২২ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কালকিনিতে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা ॥ ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

কালকিনিতে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা ॥ ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালকিনি, মাদারীপুর ॥ সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার। এসব সিলিন্ডার বিক্রির ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। অবাধে চলছে ফায়ার লাইসেন্স বিহীন এলপি গ্যাস ও সিলিন্ডারের খুচরা ব্যবসা। এ ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নেই অনেক ব্যবসায়ীদের। এমনকি ওষুধের দোকানসহ মুদি দোকান ও কাপড়ের দোকানেও এখন চলছে গ্যাস সিলিন্ডারের জমজমাট ব্যবসা। প্রশাসনের কোন ধরনের তদারকি না থাকায় লাইসেস বিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা বেড়েছে। এ গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসায়ীদের কোন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের প্রায় বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যাবসা ওষুধের দোকানেও চলছে। সরকারের অনুমোদন লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে এ ব্যবসা। ট্রাকযোগে সিলিন্ডার পৌছে দেন এসব দোকানে। ট্রাক থেকে ছুড়ে ফেলে গ্যাস সিলিন্ডার নামানো হয়। এতে যে কোন সময় বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।

মাঠ পর্যায়ে এই সব দোকানিদের ফায়ার লাইসেন্স তো দূরের কথা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও তাদের নেই। ১০টির কম সিলিন্ডার দোকানে থাকলে লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না এমন আইনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার অধিক সিলিন্ডিার রেখে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী লাইসেন্স না নিয়েই অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। লাইসেন্স আছে এমন গ্যাস ও দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য ট্রাকে করে বিপজ্জনক গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে ভাঙাচুরা পাকা-আধাপাকা সড়ক দিয়ে দ্রুত গতিতে চালিয়ে দোকানে দোকানে সরবারহ করছে। ৮টি সিলিন্ডার মজুদ করতে হলেও অধিকতর নিরাপত্তার জন্য অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছেন না খুচরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা। বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি গ্যাস মজুদ করা যাবে না। একই বিধিতে ৭১নং ধারায় বলা আছে, আগুন নিভানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি রাখতে হবে। এই আইন অমান্য করলে সংশিষ্ট ব্যবসায়ীর দুই বছর এবং অনধিক ৫ বছরের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা দন্ড দিতে হবে এবং অর্থ অনাদায়ী থাকলে অতিরিক্ত আরো ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। সেই মোতাবেক ৮টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। আইনের এই ফাঁক ফোকরটিই কাজে লাগাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ।এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বোতলে মেয়াত উর্ত্তীনের তারিখ লেখা নেই, কেউ যানে ও না মেয়াত শেষ কবে।

সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মোঃ দিদারুল আলম বলেন, আমি আমার ওষুধের দোকান থেকে গ্যাস সিরিন্ডারের বোতল সরিয়ে নিব।

এ বিষয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিত্য গোপাল সরকার বলেন, আমরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র দোকানে রাখার পরামর্শ দিতেছি। আমরা শ্রীর্ঘই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ড পরিচালনা করব।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, লাইসেন্স বিহীন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।