২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত ৩শ’ ছাড়িয়েছে

  • মোজাম্বিক ও জিম্বাবুইয়ে সাইক্লোনের আঘাত

মোজাম্বিক ও জিম্বাবুইয়ে সাইক্লোনের আঘাতে মৃতের সংখ্যা বুধবার পর্যন্ত ৩শ’ ছাড়িয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীরা দুর্গতদের সহায়তার জন্য রাতদিন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর এএফপির।

মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফিলিপ নিউসি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ২শ’র বেশি মৃতের খবর জানতে পেরেছি। এছাড়াও এতে এখনও প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লোক মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।’

জিম্বাবুয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঝড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১শ’ লোক মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা তিন গুণ বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় আঘাত হেনেছে। এতে মালাওইতেও মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। সেখানে প্রায় ১০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৮০ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। গ্রীষ্মম-লীয় ঝড় সাইক্লোন ইদাইয়ের প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে মোজাম্বিকের মধ্যাঞ্চলে বন্যায় বহু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জরুরী উদ্ধারকারী দল নৌযান ও হেলিকপ্টারে করে মানুষকে বাড়ির ছাদ ও গাছের ডাল থেকে উদ্ধার করছে। মোজাম্বিক ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিমানবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েছে। এনজিও সংস্থা রেসকিউ সাউথ আফ্রিকা জানিয়েছে, তিনটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে শুক্রবার রাত থেকে তারা ৩৪ জনকে উদ্ধার করেছে। রেসকিউ এসএ’র আবরিয়া সেনেকাল বলেন, ‘আটকাপড়া মানুষকে উদ্ধারে এটাই একমাত্র উপায়।’

তিনি জানান, এনজিওটি আরও হেলিকপ্টার ভাড়া করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইয়ান স্কের বলেন, হেলিকপ্টার দলের সদস্যদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি রেসকিউ এসএ’র প্রধান।

তিনি আরও বলেন, ‘কখনও আমাদের পাঁচটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাত্র দুটি মাটিতে থাকে। কখনও কখনও আমরা আকাশ থেকে দুর্গত এলাকায় খাবারের প্যাকেট নিক্ষেপ করি এবং আরও বিপদেপড়া মানুষকে উদ্ধার করতে যাই।’ ইয়ান বলেন, ‘আমরা শুধু সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে কিছু মানুষকে বাঁচাতে পারব, অন্যরা মারা যাবে।’ নামাতান্ডায় ২৭ বছর বয়সী জোসে বাতিও, তার স্ত্রী ও সন্তানরা ছাদে উঠে নিজেদের প্রাণ রক্ষা করেছেন। এটি বেইরা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। তিনি বলেন, তারা প্রাণ রক্ষা পেলেও তাদের অনেক প্রতিবেশী বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছেন। জোসে আরও বলেন, ‘সুনামির মতো পানি আঘাত হেনে প্রায় সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা ছাদে বন্দী হয়ে পড়েছিলাম।’ তাদের নৌযানে করে উদ্ধার করা হয়। ঝড়ের আঘাতের পরপরই মোজাম্বিকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ও প্রধান বন্দর বেইরার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রেডক্রস জানিয়েছে, সাইক্লোনে নগরীটির ৯০ শতাংশ ক্ষতি বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে ৫ লাখ লোকের বাস। বিধ্বস্ত শহরটিতে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নিউসি বলেন, এই ঝড়ের আঘাতে ২০২ জন নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে আছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার জরুরী অবস্থা ও তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করছে। নিউসি বলেন, ‘আমরা মারাত্মক সঙ্কটের মধ্যে রয়েছি।’ তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আসন্ন দিনগুলোতে প্রায় ৮ মিটার দীর্ঘ ঢেউ আঘাত হানতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ