১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হলে পথচারী আটক : ডিএমপি কমিশনার

ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হলে পথচারী আটক  :  ডিএমপি কমিশনার

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, আমাদের (ট্রাফিক পুলিশ) দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য আমাদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। বারবার বলছি, কাজ হচ্ছে না। এখন আমাদের কঠোরভাবে আইনি প্রয়োগে যেতে হবে। এখন থেকে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে পথচারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাই। জবাব দিতে পারি না। কিন্তু এটার পরিবর্তন হওয়া দরকার। জনগণ যাতে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে, সেজন্য ট্রাফিক বিভাগকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছি। দুর্ঘটনা ঘটানোয় বাস যেমন আটক করেন তেমনি দুর্ঘটনার কারণ হলে পথচারীকেও আটক করুন। আটক করে মিডিয়াকে দেখান, দেশের মানুষকে দেখান যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে, জেব্রা ক্রসিং ব্যতীত রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বাসের দরজা যদি বন্ধ করে রাখেন এক স্টপেজ থেকে আরেক স্টপেজ তাহলে প্যাসেঞ্জার উঠতে পারবে না। এই অবস্থায় যাত্রীও বা কেন বাসটি দাঁড় করাবে? নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী নামাবেন না, উঠাবেন না। আমি ট্রাফিক বিভাগের প্রতি নির্দেশ দিচ্ছি- কোনো পরিবহন যদি এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে যেখানে-সেখানে বাস দাঁড় করায় ও যাত্রী ওঠা-নামা করায়, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে ওই পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। দোষ যদি হয় পথচারীর, তাহলে বাস ও বাসের চালক কেন আটক হবে? ভিডিও করুন, শুধু জরিমানা নয়, আটক করুন। আইনগত ব্যবস্থা নিন। যেখানে মালিক-শ্রমিকের দায়িত্ব আছে সেখানে পথচারীরও দায়িত্ব আছে। এই কাজগুলো এখন আমাদের করতে হবে।

তিনি বলেন, তিনটি বিষয় আমরা ক্লিয়ার রাখতে চাই। এক. ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর বাস আর ঢাকা শহরে চলতে দেবো না। নির্ধারিত বাস স্টপেজের বাইরে বাস দাঁড়াতে পারবে না দরজা বন্ধ রাখুন। জেব্রা ক্রসিং এর আগে বাস দাঁড় করুন, যাত্রী সাধারণ ও পথচারীকে নিরাপদে রাস্তা পার হতে দিন। দুই. অভিযান জোরদার হবে ইনশাল্লাহ। তিন. দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে রপথচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।

মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, চুক্তিভিত্তিক কাজ বন্ধ করেন। বেতনভিত্তিক মজুরি চালু করেন। বাসের রুট ঠিক রাখুন। এক লাইনের বাস অন্য লাইনে চলবে না।

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ফৌজদারি মামলা, ড্রাইভার আটক

ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই কিন্তু গাড়ি চালাচ্ছে। কীভাবে সম্ভব? এটা হতে দেয়া যাবে না। ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দিচ্ছি- ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে, কেউ ড্রাইভিং সিটে বসতে পারবে না। যদি লাইসেন্স নেই এমন কেউ গাড়ি চালান আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা ও মামলা তো বটেই আটক করুন। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দিন। কারণ একটা ভুয়া ড্রাইভার একশটি ভালো ড্রাইভারের সুনাম নষ্ট করছে।

প্রধান সড়কে লেগুনা চলবে না

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের প্রধান সড়কে লেগুনা চলবে না। এই নির্দেশনা বলবৎ রয়েছে। ১১ বছরের শিশু লেগুনা চালায়, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত রিকশা চালায়। কিন্তু লাইসেন্স নেই। এসবেও এখন ট্রাফিক বিভাগকে নজর দিতে হবে। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, লেগুনায় আপনাদের (ট্রাফিক পুলিশ) আগ্রহ বেশি। এসব বন্ধ করেন। কাজ করেন সড়কে শৃঙ্খলা, পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য। জনগণের সহায়তা নিন, মালিক পক্ষের সহায়তা নিন। কীভাবে সমাধান করা যায় সেটা করুন। একসাথে একযোগে কাজ করুন।

তিনি বলেন, শ্রমিকবিরোধী, মালিকবিরোধী কোনো কাজ আমরা করবো না। কিন্তু আমাদের কথা দিতে হবে, সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রুট পারমিটবিহীন গাড়ি চালাবেন না। কোনোভাবেই আমরা লক্কর-ঝক্কর যানবাহন চলতে দেবো না।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা কাঠগড়ায় দাঁড়াই। তখন মানুষ যৌক্তিকও বলে, অযৌক্তিকও বলে। আমাদের সব শুনতে হয়। কোনো মোটিভেশনে কাজ হবে না, ট্রাফিক সপ্তাহে কাজ হবে না, যদি আমরা কথা না শুনি, ট্রাফিক আইন না মানি। মালিক-শ্রমিক পুলিশ মিলে রাজধানীতে যাত্রী ছাউনির পাশাপাশি টিকেট কাউন্টার করার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সু-প্রভাত (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন। টানা দুদিন আন্দোলনের পর গতকাল সরকারের আশ্বাসে ২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।