২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পণ্য বিপণনে ই-কমার্স

দোকানে গিয়ে জিনিসপত্র নেড়ে চেড়ে দেখে, দাম-দস্তুর করে কেনাকাটা করা বাঙালী এখন অনলাইনে কেনাকাটায় আগ্রহী হয়ে ওঠার পাশাপাশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও প্রসার ঘটছে অনলাইনে কেনাকাটার। ইন্টারনেট সহজ করে দিচ্ছে ক্রেতার জীবনাচরণ। যানজট ঠেলে এবং ভিড় ধাক্কাধাক্কি পেরিয়ে কেনাকাটা করতে যাওয়ার ঝক্কি থেকে এই পদ্ধতি রেহাই দিচ্ছে বৈকি। চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ে নিজের অর্ডার করা পণ্য ‘ডেলিভারি’ পেয়ে ক্রেতারাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই ব্যবস্থায়। হেন জিনিস নেই যা পাওয়া যায় না। পোশাক, দৃষ্টিনন্দন গহনা, ব্যাগ, প্রসাধন সামগ্রী, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ডাল, চালসহ শাকসবজির পাশাপাশি জায়গা জমি, ফ্ল্যাট, আসবাবপত্র, মোবাইল, বইপত্র, কম্পিউটার, ইলেক্ট্রনিক পণ্য, নতুন-পুরনো সব ধরনের পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে অনলাইনে। ক্রেতারা ঘরে বসেই পছন্দের এই কেনাকাটায় স্বাভাবিক কারণে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ক্রেতাকে এখন আর যানজটে আটকে থেকে মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে ক্লান্ত ও গরমে ঘেমে অস্থির হতে হয় না। তেমনি প্রবল বর্ষণে ভিজে একশা হয়ে কাদামাটি মেখে পণ্য হাতে ঘরে ফিরতে হচ্ছে না। পছন্দের পণ্যে ক্লিক করলেই পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতার ঘরে যথাসময়ে। জায়গা জমি থেকে শুরু করে পোশাকÑ সবই এই বাজারে পাওয়া যাওয়ার কারণে ক্রেতারাও খুশি। যানজট থেকে নিষ্কৃতি, সময় বাঁচানো ও নিরাপত্তাজনিত কারণে দিন দিন ক্রেতারা অনলাইন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে বিভিন্ন মার্কেট থেকে আলাদা আলাদা পণ্য কেনার ঝামেলা থেকে রেহাই মেলে। একই জায়গায় সব ধরনের পণ্য পাওয়ায় যাচাই-বাছাই করার সুযোগও থাকছে। এ জন্য থাকতে হবে ইন্টারনেট সংযোগ। স্মার্টফোনের যুগে এই সংযোগ আরও সহজ হয়েছে। ডিজিটাল যুগে কষ্ট কমিয়ে দিচ্ছে অনলাইন শপিং সাইটগুলো। পিছিয়ে নেই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। অনলাইন শপিং শুনলেই অনেকেই মনে করেন, টাকা দিতে হবে ডেভিট বা ক্রেডিট কার্ডে। সেই সমস্যাও এখন বলতে গেলে নেই। বেশিরভাগ অনলাইন শপই ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সার্ভিস দিয়ে থাকে। ফলে করতে হচ্ছে না খাটুনি। বেঁচে যাচ্ছে সময়। এই আনন্দ এনে দিয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। কেনাকাটার এই নয়া সংস্কৃতি নগর জীবনে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দিয়েছে। তবে এর প্রতি আগ্রহ বেশি তরুণ প্রজন্মের।

২০০৯ সালের নবেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইন লেনদেনকে বৈধতা দেয়। সেই সময় থেকে এদেশে সূচনা হয় ই-কমার্সের। আর এখন দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতাধিক। অপরদিকে ফেসবুকনির্ভর ই-কমার্স উদ্যোক্তার সংখ্যা দশ হাজারের বেশি। বর্তমানে পাঁচ কোটি মধ্যবিত্ত যে কোন পণ্য ক্রয় করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী পণ্য ছড়িয়ে দিতে ই-কমার্সের কোন বিকল্প নেই। তবে ই-কমার্স ব্যবসার নীতিমালা জরুরী হয়ে পড়েছে। এর ফলে ক্রেতারা অনলাইন শপিংয়ে ভরসা পাবেন।