২৫ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুয়াকাটায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে অনিয়ম

  • বেড়িবাঁধ সংস্কার

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ১৮ মার্চ ॥ যেন আকাশ-পাতাল ব্যবধান। কুয়াকাটার মোটরসাইকেল পার্টস বিক্রেতা রফিকের ১০ হাত বাই ১০ হাত একটি দোকান ঘরের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৪০ হাজার টাকা। অথচ একই মাপের জাকির টেলিকম ইলেকট্রিক মালামাল বিক্রির দোকানের ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৬৪ হাজার টাকা। চায়ের দোকানি সোবাহানের অভিযোগ জয় খাবার হোটেল এ্যান্ড রেস্তরাঁর ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। অথচ সমমানের রেস্টুরেন্ট বৈশাখী হোটেলের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার টাকা। এমন সব এন্তার অনিয়মের অভিযোগে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের বেড়িবাঁধের দুই দিকের দোকানিরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। তারা মানববন্ধন করেছেন। দিয়েছেন অভিযোগ। তালিকা তৈরির কাজ শেষ করেই পর্যটন মৌসুম চলাকালে টাকা পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুয়াকাটায় এ নিয়ে শতাধিক খুদে ব্যবসায়ী এখন আন্দোলনে নেমেছে।

বাঁধ সংস্কার কাজে নিয়োজিত কনসালটেন্ট কোম্পানির (জিডিসিএস এবং পিএমএস) এমন নোটিসে হতবাক হয়ে গেছেন ব্যবসায়ীসহ বসতি স্থাপনকারীরা। তাদের দাবি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আগে করা হোক। তারপরে অপসারণ।

এমন দাবিতে ব্যবসায়ীরা অতি সম্প্রতি কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করেছেন। খুদে ব্যবসায়ী মাসুম, সোবাহান, ইমাম হোসেন ও ফারুক বলেন, ক্ষতিপূরণের অর্থ নির্ধারণের সময় অনিয়ম করা হয়েছে। একই মানের ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে যারপরনাই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে।

তারা এ বৈষম্যের বিচার চেয়েছেন। মানববন্ধনকালে ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা ক্ষতিপূরণ চাইনা পুনর্বাসন চাই। পর্যটন মৌসুম চলাকালে তাদের উচ্ছেদ করা হলে হাজারো মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিয়ে নতুন করে অন্যত্র স্থানান্তর করার ব্যক্তি মালিকানাধীন কোন জায়গা নেই। মার্কেট করার জন্য সরকারের অনেক পতিত জমি রয়েছে। রাজস্ব নির্ধারণপূর্বক সরকারীভাবে পুনর্বাসনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

জিডিসিএস এবং পিএমএস কনসালটেন্ট কোম্পানির (আইসিআইপি প্রকল্প-১) রিপ্লেসমেন্ট বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মোঃ ফেরদৌস রহমান জানান, বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে কোন অনিয়ম হয়নি। তাদের কথিত মতে এবং কয়েক দফা পর্যালোচনা করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেকের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অডিও ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই কুয়াকাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিমি বেড়িবাঁধ পুনারাকৃতিকরণ ও ২২ কিমি মেরিন ড্রাইভ সড়ক করার জন্য উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন সংস্থার কাজ চলমান রয়েছে। এ বাঁধের দুই দিকের স্লোপে বসবাসরত দরিদ্র মানুষের ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ দেয়া নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালীমহল সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তবে অধিকাংশের ক্ষতিপূরণের টাকা আগেই শোধ করা হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ