১৮ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিএসপি ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত বাংলাদেশী পণ্যের অবাধ বাজার সুবিধা (জিএসপি) পুনরায় ফিরে পাবার জন্য বাংলাদেশকে আবার সচেষ্ট হতে হচ্ছে। অযৌক্তিকভাবে এই সুবিধাবঞ্চিত করার মাধ্যমে রফতানি ক্ষেত্রে তেমন প্রতিবন্ধকতা না হলেও ভাবমূর্তির প্রশ্নটি গুরুত্ববহ। শুধু রফতানির কথা বলা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিএসপি বাংলাদেশের জন্য তেমন কিছু নয়। তবে এর সঙ্গে বাংলাদেশের ‘ব্র্যান্ডিং’ জড়িত। এখানে তৈরি পোশাকের বাইরে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদিত হয়। সেগুলোতে জিএসপি সুবিধা পেলে বাংলাদেশের অনেক শুল্কমুক্ত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাওয়া যেতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ভবিষ্যত রফতানি, বিদেশী বিনিয়োগে জিএসপি গুরুত্বপূর্ণ বৈকি। তাই জিএসপি ফিরে পেতে বাংলাদেশের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত। জিএসপি নিয়ে অতীতে কি হয়েছে সে প্রসঙ্গ না টেনে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোই শ্রেয়। জিএসপি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ভবিষ্যতে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাকের বাইরে রফতানি বাড়াতে প্রভূত সহায়ক হতে পারে। কাজেই এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি টিকফাতেও বাংলাদেশের এ প্রসঙ্গ তোলা উচিত। তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকা- ও রানা প্লাজা ধসের পর ২০১৩ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশী পণ্যের অবাধ বাজার সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। শুল্কমুক্ত বিশেষ এ সুবিধা পাঁচ হাজার পণ্যের ক্ষেত্রে ছিল। যদিও তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে এ সুবিধার আওতায় বাংলদেশ পাঁচ শ’ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করত। এই সুবিধা পোশাক শিল্পের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্র কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নতি এবং শ্রমিকদের সংগঠন করার সুযোগসহ ১৬টি শর্ত পূরণ হলে জিএসপি সুবিধা ফেরত দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ সরকার সব শর্ত পূরণ করে। কিন্তু স্থগিতের পর সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময়েও জিএসপি সুবিধা ফিরে পায়নি বাংলাদেশ। খেদোক্তি প্রকাশ করে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ‘কেয়ামত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা ফেরত দেবে না। আমরা আর জিএসপি সুবিধা চাই না। কাজেই এ নিয়ে আমরা কোন আবেদন করব না, আমাদের মাথা ব্যথাও নেই।’ এছাড়া বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে। তা যখন হবে, তখন এমনিতেই জিএসপি সুবিধা মিলবে না। নয়া বাণিজ্যমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন, জিএসপি বাংলাদেশের ইমেজের সঙ্গে জড়িত। জিএসপি স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশ ইমেজ সঙ্কটে আছে। ভবিষ্যতে বিষয়টির সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন। এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি ফিরিয়ে দিলে দেবে, না দিলে না দেবে। যে ১৬টি শর্ত দিয়েছিল তা পূরণ করা হয়েছে। যদিও এই সুবিধা বাংলাদেশ খুব কম পেত। কাজেই এটা নিয়ে তাদের এত শর্ত দেয়া অযৌক্তিক। জিএসপি সুবিধা খুবই সামান্য। কিন্তু বাতিল হওয়াটা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। জিএসপি বাতিলের পেছনে কোন পরাশক্তি নয়, ঘরের শত্রু বিভীষণের হাত রয়েছে। এ দেশেরই অপশক্তি ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। স্মরণ করতে পারি, জিএসপি সুবিধা বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে বিএনপি নেত্রী ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকায় নিবন্ধ লিখেছিলেন। যা ছিল দুঃখজনক ও গর্হিত কাজ। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে ইইউর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন তো উঠতেই পারে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যেখানে ভারত ও তুরস্কের মতো উন্নয়নশীল দেশও পুনর্বিবেচনার আওতায় জিএসপি সুবিধা ফিরে পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। অথচ যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে সুবিধা ফিরিয়ে দিচ্ছে না। বাংলাদেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র এই সুবিধা ফেরত দিক। সেই সঙ্গে ১৬ শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশ কী কী করেছে তা দেখা উচিত এবং তাদের যদি কোন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ থাকে সেগুলো পূরণ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই মনোযোগ দেবে। বাংলাদেশ এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবে। আর যুক্তরাষ্ট্রও যৌক্তিক পথে ফিরে আসবে, এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক।