১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আউশ চাষে ৪ লাখ ৫৯ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার

আউশ চাষে ৪ লাখ ৫৯ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সরকার আসন্ন ২০১৯-২০ মৌসুমে আউশ ধান আবাদে ৪০ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেবে। উচ্চ ফলনশীল আউশ আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলার ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২২৬ কৃষককে এ প্রণোদনা দেবে। প্রণোদনার আওতায় প্রতি কৃষককে আউশ বীজ ও সার প্রদান করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৪০ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা।

কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আউশ প্রণোদনা কর্মসূচী তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, এ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় একজন কৃষক সর্বোচ্চ এক বিঘা জমি চাষের জন্য পাঁচ কেজি ধানের বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার, পরিবহন ব্যয় বাবদ ৯০ টাকা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ ২০ টাকাসহ মোট ৮৭৫ টাকার সুবিধা পাবেন।’ অর্থাৎ এক কেজি ধানের বীজ ৫৮ টাকা দরে ২৯০ টাকা, প্রতি কেজি ডিএপি সার ২৩ টাকা দরে ৩৪৫ টাকা, প্রতি কেজি এমওপি সার ১৩ টাকা দরে ১৩০ টাকা এবং পরিবহন ব্যয় ৯০ টাকা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় ২০ টাকা পাবেন কৃষক।

তিনি জানান, আসন্ন আউশ মৌসুমে সারাদেশে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমি থেকে ৩৬ লাখ ৮৭ হাজার টন আউশ চাল উৎপাদন করা হবে। এরমধ্যে ৬১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে প্রণোদনা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হবে। এর আওতায় চাল উৎপাদন হবে এক লাখ ৫৬ হাজার চারশ ৫২ মেট্রিক টন, যার মূল্য ৫৭৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪০ টাকা। পাশাপাশি খড় উৎপাদন হবে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন, যার মূল্য ২৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৬ টাকা। চাল ও খড় মিলয়ে মোট আয় হবে ৬০৩ কোটি ৫৪ লাখ ৯৪৫ টাকা। অন্যদিকে প্রণোদনার আওতাধীন জমিতে মোট উৎপাদন খরচ হবে ৫০৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় খরচ বাদ দিয়ে নীট আয় হবে ৯৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৪৫ টাকা।

সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষি সচিব মো: নাসিরউদ্দিন বলেন, আউশ আবাদে বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র ১০০ দিনে আবাদ করার জনৗ তিনটি উচ্চ ফলনশীল আউশ জাত উদ্ভাবন করেছে। এগুলো হলো ব্রি ৪৮, ব্রি ২৬ ও ব্রি ২৭। এই জাতগুলো এখন কৃষক আবাদ করছে। আরও একটি জাত মাঠে আসের অপেক্ষায় আছে। আগামী ২/১ বছরের মধ্যে এই জাতটিও মাঠে আসবে।