১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক কেন ব্যর্থ হলো

হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র কিম জং উনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। কোন রকম চুক্তি সম্পাদন ছাড়াই দুই নেতা ভিয়েতনাম থেকে শূন্য হাতেই ফিরে গেছেন নিজ নিজ দেশে।

এই শীর্ষ বৈঠক নিয়ে প্রত্যাশাগুলো ছিল বিশাল। এমন ধরে নেয়া হয়েছিল যে ট্রাম্প ও উন হ্যানয় বৈঠকে কোরিয়া যুদ্ধ অবসানের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন, একে অপরের রাজধানীতে লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করবেন এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কিছু কিছু অবরোধ শিথিল করার বিনিময়ে সে দেশটির প্রধান পরমাণু স্থাপনা ধ্বংসের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছবেন। এমন একটা অনুভূতিও সৃষ্টি হয়েছিল যে এই বৈঠকে ইতিহাস সৃষ্টি হবে। কিন্তু তা তো হলোই না, উল্টো ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শীর্ষ বৈঠক।

নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা এগিয়ে আনা এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প যে কারণে আলোচনা ব্যর্থ হলো তা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কিম জং উন পরমাণু বোমা তৈরির উপাদান প্লুটোনিয়াম, ট্রাইটিয়াম ও অতিমাত্রায় তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম উৎপাদনকারী শুধুমাত্র তাদের ইয়ং বাইয়ন পরমাণু কমপ্লেক্স ভেঙ্গে ফেলার শর্ত হিসেবে সকল আন্তর্জাতিক অবরোধ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন আলোচকরা তাতে রাজি ছিল না। তাদের দাবি ছিল যে পিয়ংইয়ংকে তার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে হবে এবং ইয়ংবাইয়ন ছাড়াও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অন্যান্য সন্দেহজনক কেন্দ্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু বোমা ইত্যাদি ধ্বংস করে ফেলতে হবে। মিডিয়ার সামনে স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য বর্জিত ¤্র্িরয়মাণ চেহারায় আবির্ভূত ট্রাম্প বলেন, কখনও কখনও আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। এবারের ব্যাপারটিও ¯্রফে তেমনই।

ট্রাম্প জানান, মূলত অবরোধ প্রশ্নেই আলোচনা ভেঙ্গে গেছে। ওরা চেয়েছে সমস্ত অবরোধই তুলে নিতে হবে। ওরা পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করতে চেয়েছে। তবে আমরা যে সব কেন্দ্রের ধ্বংস চেয়েছি সেগুলোর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ধ্বংস করতে রাজি হয়েছে।

ওদিকে উত্তর কোরিয়া আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। হ্যানয়ে আকস্মিকভাবে আপ্লুত মধ্যরাতের এক সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো ট্রাম্পের বক্তব্য খ-ন করে বলেন যে, ইয়ংবাইয়ন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার বিনিময়ে তার দেশ পূর্ণ অবরোধ নয় বরং শুধু আংশিক অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটা সুযোগ হেলায় হারিয়েছে যা হয়ত আর আসবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও আলোচনা চায়ও সে ক্ষেত্রেও উত্তর কোরিয়ার অবস্থানের কোন পরিবর্তন হবে না।

ট্রাম্প অবশ্য সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে স্ট্যাটাস কো অব্যাহত থাকবে। উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত রাখা চালিয়ে যাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে না। ট্রাম্প অবশ্য উত্তর কোরীয় নেতা সম্পর্কে সমর্থনসূচক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমরা সারাদিন কিম জন উনের সঙ্গে কাটিয়েছি। তিনি এক অদ্ভুত মানুষ, অদ্ভুত চরিত্র এবং আমাদের দুজনের সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী। তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষ ইয়ংবাইয়নের বাইরে গোপন পারমাণবিক স্থাপনা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কথা বলেছিল এবং দাবি করেছিল যে সেগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে রাখা হোক। তিনি বলেন, দেশটিকে আমরা খুব ভালমতো জানি, দেশটার প্রতিটি ইঞ্চি সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা ধ্বংস করা ফেলাটাই যথেষ্ট নয়।

হ্যানয় শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়া ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে স্পষ্টতই এক বড় ধরনের বিপর্যয়। এই বিপর্যয়ের অনেক কারণ আছে। এ ব্যাপারে দু’পক্ষেরই বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি ও ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল। ট্রাম্পের দিক থেকে এই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার কারণ তিনি বুঝতে চান না বা পারেন না কিম জং উন আসলে কি চান। উত্তর কোরীয়রা তাদের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ হাতছাড়া করতে চায় না এবং সে কারণে তারা শীর্ষ বৈঠক স্থগিত রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে এই মর্মে উপদেষ্টাদের হুঁশিয়ারি ট্রাম্প গায়েও মাখাননি। তিনি স্থির নিশ্চিত ছিলেন যে আলোচনার ব্যাপারে তার নিজের দক্ষতা, ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ও কিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের বদৌলতে তিনি এই বৈঠকে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। কিন্তু তার এই আত্মবিশ্বাস ছিল ভ্রান্ত। তাঁর এই সর্বশেষ ব্যর্থতার ফলে ভবিষ্যত আলোচনা আরও কঠিন ও চ্যালেঞ্জপুর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট