২২ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউএনডিপি’র সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা সঠিক ব্যবহার হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

ইউএনডিপি’র সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা সঠিক ব্যবহার হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইউএনডিপি’র প্রতিশ্রুত সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যবহারে নতুন কোন শর্ত চান না অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপে অগ্রগতির সকল খাতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হবে বাংলাদেশ। এছাড়া আগামীতে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো।

মঙ্গলবার দুপুরে শের-এ-বাংলা নগরের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোসহ প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাত করেন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। ওই সময় আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ। এছাড়া চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষাসহ প্রায় সকল খাতে বড় অগ্রগতি অর্জন রয়েছে। গত ১০ বছর পূর্বের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে অনেক তফাৎ।

বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্যও উত্তম জায়গা। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশকিছু কর্মসূচি রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে ওয়ানস্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা এবং ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া। এছাড় বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজদেশে মুনাফা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কয়লা সহজলভ্য করতে ব্যাপক কর্মসূচি রয়েছে সরকারের।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারের এসব পদক্ষেপে বাংলাদেশ দিনে দিনে শুধু সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অগ্রগতির সকল খাতে বাংলাদেশ এখন দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ইউএনডিপির ২০১৭-২০২০ সালের মধ্যে প্রতিশ্রুত ১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা সরকার পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের অগ্রগতির পথে কোন শর্ত আরোপ করে উন্নয়নকে যেন বাধাগ্রস্ত না করে। বাংলাদেশকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে জাতিসংঘ সহযোগী হিসাবে কাজ করবে বলেও অর্থমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে স্বীকৃত পাবে।

এদিকে, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নারীদের কর্মস্থান ও নারী ক্ষমতায়নের প্রশংসা করেন। তিনি আশা রেখে বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। ইউএনডিপি’র নতুন রোডম্যাপ ২০২১-২০২৫ মেয়াদী তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে জাতিসংঘ সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলে মিয়া সেপ্পো জানান।

প্রসঙ্গত, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর কী পরিমাণ টাকা দেয়া হয় সরকারের কাছে তার কোনো তথ্য ছিল না। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির সহযোগিতায় গত অর্থ বছরে প্রথমবারের মতো জলবায়ুতে অর্থায়ন নিয়ে একটি বই তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত চার বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলো যথাক্রমে কৃষি, দুর্যোগ, পানি, স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ইউএনডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে অর্থায়ন করতে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার করে ছাড় করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে উন্নত বিশ্বের। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে জাতিসংঘের কাছে জমা দেয়া ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনসে (আইএনডিসি) বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রতিবছর ৩৮৫ কোটি ডলার করে প্রয়োজন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ আসার কথা উন্নত বিশ্ব থেকে। কিন্তু সেই টাকা ছাড় করছে না উন্নত বিশ্ব। এক্ষেত্রে ইউএনডিপির আর জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।