরডি’ আয়োজন করে এই সেমিনারের। এর বাইরে নারীর প্রতি পদে পদে মজুরি বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সত্যি বটে, নারীরা কৃষিতে শ্রম দিলেও ভূমির মালিকানা রয়ে গেছে পুরুষের হাতে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাদের সেই কাজের যথাযথ স্বীকৃতি ও মজুরি দিচ্ছে না। স্বীকৃতি না থাকায় নারী কোন রাষ্ট্রপ্রদত্ত কোন সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছে না। নারীদের জমি না থাকায় তারা থেকে যাচ্ছে ভূমিহীনদের কাতারে। এই অবস্থায় সরকারী খাস জমি নারীদের নামে দেয়ার দাবি উঠেছে। তদুপরি নারীদের যথার্থ মূল্যায়নের লক্ষ্যে পারিবারিক আইন সংশোধন করে ভূমিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা বাঞ্ছনীয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১০ লাখ এবং নারী ৮ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার। সেক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর অনুপাতে ভারসাম্য বিরাজ করছে। তবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আরও যা আশার কথা তা হলো, দিনে দিনে বাড়ছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা পৌঁছাবে ৭০ শতাংশে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার এহেন অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) প্রতিবেদনে। এতে জনসংখ্যার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগানোর মতো উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভিন্নধর্মী কাজ, কারিগরি দক্ষতা, সৃজনশীল জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের গড়ে তুলতে হবে। তদুপরি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারীকে বঞ্চিত রেখে উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে না।

দেশের গার্মেন্টস শিল্পের সুখ্যাতি বিশ্বজোড়া। আয়ও অসামান্য। এ খাতে কয়েক লাখ নারীর কর্মসৃজন হয়েছে। তবে মজুরি বৈষম্যও রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বে। প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কর্মসূচীসহ নারী ও শিশু মৃত্যুর হার প্রতিরোধেও বাংলাদেশের সাফল্য প্রশংসনীয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে ৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়। নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে ধাবমান বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ অতিক্রম করা। সেটা অতিক্রম করতে হলে ইউএনডিপি উল্লিখিত ৬৬ শতাংশ কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। অদক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করতে হবে দক্ষ জনশক্তিতে। জোর দিতে হবে কারিগরি শিক্ষা ও নারী শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর। বাড়াতে হবে শিক্ষার মান। জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের দিকে সবিশেষ নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ সিডও সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। সে অবস্থায় নারীর ন্যায্য অধিকার ও স্বীকৃতি আজ সময়ের দাবি। সরকার সেই দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই প্রত্যাশা।