২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘এখনকার নাটকে পরিবার বিলুপ্ত’ ॥ দিলারা জামান

বর্তমান যাপিতজীবন সম্পর্কে বলুন?

মেয়ে আমেরিকা থেকে এসেছিল তাই এক মাস কোন কাজ রাখিনি। মেয়ের সঙ্গেই ঘোরাফেরা করে সময় কাটিয়েছি। এক মাস পর ফের ১৯ মার্চ গোলাম সোহরাব দোদুলের একটি খণ্ড নাটকের শূটিং করলাম এবং মা দিবসের তিনটি কাজ করব। আগামীকাল (২২ মার্চ) শ্রাবণী ফেরদৌসর নির্দেশনায় ‘তিনি ছিলেন একজনই’ নাটকের শূটিং করব। এ ছাড়াও খুব শীঘ্রই ঈদের কাজ শুরু করব। একটা সময় ব্যস্ত জীবন ছিল। এখন তো আর সেভাবে নিয়মিত চাইলেও কাজ করতে পারব না। বয়স হয়েছে। তার পরও নিয়মিত কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে ঈদের সময় কাজের চাপ একটু বেশি হয়। কাজের চাপ বেশি হলেও মানের দিকে নজর থাকে। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর একাই দিনযাপন করছি। তবে মেয়েরা আমাকে বেশ কয়েকবার তাদের সঙ্গে নিতে চেয়েছে। কিন্তু আমি যাইনি। আমার দেশ, আমার শিকড়কে রেখে আমি অন্য কোথাও থাকতে পারিনা। দেশের ভালবাসায় এখানেই পড়ে আছি। বাকিটা দিন দেশেই কাটিয়ে দিতে চাই।

চলচ্চিত্রের খবর?

সম্প্রতি অরুণ চৌধুরীর ‘মায়াবতী’, গাজী রাকায়েতের ‘গোর’ ও সরকারী অনুদানের ‘ওমর ফারুকের মা’ শীর্ষক চলচ্চিত্রগুলোর শূটিং শেষ করেছি। ‘গোর’ ছবিটি একসঙ্গে দুটি ভাষায় নির্মিত হয়েছে।

‘ওমর ফারুকের মা’ সম্পর্কে একটুখানি বলুন-

মুক্তিযুদ্ধের একটি সত্য কাহিনী নিয়ে মাসুম রেজার চিত্রনাট্য এবং এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লবের পরিচালনায় নির্মিতব্য ‘ওমর ফারুকের মা’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ওমর ফারুকের মায়ের চরিত্রটি তো আসলে চরিত্র না। এটা একটা বাস্তব ইতিহাস। জীবন্ত কিংবদন্তি ওমর ফারুকের মা। যিনি নব্বই-বিরানব্বই বছর বয়সের একজন মা। এখনও সে তার সন্তানের প্রতীক্ষায় আছে। এটা যেমন একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার, তেমনি অবিশ্বাস্য সত্যিও বলা যায়। এখনও তিনি দরজাটা সব সময় খুলে রাখেন যে, তার ছেলে ফিরবে। ছবিটি মুক্তি পেলে আশা করছি সবাই পছন্দ করবে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক ও হল মালিক সমিতি সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, তাদের এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন?

তাদের এই ঘোষনা সত্যিই কষ্টের। এক সময় বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও টেলিভিশন। তখন শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশনই ছিল। কিছু মঞ্চ নাটকও হতো সে-সময়। তারপর বিনোদনের মাধ্যম এত বেশি হয়ে গেছে যে মানুষ এখন হলে গিয়ে তিন ঘণ্টা বসে ছবি দেখতে চায় না। আগে বিনোদনের একমাত্র মাধ্যমই ছিল সিনেমা এবং এক শ্রেণীর দর্শক ছিল সিনেমার। আর তাই তাদের কথা মাথায় রেখেই ছবি নির্মিত হতো। তবে সেই সিনেমার জগত আস্তে আস্তে অন্য রকম হয়ে গেল। সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক কাঠখড় পেরিয়ে একটি ছবি নির্মাণ হয় এবং যিনি ছবিতে টাকা লগ্নি করেন সেই ছবিটির টাকা তো ওঠে না বরং হল মালিকরা কর্মচারীদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারছে না। আমাকে মাঝে মাঝে খুব ভাবায় আমরা কেন হলবিমুখ হয়ে গেলাম। অনেকভাবে চেষ্টার পরও এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না যা খুব পীড়া দেয়।

তাদের দাবি বিদেশী ছবি চালানোর...

এখন কোন ছবিই এক সপ্তাহ চলে না। সেটা দেশি হোক আর আমদানি করা হোক। মানুষ এখন হলে যেতে চায় না। তাদের মন মানসিকতা পরিবর্তন হয়ে গেছে। যৌথ প্রযোজনার সিনেমা সঠিক নীতিমালা অনুযায়ী সমান সমান হতে হবে। যৌথ প্রযোজনা বিরাট একটি সমস্যা যা প্রকট আঁকার ধারণ করেছে। যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণাও হয়। এটি বিরাট একটি সমস্যা। সবাই মিলে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই এগিয়ে না আসলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সবাই এগিয়ে না আসলে ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা মেনে নেয়া যায় না। সবাই একযোগ হয়ে কাজ করতে হবে। সিনেমার সুদিন ফিরে আনার চেষ্টা করতে হবে।

বর্তমানে মিডিয়ার পরিস্থিতি কেমন বলে আপনি মনে করেন?

নাটকের সামগ্রিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। অনেকেই এখন নাটকে আসছে। নাটককে পেশা হিসেবে নিচ্ছে। এখন নাটক শেখার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা আমাদের সময় ছিল না। এত কিছুর হওয়ার পরও কেন আমরা উন্নত করতে পারছি এই প্রশ্নটা নিজের মধ্যে বারবার জাগ্রত হয়। এই পরিস্থিতির জন্য খুব কষ্ট হয়। সবাই গভীর ভাবে চিন্তা করছি না। সবাইকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে।