১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চকরিয়ায় এক শ’একর প্যারাবন ধ্বংস

  • উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ চকরিয়ার উপকূলীয় জনপদের বদরখালীতে এবার অন্তত শতাধিক একর প্যারাবন কেটে প্রবহমান খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের তৈরির নামে সরকারী সম্পদ দখলে নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী দখলবাজ চক্র প্রায় ১৫ দিন ধরে সেখানে নির্বিচারে প্যারাবন কেটে জায়গার আয়তন বাড়ানোর পাশাপাশি স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে খালের দুপাশে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, খাস জায়গা দখলকারী ওই চক্রটি বদরখালী মৌজার অধীনে বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন ৩ নম্বর ব্লক গোলদিয়া ঘের এলাকার মারম্যাট প্রকল্পের পাশে অন্তত এক শ’ একর প্যারাবন উজাড় করে সরকারী জায়গা দখলে নিয়েছে।

অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এবং তাদের সঙ্গে বেশ কিছু পেশাদার ডাকাত প্রকৃতির লোক দখল কাজে জড়িত থাকায় জায়গার মালিকপক্ষ বদরখালী সমিতির সংশ্লিষ্টরা তাতে বাঁধা দিতে সাহস পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন সমিতির একাধিক নেতা। বদরখালী সমিতির অনেক সভ্য জানান, ২০০৭ সালের দিকে স্থানীয় অপর একটি চক্র বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন ৩ নম্বর ব্লক গোলদিয়া ঘের এলাকার মারম্যাট প্রকল্পের পাশে উল্লিখিত প্যারাবন দখলে নিয়ে চিংড়ি ঘের তৈরির তোড়জোড় শুরু করে। ওইসময় মারম্যাট প্রকল্পের পাশের প্রবহমান খালটি জবরদখল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় উপকূলীয় জনপদে পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন অবস্থা হতে পারে এমন অভিযোগ তুলে সমিতির সাবেক সম্পাদক দেলোয়ার হোছাইন বাদী হয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন।

সমিতির সংশ্লিষ্টরা জানান, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম তাৎক্ষণিক বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন ৩ নম্বর ব্লক গোলদিয়া ঘের এলাকার মারম্যাট প্রকল্পের পাশের ওই প্যারাবন রক্ষায় জবরদখলকারীদের বিপক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। এরপর থানার ওসির নির্দেশনার আলোকে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জবরদখল চেষ্টা ভ-ুল করে দেয়। ওইসময় পুলিশ দখলকারীদের সকল স্থাপনাও গুড়িয়ে দিয়েছিল। সমিতির সভ্যরা দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির তড়িৎ হস্তক্ষেপে ওইসময় দখল কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও বর্তমানে আবারও লুলোপ দৃষ্টি পড়ে দখলবাজদের। প্রায় ১২ বছর পর বর্তমানে ওই এলাকার প্যারাবন নিধনে ফের চিংড়ি ঘের তৈরিতে নেমেছে নতুন একটি প্রভাবশালী চক্র। চক্রটি বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন ৩ নম্বর ব্লক গোলদিয়া ঘের এলাকার মারম্যাট প্রকল্পের পাশের অন্তত এক শ’ একর প্যারাবন উজাড় করে জায়গা দখলে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত প্রভাবশালী দখলবাজ চক্রটি প্রায় ১৫ দিন ধরে সেখানে নির্বিচারে প্যারাবন কেটে জায়গার আয়তন বাড়ানোর পাশাপাশি স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে খালের দুপাশে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এ অবস্থার কারণে উপকূলীয় জনপদের ইউনিয়ন বদরখালীতে পরিবেশগত সঙ্কট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বদরখালী সমিতির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির এক নেতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন ৩ নম্বর ব্লক গোলদিয়া ঘের এলাকার মারম্যাট প্রকল্পের পাশের প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের তৈরির করার জায়গাটি সমিতির মালিকানাধীন। অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। এলাকার দাগী কিছু সশস্ত্র ডাকাত তাদের সঙ্গে জড়িত থাকায় সমিতির পক্ষে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। তবে প্রশাসন সহযোগিতা করলে আমরা এগিয়ে আসতে পারব।