১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীরা

অনলাইন রিপোর্টার ॥ প্রায় আট মাস পর আবার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। বাসচাপায় একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর গতকাল থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। বুধবার সকাল থেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন সড়কে গাড়ির কাগজপত্রও চেক করতে দেখা যায় তাদের।

মঙ্গলবার সকালে নদ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার। এ সময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তার সহপাঠীরা। দিনভর চলে বিক্ষোভ। সন্ধ্যায় আন্দোলন স্থগিত করলেও বুধবার সকাল থেকে আবার রাস্তায় নামার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে শিক্ষার্থীদের গাড়ির কাগজপত্র চেক করতে দেখা যায়।

নিউমার্কেট থেকে সিটি কলেজ, এলিফেন্ট রোড থেকে সিটি কলেজসহ বিভিন্ন সড়কে একটি জরুরি লেন রেখে বাকি অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আশপাশের সরু সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রিকশা ও ছোট পরিবহনের শৃঙ্খলায় কাজ করছে শিক্ষার্থীরা।

সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। আন্দোলনে অংশ নিয়েছে ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমন্ডি আইডিয়াল স্কুলসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের আগস্টের শুরুতে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পর নজিরবিহীন আন্দোলন শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক সপ্তাহের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা দেশ।

এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে গতকালের দুর্ঘটনার পর সড়কে শৃঙ্খলা না ফেরার বিষয়টি আবার সামনে চলে আসে। শিক্ষার্থীরা বলছে, গত আগস্টের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তাদের এই আন্দোলন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিইউপি শিক্ষার্থী মায়েশা নূর সাংবাদিকদের কাছে আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন গত বছরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধাবাহিকতা। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আমাদের এই আন্দোলনে গত বছরের মতো কোনো হামলা ও রক্তাক্ত চেহারা দেখতে চাই না। আমরা পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপত্তা চাই। আমাদের আন্দোলনের সময় আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি আট দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি

১. পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং প্রতিমাসে বাসচালকের লাইসেন্সসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে।

২. আটক হওয়া চালক ও সম্পৃক্ত সকলকে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৩. আজ থেকেই ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুততম সময়ে অপসারণ করতে হবে।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সকল স্থানে আন্ডার পাস, স্পিড ব্রেকার ও ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

৫. চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়কে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৬. দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭. প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রী ছাউনী করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮. ছাত্রদের হাফপাস অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।