১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইয়ে বয়স্ক আম গাছে রূপান্তর করে উন্নত জাত করা হচ্ছে

ডি.এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ এতদিন শুধু কয়েক মাস বা বছর পার হওয়া অনুন্নত জাতকে কাটিং করে উন্নত জাতে রূপান্তর করা হতো। যার পরিমাণ চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ ৬৪ জেলায় প্রায় কয়েক লাখ আম গাছ।

পরিবেশ পরিস্থিতি পাল্টেছে, এখন বয়স্ক অনুন্নত আম গাছ যার বয়স ৫০ পেরিয়েছে, সেই সব আম ধরা গাছকেও এখন রূপান্তর করে উন্নত জাত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর দুটি পদ্ধতি রয়েছে একটির নাম তাৎক্ষণিক টপওয়ার্ক ও অপরটি শুধু টপওয়ার্ক। বেশি বয়সের আম গাছকে টপওয়ার্কের আনার কাজে ব্যয় অনেক বেশি। তবুও আম চাষীরা বা পাবাগন মালিকেরা এই পদ্ধতিকেই বেছে নিয়েছে। প্রথমেই গাছের কা-কে তিন থেকে পাঁচ ফুট রেখে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়। যে কা-টি মাটির সঙ্গে লেগে থাকে তার কেটে ফেলা অংশে নানান ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত জাতের ডগা এনে কেটে ফেলা অংশে লাগানো হয়।

মাস খানেকের মধ্যে উন্নত জাতের ডগা থেকে পাতা বা ফুনকি ফোটে। যা কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক ডগা গজিয়ে বাড়তে শুরু করে।

এই পদ্ধতিটি বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর (বারী প্রদত্ত) চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টার ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের কাছ শুরু করেছে। বহু বাগান মালিক বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে গিয়ে প্রয়োগ করছে নতুন এই পদ্ধতি নিজেদের বাগানে। কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টার বয়স্ক গাছের দুটি পদ্ধতি হাতে কলমে প্রশিক্ষণের জন্য এই ধরনের দুটি বাগান সৃষ্টি করেছে। একটিতে রয়েছে ৬০টি পুরনো গাছ অপরটিতে রয়েছে ৮টি গাছ। এই সব গাছের বয়স প্রায় ৫০ পেরিয়ে গেছে। সেই সব গাছে টপওয়ার্ক করে দৃষ্টান্ত বা উপমা সৃষ্টি করেছে ফার্ম কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিক টপওয়ার্ক করা বাগানে রয়েছে ৬০টির অধিক আম গাছ। এখন এইসব গাছে ৭/৮টি করে ডগা বেরিয়ে মোটা হয়ে উর্ধমুখী হয়েছে। কোন কোন গাছে মুকুলও এসেছে।

কল্যাণপুর হর্টিকালচারের প্রধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক কৃষি বিজ্ঞানী ড. সাইফুর জানান, বাহির যেসব বাগান মালিক বা আম চাষী আসে তাদেরকে দেখানোর জন্যই তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। ইতোমধ্যেই জেলার ভোলাহাট, শিবগঞ্জ ও নাচোল এবং সদর এলাকায় একাধিক বয়স্ক গাছ রূপান্তর করে উন্নত জাতের আমের বাগান মালিক হয়েছেন এমন সংখ্যা শতাধিক পেরিয়ে গেছে। শুধু জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নওগাঁসহ পাহাড়ী এলাকায় সম্প্রসারিত হয়েছে এই ধরনের আম বাগানের। এক কথায় প্রায় ৬৪ জেলায় এখন এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বহু বাগান মালিক তাদের গাছ উন্নত জাতে রূপান্তর করে কাজে লেগে পড়েছে।

যে সব চাষী বারির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে চাচ্ছে তাদেরকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচারের সঙ্গে যোগাযোগ করার। এই ধরনের বহু বাগান মালিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসে এই ধরনের বাগান দেখে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং পরামর্শ গ্রহণ করে তাদের বাগানের অপ্রচলিত অনুন্নত জাত কেটে ফেলে উন্নত জাতে বাগানের সৃষ্টি করেছে। একদিকে বাগানের শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের বাগান রূপান্তর করায় অধিক পয়সা বা মুনাফা পাচ্ছে। এইসব কারণে তারা অধিক পরিমাণে ঝুঁকেছে বাগানের অপ্রচলিত জাত কেটে ফেলে সে সব গাছকে উন্নত জাতে রূপান্তর করছে।

ফলে এইসব কৃষক গাছের কা- থেকে পুরো গাছ কেটে ফেলায় এক দিকে কাঠের মূল্য পাচ্ছে। পাশাপাশি ডগা ও পাতা লকড়ির বা জ্বালানির কাজে লাগছে। একই সঙ্গে গাছটি আবার নতুন করে উন্নত জাতে রূপান্তরিত হয়ে অনেক দামী ফলবান বৃক্ষ হচ্ছে। এইসব গাছে অধিক পরিমাণ সার ও পরিচর্যা লাগলেও বাগান মালিক পুষিয়ে নিচ্ছে দর বেশি হওয়ার কারণে।

মাঠ পর্যায় থেকে খবর পাওয়া গেছে এইসব পুরনো গাছের বাড়তি খুবই ত্বরান্বিত করতে যে পরিচর্যা করা হয় তাতে পুরনো গাছের মতোই অধিক ফলন হয়ে থাকে। স্বাদেও কোন তারতম্য নেই। এক কথায় ফলের সাইজ হয়ে থাকে নতুন গাছের মতোই।

এইসব গাছের ফলে কোন তারতম্য ধরার উপায় থাকে না। ফলে বয়স্ক অনুন্নত জাতের আম গাছ কেটে উন্নত জাতে রূপান্তর কাজটি খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমনকি যে সব চাষীর উঠানে বা আঙ্গিনায় আঁটি থেকে গাছ হয়ে টক বা স্বাদে ভরা ছিল সে সব গাছকেও এখন কেটে উন্নত জাতে রূপান্তর করার এক মহাবিপ্লব শুরু হয়েছে। যার কারণে বহু চাষী তাদের একটি গাছ থাকলেও তা কেটে ফেলে এখন উন্নত জাত করছে। লক্ষ্য একটাই যে গাছে আম হবে তা খুবই উন্নত এবং বাড়ির খাবার কাজে ব্যবহৃত হবে।

তাই জেলা জুড়ে এবং পুরো দেশে অচেনা অজানা বুড়ো আম গাছ কেটে ফেলে তা রূপান্তর করা হচ্ছে উন্নত জাতে। এই টপওয়ার্কে এখন শামিল হয়েছে বহু আম চাষী। এর ফলে একদিকে বেড়েছে কৃষকের কর্মক্ষমতা। পাশাপাশি এই কাজ করে যারা বা যে সব কৃষি শ্রমিক অভিজ্ঞ হয়েছেন তারা চড়া মূল্যে কাজ পাচ্ছে। এক কথায় টপওয়ার্ক ও তাৎক্ষণিক টপওয়ার্কের বিষয়টি খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই মাত্রা পাওয়া