২২ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কয়েকশ’ একর জমি বেদখল

কয়েকশ’ একর জমি বেদখল

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কয়েকশ’ একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। আশির দশকে গড়ে উঠা পাউবোর পাম্প হাউস ও রাবার ড্যামের সম্পত্তিও অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। শুধু জমি নয়; পাম্প স্টেশন ও রাবার ড্যামের যন্ত্রপাতিরও নেই কোনো হদিস। এসব জায়গায় যে স্থাপনা ছিলো সেটা এখন বোঝাই মুশকিল হয়ে পরেছে। এসব জমিতে অবৈধভাবে দখলকারীদের ঘরবাড়ি, ইটভাটা ও হাট-বাজার গড়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে পাউবোর গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে তাদের সম্পত্তি দখল হয়ে গেছে। তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ সংস্থাটির কর্মকর্তারা। তাদের দাবি কিছু জায়গায় জটিলতা থাকলেও অন্য সব স্থাপনা সংস্থার দখলেই রয়েছে। পাউবোর সব সম্পত্তি সংরক্ষণ ও উদ্ধারে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান কাজী তোফায়েল হোসেন বলেন, বেদখল সম্পত্তির ব্যাপারে খোঁজখবর এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্রমতে, সেচ কাজে সহযোগিতা ও ফসলি জমিতে সঠিকভাবে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৭৮টি পাম্প স্টেশন এবং পাম্প হাউস নির্মাণ করে পাউবো। এসব পাম্প হাউসের অধীনে এক হাজার ৪৭৮টি স্লুইচ গেট ও কয়েকটিতে রাবার ড্যাম বসানো হয়। বড় নদীসংলগ্ন খালগুলোতে বসানো এসব পাম্প হাউসের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটা ও পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফসলি জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া হতো। পাম্প হাউসে দায়িত্ব পালনের জন্য পাম্প চালক ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো।

এ ব্যাপারে বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু সাইদ বলেন, এসবের দেখভাল করে যান্ত্রিক বিভাগ। তাই এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না। যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শামসুল আলম বলেন, আমি মূলত ঢাকায় থাকি। বরিশালের যে দায়িত্ব তা আমাকে অতিরিক্ত হিসেবে দেয়া হয়েছে। জনবল সংকটে সবদিকে সঠিকভাবে খেয়াল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, কোনো পাম্প হাউসের জমি লিজ দেয়া হয়নি। কেউ যদি লিজ নেয়ার কথা বলে থাকেন তবে তিনি মিথ্যা বলেছেন। দু-একটি জায়গায় জমি দখলের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থাও নিয়েছি। বরিশাল সদর উপজেলার একটি জমি নিয়ে মামলা চলছে। খুব শীঘ্রই আমরা বাকি পাম্প হাউসগুলোর ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেব। পাউবোর বেদখল জমি এবং সব সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত টাস্কফোর্সের আহবায়ক কাজী তোফায়েল হোসেন বলেন, বর্তমানে সব তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলেই জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচিত সংবাদ