১৮ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর

ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন খাতের বিপরীতে আগামী বিশ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে নেয়া হয়েছে শাহজালাল সম্প্রসারণের তৃতীয় প্রকল্প। এ জন্য উদ্ধার করা হয়েছে প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি। বিভিন্ন স্থাপনাও অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ ২ লাখ ২৬ হাজার বর্গফুটের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য যতটুকু জমি প্রয়োজন সেটা নির্মাণোপযোগী করে তোলার জন্য কাজ অনেকটাই শেষের দিকে। এরই মধ্যে ড্রয়িং-ডিজাইন চূড়ান্ত করে ডাকা হয়েছে দরপত্র।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কিছু অযৌক্তিক শর্ত জুড়ে দেয়ায় ১৩ হাজার কোটি টাকার কাজের দরপত্র মঙ্গলবার খোলার শুরুতেই উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। ফলে দরপত্র কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তদন্তের নির্দেশ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও। অথচ বিশ্বের নামী-দামী ২২ বিমানবন্দর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে ইতোমধ্যে। নতুন এ টার্মিনাাল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ জন্য স্থানান্তর ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে কার্গো ভিলেজ, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স, হ্যাঙ্গার ও পদ্মা অয়েল ডিপো। হ্যাঙ্গার স্থানান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে জোর গতিতে। মূল নক্সায় রয়েছে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, যদিও প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে ১২টি। আগত যাত্রীদের চাপ সামলাতে ও যানজট এড়াতে বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়কেও আসবে পরিবর্তন। বিমানবন্দরের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত করতে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, সেরা বিমানবন্দর হওয়ার জন্য বেশ কিছু বিষয়কে ভিত্তি ধরে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে জরিপ চালায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এতে যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয় সেগুলোর মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, কর্মীদের সেবা পরায়ণতা, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা, কেনাকাটার সুবিধা, ব্যাগেজ ডেলিভারি, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, ভিড় সামলাতে দক্ষতা, ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারদের সুযোগ সুবিধা, বিনোদনের ব্যবস্থা, খরচ ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। তাদের তালিকায় সেরা বিমানবন্দরের শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর। আমরা আগেও বলেছি, যে কোন দেশের বিমানবন্দর একটি স্পর্শকাতর এলাকা। বিমানবন্দর দেশের একটি অহঙ্কার। কাজেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অসন্তুষ্টি রয়েছে। বিমানবন্দরে নিয়োজিত ১৯টি সংস্থার যারা কর্তব্যে নিয়োজিত, তাদের দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় নিয়েও কথা আছে। প্রধানমন্ত্রীর বিমানের নাটবল্টু ঢিলা রাখা নিয়ে ভিভিআইপি নিরাপত্তার বিষয়টি দেশ-বিদেশে উঠে আসে আলোচনায়।

শুধু টার্মিনাল তৈরি ও আধুনিক সুবিধার পথ রচনাই বড় কথা নয়। সকল পর্যায়ে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং সেটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই হলো আসল চ্যালেঞ্জ। যে কোন দেশের যে কোন নাগরিক এসে যদি বিমানবন্দরে তার কাক্সিক্ষত মানসম্পন্ন সেবাটুকু পায়, সে যদি সন্তুষ্ট হয় তাহলেই একটি বিমানবন্দরের সফলতা আসতে পারে। যাত্রীসেবাই হলো প্রধান বিবেব্য। তার ভেতরে নিরাপত্তা হলো প্রথম শর্ত। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা নিয়ে আমাদের বারবার লজ্জায় পড়তে হয়েছে। আমরা আশা করতে পারি নতুন বিমান প্রতিমন্ত্রী সকল সংকট শতভাগ মোকাবেলা করে দক্ষতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন এবং যথাসময়ে থার্ড টার্মিনালের কাজ সুসম্পন্ন হবে।