২১ মার্চ ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশে ঝুঁকিতে পড়বে

জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশে ঝুঁকিতে পড়বে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন থেকে দেশের কৃষিকে রক্ষার জন্য সরকার জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে কৃষি বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সহনশীল ব্রি ৬১ ও ব্রি ৬৭ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষক ভালভাবে গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিষ্ট ফোরামের (বিসিজেএফ) সদস্যদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি। বাংলাদেশের জিডিপিতে এখনও কৃষির অবদান ১৫-১৬ শতাংশ। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশে ঝুঁকিতে পড়বে। তাই সরকার জলবায়ু পরিবর্তনকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনকে মাথায় রেখে প্রতিটি উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উপলব্দি করছি। উপক‚লীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে। পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। ভারত একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক নদীর পানি প্রত্যাহার করে নেয়ার ফলে এখন গোপালগঞ্জ পর্যন্ত লবণাক্ততা চলে এসেছ। পাশাপাশি সমুদ্রের পানি উষ্ণ হয়ে উঠছে। ফলে প্রতি নিয়ত দুর্যোগ বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরে উপক‚লের ২০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দেশে গম আবাদের ওপর। উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় দেশে গম উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বিপরীতে দেশে গমের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে গত বছর দেশে ৫৯ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়েছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে দেশে গম উৎপাদন করতে হলে উষ্ণতা সহনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করতে হবে। এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে মন্ত্রী জানান।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান, বিজিজেএফ সভাপতি কাওসার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক প্রমুখ।