২৪ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্যাসের দাম বাড়লে বস্ত্রখাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে : বিজিএমইএ

গ্যাসের দাম বাড়লে বস্ত্রখাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে : বিজিএমইএ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পোশাক শিল্প ও বস্ত্রখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রস্তাবনা অনুযায়ী আগামীতে ১৩২ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে।

এক্ষেত্রে আমদানিকৃত এলএনজি ও তিতাস গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করে যৌক্তিক পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে দীর্ঘদিনে গ্যাসের সংযোগ না পাওয়া, অনিয়মিত সরবরাহ এবং উচ্চ ব্যাংক সুদের কারণে বস্ত্রখাতের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় এ মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পোশাকখাত বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে কাওরান বাজারের বিজিএমইএ ভবনে রফতানিমুখী বস্ত্রখাতের তিন শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমইএ’র যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ’র সভাপতির বক্তব্য লিখিত আকারে পড়া হয়। এছাড়া বিকেএমইএ’র উর্ধতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যের বাইরে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিজিএমইএ সভাপতিসহ ব্যবসায়ীরা নেতারা। সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গত কয়েক বছরে দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে বস্ত্রখাতের উদ্যোক্তাদের গলাটিপে মেরে ফেলা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা আর রক্ত দিতে রাজি নয়।

একজন উদ্যোক্তা একদিনে জন্ম নেয় না। দীর্ঘসময় ও প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে দেশে একজন উদ্যোক্তা তৈরি হয়। অথচ গ্যাস-বিদ্যুদের দাম বাড়তে বাড়তে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ব্যবসায়ীরা আর নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আসার সাহস করছে না। তাহলে দেশের কর্মসংস্থানের কি হবে? তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে, পরিবহনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সকলখাতে ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে সব ধরনের শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চলেছে। এটি জাতি হিসেবে বিশাল অর্জন। এলএনজি আমদানিকে সামনে রেখে বিইআরসির কাছে বিতরন কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়ায় সম্প্রতি গনশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। গনশুনানীতে শিল্পে গ্যাসের মূল্য বর্তমানে প্রতি ঘনফুট ৭ দশমিক ৭৬ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৮ দশমিক ০৪ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এই প্রস্তাবনা মেনে নিলে শিল্পখাতে গ্যাসের মূল্য ১৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।

এতে করে পোশাক শিল্পে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৫ ভাগ। কারন, প্রতিটি পোশাক কারখানা ওয়াশিং ও ফিনিশিং এর সাথে সম্পৃক্ত। আর ওয়াশিং কারখানাগুলোতে বয়লারের ব্যবহার হয়।

বিজিএমইএসহ অন্য সংগঠনগুলোও মনে করছে, প্রস্তাবনা শিল্পের প্রবৃদ্ধিও বিকাশের সাথে সম্পূর্নরূপে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, বস্ত্র ও তৈরি পোশাকখাতের সমান্তরাল প্রবৃদ্ধির সাথে এ দু’টি খাতেরই সমৃদ্ধি বিকাশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, বস্ত্র ও পোশাকখাতের শীর্ষ ৩ সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ একই পরিবারের সদস্য হিসেবে উপলব্ধি করছে। তিন সংগঠনই মনে করে, শিল্পে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করবে। সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ঋণের সুদের হার গত ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে আমানতের সর্বোচ্ছ সুদের হার ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদের হার ৯ ভাগ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত উদ্যোক্তারা বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না। কারণ এখনও উচ্চহারে সুদ আদায় করছে ব্যাংকগুলো। আগে অফসোর লোন নেয়া যেতো। এখন সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। বিগত ৫ বছরে প্রায় ১২০০ ছোট-মাঝারী কারখানা বন্ধ হয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকার শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন। অনেক কারখানা ইতিমধ্যে নতুন গ্যাস লাইনের অনুমোদন পেলেও এখনও গ্যাস পেতে শুরু করেন নি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মোটেও কাঙ্খিত নয়। এতে করে পোশাক শিল্পের সার্বিক ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে যা এ খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে মোকাবেলা করা কোনমতেই সম্ভবপর নয়। একইভাবে বস্ত্রশিল্পের উদ্যোক্তারাও গভীর সঙ্কটে পতিত হবে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিতাস গ্যাস কোম্পানি তার শেয়ারহোল্ডারদেরকে ৩৫ শতাংশ মুনাফা দিচ্ছে। অথচ পোশাকখাতের ব্যবসায়ীরা ২ শতাংশও ব্যবসা করতে পারছে না। তাহলে তিতাসের কাছে প্রশ্ন, সরকারী প্রতিষ্ঠান হয়েও তারা কিভাবে এতো মুনাফা দিতে পারে। যেখানে বলা হয় যে, ভর্তূকি নিয়ে তিতাস চলছে। পোশাকখাতের উদ্যোক্তারা মনে করে, বিইআরসি নির্ধারিত ভর্তুকি সরকার না দিলে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে অলস পড়ে থাকা অর্থ থেকে ঋণ নিয়ে বিতরন কোম্পানি’কে চালানো যেতে পারে।

কিন্তু শিল্পকে ধ্বংস করে নয়। শিল্প থাকলে কর্মসংস্থান হবে, দেশের অর্থনীতি বেগবান হবে।