১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্ধ হোক হাহাকার

  • মোঃ আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

ইংরেজীতে প্রবীণদের- ঝবহরড়ৎ ঈরঃরুবহ বলে, ০১ অক্টোবর ‘বিশ্ব প্রবীণ দিবস’ পালিত হলেও আমাদের প্রবীণগণ ¯্রফে ‘বুড়া-বুড়ি’! নচিকেতা চক্রবর্তীর কটাক্ষ:

‘...স্বামী-স্ত্রী আর এ্যালসেশিয়ান-

জায়গা বড়ই কম

আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।’

২০৫০এ বাংলাদেশে ষাট বছরের বেশি বয়সী মানুষ হবে চার কোটি। এদের অনেকেই মহিলা; জননীÑ ‘যার পদতলে স্বর্গোদ্যান।’ কিন্তু তারাই পারিবারিক পরিবেশে নিগৃহীত, অবহেলিত, নির্যাতিত: ‘সন্তান পরিত্যক্তা’! অথচ সন্তানের জন্য মায়ের কষ্টের তুলনা হয় না-

‘আধ পিঠ খাইলো মায়ের গুয়ে আর মুতে

আধ পিঠ খাইলো দারুণ মাঘ মাস্যা শীতে।

বিদেশ বিবাসে যদি পুত্র মারা যায়

দেশে না জানিবার আগে জানে কেবল মায়’

(মৈমনসিংহ গীতিকা: ‘মহুয়া’)।

এখন পিতামাতা অনেক ভাবেই উপেক্ষিতÑ যেন ‘কঠিন ঝামেলা’। পরিবারে কারও কারও স্বার্থ-ভাবনায়, অসুস্থ-অক্ষম জননীদের অবস্থা সবচেয়ে বিপন্ন। অথচ তারাই জীবন-যৌবনের সর্বস্ব সন্তানের জন্য লুটিয়ে দিয়েও নিদানেরকালে বড়ই একা, অপাঙক্তেয়।

প্রণীত হয়েছে ‘পিতা মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩’। আইনে, ‘ভরণ-পোষণ অর্থ খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান’।

আইনের ০৩ নম্বর ধারার সারসংক্ষেপ:

(১) সন্তানকে পিতামাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে।

(২) একাধিক সন্তানের ক্ষেত্রে, সন্তানগণ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পিতামাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করবে।

(৩) পিতামাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকল্পে সন্তানের একইস্থানে, একসঙ্গে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।

‘পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩’এর ধারা-উপধারা সন্তান কর্তৃক লঙ্ঘন, অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য অনুর্ধ এক লাখ টাকা অর্থদ-ে দ-িত, অনাদায়ে তিন মাস কারাদ-ে দ-িত হবে।

পিতামাতার ভরণ-পোষণে বাধাদান/অসহযোগিতার জন্য সন্তানের স্ত্রী/স্বামী/নিকট আত্মীয়ও উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তাকারী হিসেবে গণ্য এবং আইনে বর্ণিত দ-ে দ-িত হবে।

তবুও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন না হবার কারণ, অপরাধটি আমলযোগ্য (পড়মহরুধনষব), জামিনযোগ্য (নধরষধনষব) ও আপোসযোগ্য (পড়সঢ়ড়ঁহফধনষব)। কাজেই প্রত্যাশা, আইনের কঠোরতম প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সন্তান পরিত্যক্তা জননী’র হাহাকার বন্ধ হোক।

কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ, গাজীপুর থেকে