১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২০২১ সালে ফাইভজি : জব্বার

২০২১ সালে ফাইভজি : জব্বার

অনলাইন রির্পোটার ॥ দেশে ২০২১ সালের বিজয় দিবস বা ১৬ ডিসেম্বরেই ফাইভজি চালু করার কথা বলেছেন ডাক, টেলিযোগোযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কদিন আগেই আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আমাদের প্রস্তুতি কতখানি আছে ফাইভজি চালু করার। বিশেষ করে আমাদের জন্য খুব ক্রুশিয়াল সময় হচ্ছে ২০২০ এবং ২০২১ সালকে আমরা মুজিব বর্ষ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি।আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে, আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যেই যেন আমরা ফাইভজির যুগে পা দিতে পারি।

আমার সময়, মানে হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১। সেখান থেকে শুরু করলে আমরা আস্তে আস্তে প্রচলন করার ক্ষেত্রটায় সময় নেবো সেটা নিয়ে সন্দেহ নাই, বলেন মোস্তাফা জব্বার।রাজধানীর কুড়িলের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনের বেসিস সফটএক্সপোর শেষ দিনে এসব কথা বলেন তিনি।বৃহস্পতিবার সকালে ‘ফাইভজি : নিউ এরা ট্রান্সফরমিং আওয়ার লাইভস, সোসাইটি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’ শিরোনামের সেমিনারে মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পারেননি। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগ দিয়ে ব্ক্তব্য দেন মোস্তাফা জব্বার।

সেই বক্তব্যেই ২০২১ সালের মধ্যে ফাইভজি চালুর কথা জানান। মন্ত্রী তার ব্ক্তব্য বলেন, এখানে যারা আলোচনা করছেন তাদের সবাই প্রায় জানেন যে আমাদের সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আমরা ফাইভজি চালু করবো। এটি আমাদের জাতির কাছ অঙ্গীকার। সুতরাং এ অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ফাইভজি সংক্রান্ত যেসব ধারণাগুলো পেয়েছি সেগুলো দেখে প্রাথমিক দিকে আমাদের মনে হয়েছিল যে, ফাইভজি বোধহয় আমাদের হিমালয় আরোহন করতে হবে। এখন কিন্তু আমরা আর হিমালয় আরোহন করার কথা ভাবি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে ছোটখাটো পিলারগুলো অতিক্রম করতে হবে।

সেদিক থেকে আমি নিজে বিশ্বাস করি আমাদের বিটিআরসি, আমাদের অপারেটরগুলো এবং অন্যান্য যারা আছেন এর সঙ্গে যুক্ত,তারা প্রত্যেকেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন যে, আমরা ফাইভজি যথা সময়ে যেতে পারবো।আলোচকদের মঞ্চে ডেকে নিচ্ছেন সঞ্চালক নূরুল কবীরমোস্তাফা জব্বার তার বক্তব্যে সেমিনার থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোকে তুলে ধরার আহবান জানিয়ে বলেন, আমি বিশ্বাস করি সেমিনারে যারা আছেন তারা বের করার চেষ্টা করবেন যে সরকারের দিক থেকে কি কি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে এটাও বের করা যে, বেসরকারি খাতের দিক থেকেই কি কি প্রস্তুতি নেবার আছে।আমরা সেমিনার থেকে যে রেকমেন্ডেশন পাবো, তা আমরা নেবো। কারণ, আমরা কোন পক্ষকে বাদ দিয়ে কোন নীতিমালা বা আইন -কানুন করতে চাই না। সবাইকে নিয়েই আমরা তা করবো। যেহেতু তারা আমাদের স্টেক হোল্ডার, বলেন মন্ত্রী।তবে নিজে উপস্থিত থাকতে না পারার জন্য সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে মোস্তাফা জব্বার।আমাদের দিক থেকে বিষয়টা একেবারে পয়েন্ট অব নো রিটার্ন; আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

আমরা এই সময় সীমা পেছাতে পারবো না, বলেন মন্ত্রী।সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবীর। তিনি ফাইভজি নিয়ে একে একে আলোচনার জন্য সবাইকে মঞ্চে ডেকে নেন। এরপর কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। সেমিনারে তিনটি কি-নোট উপস্থান করা হয়। প্রথম কি-নোট উপস্থাপন করেন জিএসএমএ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোবাইল ফর ডেভেলপমেন্ট পরিচালক রাহুল সাহা।

দ্বিতীয় কি-নোট উপস্থাপন করেন এরিকসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুস সালাম এবং তৃতীয়টি হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ঝাং জেংজুন।পরে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক আমিনুল হাসান, রবি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ, গ্রামীণফোনের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা রাদে কোভাসেভিস, জিএসএমএ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোবাইল ফর ডেভেলপমেন্ট পরিচালক রাহুল সাহা, এরিকসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুস সালাম এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও ঝাং জেংজুন।সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।