১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ হার ভারতের জন্য সতর্ক বার্তা ॥ দ্রাবিড়

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ হার ভারতের জন্য সতর্ক বার্তা ॥ দ্রাবিড়

অনলাইন ডেস্ক ॥ অস্ট্রেলিয়ার কাছে দেশের মাটিতে ওয়ান ডে সিরিজ হার বিরাট কোহলির ভারতের জন্য সতর্ক বার্তা বলে মনে করছেন রাহুল দ্রাবিড়। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে দুই ম্যাচ জিতে ২-০ এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। সেখান থেকে টানা তিনটি ম্যাচ হেরে সিরিজ হারে ২-৩।

দ্রাবিড় যা দেখার পরে বলছেন, ‘‘আমার মনে হয়, একটা ধারণা তৈরি হচ্ছিল যে, আমরা বুঝি বিশ্বকাপে যাব আর হাঁটতে হাঁটসে কাপ জিতে বেরিয়ে যাব। তাই মনে হচ্ছে, এ রকম ফলাফল হয়ে এক দিক থেকে ভালই হয়েছে। এই সিরিজ আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে গেল যে, বিশ্বকাপে গিয়ে খুব, খুব ভাল খেলতে হবে।’’ বুধবার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্রাবিড়। সঙ্গে ছিলেন আর এক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকার। সেখানেই তিনি মন্তব্য করেন যে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত এই সিরিজ হার আসলে সতর্ক বার্তাই জারি করে দিল ভারতীয় দলের জন্য।

দ্রাবিড় বোঝাতে চেয়েছেন, এই হারের ফলে আত্মতুষ্টি থেকে দূরে থাকতে পারবে কোহলির দল। তিনি বলছেন, ‘‘এক দিক থেকে আমার মনে হচ্ছে, ভারসাম্য ঠিক থাকবে এই সিরিজের ফলাফলের জন্য। গত দু’বছর ধরে ভারতীয় দল খুব ভাল খেলেছে। কিন্তু কিছুটা যেন ভাবা হচ্ছিল যে, হাঁটতে হাঁটতে বিশ্বকাপ জিতে যাব যে হেতু আমরাই এক নম্বর এবং গত দু’বছর ধরে ওয়ান ডে ক্রিকেটকে আমরাই শাসন করেছি। সেটা যে ঠিক নয়, তা বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে এই সিরিজ।’’ যদিও অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হার দেখে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ার কারণ দেখছেন না ভারতীয় ব্যাটিংয়ের প্রাচীর এবং এখন যুব দলের কোচ। বলছেন, ‘‘খুব সাংঘাতিক কোনও ভুল আমার চোখে ধরা পড়েনি। এখনও মনে করি, আমরা অন্যতম ফেভারিট। কিন্তু কাজ সহজ হবে না আমাদের। খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ।’’

সম্প্রতি তর্ক উঠেছে ক্রিকেটারদের ধকল নেওয়ার মাত্রা নিয়ে। কথা উঠেছে, বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে আইপিএলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে, বিশ্রাম দিয়ে খেলানো উচিত কি না। তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত লেগেই রয়েছে। দ্রাবিড় এবং মঞ্জরেকরকেও এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। দ্রাবিড় বলেন, ‘‘প্রায় সব ক্রিকেটারই এ ব্যাপারে খুব বিচক্ষণ। তারা জানে, কী ভাবে শরীরকে সামলাতে হয়। মনে হয় না কেউ শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ দিতে চাইবে।’’ যোগ করছেন, ‘‘আমি প্যাট্রিক কামিন্সের মন্তব্য পড়ছিলাম। ও বলেছে, যখন টানা খেলে যায়, তখনই বোলিংয়ে বেশি ছন্দ খুঁজে পায়। বিশ্রাম নিয়ে ফিরে আসতে গিয়ে না কি ও দেখেছে, ছন্দ হারিয়ে যায়।’’ কার্যত খেলার পক্ষেই তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে কোহলি এবং সচিন তেন্ডুলকারের সঙ্গে এক সুরে বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক ক্রিকেটারের পরিশ্রম করার বা ধকল নেওয়ার ক্ষমতা আলাদা। ঢালাও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় যে, সকলকে বিশ্রাম দিয়ে দাও। ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রাখতে হবে। তাদের হাতে বিষয়টি ছাড়তে হবে। তারা জানে কী করতে হবে।’’

মঞ্জরেকর আরও এক পা এগিয়ে বলে দেন, বিশ্রাম দেওয়ার জন্য আইপিএলের দলগুলির উপর কোনও রকম চাপ সৃষ্টি করাই উচিত নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের। তিনি বলেন, ‘‘জানি। আমার কথা হয়তো অনেকের ভাল লাগবে না। কিন্তু এখানে আইপিএলের দলগুলির স্বাধীনতা থাকা উচিত। তাদের সিদ্ধান্তে কারও হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয় বোর্ডের।’’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা