২৫ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাণীনগরে এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, শ্বাশুড়ী আটক

রাণীনগরে এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, শ্বাশুড়ী আটক

সংবাদদাতা, রাণীনগর নওগাঁ ॥ নওগাঁর রাণীনগরে যৌতুকের দাবিতে মোছা: সাগরীকা বেগম নামে এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে হত্যার করেছে স্বামীর বাড়ির লোকজন বলে অভিযোগ স্বজনদের। মঙ্গলবারে রাতে উপজেলার মিরাট উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও দেবর পলাতক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধুর শ্বাশুড়ীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে রাণীনগর থানা পুলিশ সাগরীকার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে ও ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় ও গৃহবধুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার মিরাট উত্তরপাড়া গ্রামের শিবলু সরদারের সাথে আত্রাই উপজেলার বান্ধায়ঘাড়া গ্রামের মৃত ওসিম উদ্দিনের মেয়ে মোছা: সাগরীকার ৪-৫ বছর আগে বিয়ে হয়। সাগরীকার দেড় দুই বছরের একটি ছেলে সন্তনও আছে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে তার স্বামী, শ্বাশুড়ী ও দেবর যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করে। এ ঘটনায় ওই গ্রামে ৪-৫ বার শালিশও হয়েছে।

গত বুধবার সাগরীকার স্বামী ঢাকায় থেকে বাড়ি আসে। মঙ্গলবার রাতে তার স্বামী সাগরীকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক সাজিয়ে তার বাবার বাড়ির লোকজনদের খবর দেন। তার মা, ভাই ও বোনের এসে দেখে গলায় ফাঁস দেওয়াতো দুরোর কথা তাদের বোন মেঝেতে শুয়ে আছে। সাগরীকার স্বজনদের অভিযোগ যৌতুকের দাবিতে সাগরীকাকে নির্যাতন করে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে মেরে ফেলেছে মেঝেতে রেখেছে।

বুধবার সকালে রাণীনগর থানা পুলিশ সাগরীকার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধুর শ্বাশুড়ীকে আটক করেছে। গৃহবধু সাগরীকার ভাই মো: বাবলু রহমান , মা ও বোনেরা জানান, যৌতুকের দাবিতে সাগরীকাকে তার স্বামী, শ্বশুড়ী ও দেবর মিলে নির্যাতন করে মেরে ফেলে এখন আত্মহত্যা নাটক সাজাচ্ছে। আমাদের সাগরীকার স্বামী বলে সাগরীকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

কিন্তু আমারা এসে সাগরীকারে গলায় ফাঁস দেওয়া দেখতে পাইনি তার মরদেহ ঘরের মেঝেতে ছিল। তারা সবাই মিলে সাগরীকাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ট বিচার চাই।

রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাগরীকার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি ও ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

নির্বাচিত সংবাদ