২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজপথে রক্ত ঝরছেই

ট্রাফিক সপ্তাহ মূলত পালন করা হয় সড়কে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য। সেই ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও ঘটল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, তাও রাস্তা পারাপারের নিরাপদ স্থান হিসেবে চিহ্নিত জেব্রা ক্রসিংয়ে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মঙ্গলবার ভোরে ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রত্যাশায় বাস ধরবে বলে দাঁড়িয়েছিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রাস্তার জেব্রা ক্রসিংয়ে। উল্লেখ্য, পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে জোরদার প্রচার চলছে। সেই স্থানেই কিনা সু-প্রভাত পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস পাল্লা দিতে গিয়ে প্রাণ কেড়ে নিল হতভাগ্য তরুণ শিক্ষার্থী আবরার আহমদ চৌধুরীর। ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ সহপাঠীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী ও জনতা রাস্তায় নেমে এসে দিনভর সড়ক অবরোধ করে। উল্লেখ্য, সু-প্রভাত পরিবহন কোম্পানির রুট পারমিট সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে পরিবহন ব্যবসায় অযোগ্য হিসেবে। দুঃখজনক হলো নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও সু-প্রভাতের বাসগুলো প্রায় অবাধে চলছে। কিভাবে চলছে সেটা এক রহস্য বটে। তাহলে প্রশ্ন বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগ, সর্বোপরি বাস-মালিক পরিবহন সমিতি কি করে? বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তারা কোন আইন-কানুন বা নিয়মনীতি বা বিধিমালার তোয়াক্কাই করে না। রাজপথে রক্ত ঝরায় তাদের যেন যায় আসে না কিছুই। এক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত ৭৫৪ দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্য দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৮১ জনে। সর্বশেষ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ৮ দফা দাবি আদায়ের দ্বিতীয় দিনের মতো পথে নেমেছে বিইউপিসহ অন্য শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? সড়কে মৃত্যুর মিছিল কি চলতেই থাকবে?

‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের সফল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়টিকে প্রাধিকার দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে ২০ দফা নির্দেশনা। সড়ক নিরাপত্তা জনসচেতনতায় নামানো হয়েছে কয়েক লাখ স্কাউটস ও গাইডস সদস্যকে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে বিএনসিসিসহ শিক্ষক সমাজ এবং অভিভাবকদেরও। তাদের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোসহ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ২৪টি কার্যক্রম। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

দেশের ৯০ শতাংশ মানুষই ট্রাফিক আইন মানে নাÑ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ডিএমপি কমিশনারের এই বক্তব্যটি সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সেইসঙ্গে তিনি হতাশাও ব্যক্ত করেছেন এই বলে যে, সেক্ষেত্রে ৯০ শতাংশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অসম্ভব কাজ। উল্লেখ্য, বেপরোয়া বাসের চাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানী ও আশপাশের লাখো শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এসে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে। সর্বস্তরের মানুষ, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এই আন্দোলনের সারবত্তা ও যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে তাতে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানায়। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্যক উপলব্ধি করে মন্ত্রিসভার জরুরী বৈঠক ডেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর অনুমোদন দেন। তবে দুঃখজনক হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা, ন্যূনতম শৃঙ্খলা নেই কোথাও। বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে রীতিমতো হতাশা প্রকাশ করে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, আগামীতে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান আরও জোরালো ও বেগবান করা হবে। নেয়া হবে ট্রাফিক ব্যবস্থা যথাযথ ও টেকসই করার, যাতে পরিবহন খাতসহ শৃঙ্খলা ফিরে আসে সড়ক-মহাসড়গুলোতে। এর পাশাপাশি দূর করতে হবে দীর্ঘদিন থেকে পরিবহন খাতে বিরাজমান অরাজকতা ও নৈরাজ্য। সরকার, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ডিসিসি, সর্বোপরি পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সমিতি একসঙ্গে বসে সুচিন্তিত সমাধানের পথ বের করতে না পারলে সড়কের নৈরাজ্য দূর হবে না।