১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভেনিজুয়েলা ॥ সামনে পথ নেই

ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুয়াইদো তাঁর বিদেশ যাত্রার ওপর আদালতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে লাতিন আমেকিরার দেশগুলো সফর করে এসেছেন। দেশে ফিরেই তিনি প্রেসিডেন্ট মাদুরো সরকারকে উৎখাতের আন্দোলন আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি এই সরকারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ তীব্রতর করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি দাবি জানিয়েছিল।

এদিকে নিকোলাস মাদুরো কারচুপির নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্টের পদ বজ্রমুষ্ঠিতে আঁকড়ে আছেন। গুয়াইদোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টির বেশি দেশ হয়ত স্বীকৃতি দেবে। কিন্তু সরকার নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটা নির্ভর করছে উর্দিপরা ব্যক্তিদের ওপর যাদের হাতে অস্ত্র আছে এবং মাদুরোর প্রতি আনুগত্যও আছে। গুয়াইদোর লাতিন আমেরিকা সফরটি ছিল এক ধরনের হিসাব কষে জুমার চাল দেয়ার মতো যার উদ্দেশ্য সশস্ত্র বাহিনীকে বিরোধী শিবিরের বলয়ের মধ্যে টেনে আনা। কিছু কিছু অফিসার। সৈন্য ইতোমধ্যে সরকার পক্ষ ত্যাগ করে গুয়াইদোর পক্ষে যোগ দিয়েছে। সুতরাং ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। সাদুরো মমতা আঁকড়ে আছেন।

গুয়াইদোর তার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইছেন। মাদুরোর পক্ষে আছে সেনাবাহিনী। আর গুয়াইদোর পক্ষে আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ বাইরের বিশাল শক্তির সমর্থন।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরীক্ষিত তেলের আঁধার ভেনিজুয়েলা। অথচ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ লোকের বাস এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে। দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়ে ইতোমধ্যে জনগোষ্ঠীর এক দশমাংশ লোক প্রায় ৩০ লাখ স্বদেশ ছেড়ে অন্যত্র বিশেষত লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। আমেরিকা গুয়াইদোর পিছনে থাকলেও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করছে না। ভেনিজুয়েলার সঙ্কট নিয়ে লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশও উদ্বিগ্ন। লিমা গ্রুপ নামে পরিচিত ১৪টি দেশ ২০১৭ সালের আগস্টে পেরুর রাজধানী লিমার বৈঠকে মিলিত হয় এই সঙ্কট সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করে। তারা ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। তবে সেটা শান্তিপূর্ণ পন্থায় যেমন সাদুশে সরকারের ওপর অর্থনৈতিক আরোপের মাধ্যমে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে যাতে করে সেনাবাহিনী এই সরকারকে পরিত্যাগ করে। এই দেশগুলো সঙ্কটের সামরিক সমাধানের ঘোরতর বিরোধী। ভেনিজুয়েলার প্রতিবেশী ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার কেউই সামরিক হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে রাজি নয়। তারা মনে করে এর মধ্যে নিদারুণ ঝুঁকি আছে।

বুভুক্ষু জনগোষ্ঠীর কাছে মাদুরো হয়ত দারুণ অজনপ্রিয়। তবে শুধু দুর্নীতিবাজ এসটাবলিশমেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর নয় উপরন্তু সরকারের অর্থপুষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের আনুগত্য রয়েছে তাঁর প্রতি। বাইরে থেকে হামলা হলে ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ সদস্যের সশস্ত্র মিলিশিয়া সেই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ দেবে। মার্কিন নেতৃত্বে হামলা হলে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ সমস্যার কারণে তা নিহায়তই একটা বিপর্যয়ে পরিণত হবে। তাছাড়া মাদুরোর প্রতি রাশিয়া চীন ও কিউবারও সমর্থন আছে। সেই সমর্থনও মাদুরোর অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। সে কারণেও লাতিন আমেরিকার নেতারা মাদুরোর সঙ্গে সংলাপে বসতে ক্লান্তিবোধ করছেন।

কাজেই অচলাবস্থা চলছে ভেনিজুয়েলায়। বিরোধী দল বিক্ষোভ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে সন্দেহ নেই। তথাপি সময় ওদের পক্ষে কিনা এখনও পরিষ্কার নয়। মার্কিন অবরোধের কারণে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং সেজন্য সরকারের রাজস্ব হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন আরও নাজুক হবে। বছরের শেষ দিকে তাঁরা আরও দুর্বিষহ যন্ত্রণা ভোগ করবে। তবে বিক্ষোভে আন্দোলন অধিকতর বেগবান ও সহিংস হয়ে উঠলে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধবে। ধীরে ধীরে রক্তপাত ও চরম অরাজকতার দিকে এগিয়ে যাবে ব্যর্থ রাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায়। আপাতত দেশটির জনগণের সামনে কোন পথ নেই।

চলমান ডেস্ক

সূত্র টাইম