২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোটারের স্বল্প উপস্থিতিতে সরব ঢাকা, নীরব নিউইয়র্কে

  • আব্দুল মালেক

ঢাকা এবং নিউইয়র্কে প্রায় একই সময়ে দু’দেশের দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় মধ্যে কাকতলীয় হলেও সাযুজ্য দেখা গিয়েছিল বেশ কিছু। বাংলাদেশের নির্বাচনটি ছিল ঢাকা উত্তরের সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে আর অপরটি ছিল আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এ্যাডভোকেট পদে। এই দুটোই দুই নগরের অন্যতম শীর্ষ পদ। দুই ভিন্ন নগরের উভয় নির্বাচনই মূল নির্বাচন ছিল না- ছিল শূন্য হয়ে যাওয়া দুটি পদ পূরণের নিমিত্তে। ঢাকাবাসীর প্রিয় মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুর কারণে এবং সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট লেটিসা জেমস নিউইয়র্ক স্টেটের এ্যাটর্নি জেনারেলের পদে যোগ দেয়ায় নগরের আলোচ্য আসনটি শূন্য হয়েছিল। তবে এই দুই নির্বাচনের মধ্যে সবার উপরে বড়সড় মিলটি ছিল উভয় নির্বাচনেই ভোটার উপস্থিতির স্বল্পতা। ঢাকার নির্বাচনের এদিকটি নিয়ে আজ চাপা নিউজের চলমান। কিন্তু নিউইয়র্ক নগরে ভোটার স্বল্পতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তো দূরের কথা সামান্যতম অভিযোগের ‘টু’ শব্দটি অবধি শোনা গেল না। বাংলাদেশের মতো দেশে যেটা নিয়ে নানা ঘটন অঘটন ঘটে, এই নগরে তার পরিবর্তে কেউ কেউ প্রকাশ করেছেন সন্তোষ। প্রসঙ্গক্রমে বলি, পাবলিক এ্যাডভোকেট পদটি নিউইয়র্ক নগরের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ। সেদিন বিশ্বের বাণিজ্যিক রাজধানী বলে খ্যাত নিউইয়র্কে নাগরিকদের প্রদত্ত ভোটের হার ছিল শতকরা ৮ ভাগের কিছু বেশি। প্রদত্ত ভোট ছিল ৪ লাখ ১০ হাজার। সেখানে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী ঢাকার মেয়র ও কাউন্সিলরের পক্ষে ভোট পড়েছিল শতকরা ৫০ ভাগ। মেয়র পদে বিজয়ী আতিক পেয়েছেন আট লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। নিউ ইয়র্ক পাবলিক এ্যাডভোকেট পদের গুরুত্ব বোঝাতে গেলে বলতে হবে কোন কারণে মেয়রের পদের টার্ম শেষ হওয়ার পূর্বে রিপ্লেস করার প্রয়োজন পড়লে সেই স্থান গ্রহণ করবেন এই পদাধিকারী। নগরের বর্তমান মেয়র ডি ব্লাজিও। এই পদে ছিলেন ১০ থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত।

আমেরিকার নিউইয়র্ক নগরের ভোটার হিসেবে আমার প্রায় তিন দশক পার হয়ে গেছে। এদেশে জীবনের প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে হতবাক না হয়ে পারিনি। ভোটের আগে মিছিল মিটিং এসবের তো প্রশ্নই নেই, এমনকি ভোট কেন্দ্রে মানুষের আনাগোনা নিতান্তই স্বল্প। আমার এই দীর্ঘ অভিবাসী জীবনে সামান্য আঙুলে গোনা কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও সর্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা কম বেশি ছিল একই। অথচ ছোটবেলা থেকে দেখেছি মিছিল মিটিং গান-বাজনা থেকে পান-বিড়ি-সিগারেট নিয়ে গ্রামে শহরে ভোট ছিল একটি উৎসব। বাংলাদেশে ভোটের দিন ছুটি থাকে কিন্তু এদেশে ভোট উপলক্ষে ছুটির কথা যেমন অকল্পনীয় তেমনি ভাবা যায় না কোন উৎসবমুখর পরিবেশের কথাও। উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপকহারে উপস্থিত হননি বলে নির্বাচন কমিশনারদের পর্যন্ত হা-হুতাশের কমতি নেই। শুধু তাই নয়, একজন নির্বাচনী কমিশনার সাম্প্রতিক সময়ে বাণী দিলেন এই বলে যে, চলমান উপজেলা নির্বাচন জৌলুস হারানোর পর সব দলের অংশগ্রহণ ও ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। সে যাই হোক, বাংলাদেশ ও আমেরিকার এই নির্বাচন দুটিতে মিল কিছু থাকলেও বৈসাদৃশ্য কিন্তু কম নয়। পাবলিক অ্যাডভোকেট পদে ভোট শেষ হয়ে গেছে এবারের মতো- একেবারেই হয়েছে। কিন্তু ঢাকার মেয়র পদের ভোট শেষ হলেও যেন শেষ হয়েও শেষ হলো না। বিষয়টি এখনও তুঙ্গ থেকে একরকম নামেনি। রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, প-িতবর্গ এমনকি ইলেকশন কমিশন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কথার ফুলঝুরি ফোটাচ্ছেন।

বলছিলাম এদেশের নির্বাচনে দেশের মতো জৌলুসের কমতি থাকলেও অবশ্য আমার ভোট দেবার কাজে গাফিলতি ঘটেনি কখনও। যাবতীয় ইলেকশন দিনের মতো অফিস শেষ করে ক্লান্তি নিয়েও সন্ধ্যের মুখে ভোট দিতে গেছি পাবলিক অ্যাডভোকেট পদে। ঢোকার মুখে শীতের পাখির মতো সামান্য কিছু মানুষকে ব্যালট প্রয়োগ করে চলে যেতে বা প্রবেশ করতে দেখলাম। এটা ঠিক ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে নির্বাচনের দিন আবহাওয়া প্রসন্ন ছিল না। শূন্যের অনেক নিচের শীতে লোকজন রুটি-রুজির কারণে কাজে যেতে বাধ্য হলেও ভোট কেন্দ্রে যেতে তেমন উৎসাহিত হয়নি- অবশ্য আবহাওয়া সদয় হলেও বহু মানুষের এ বিষয়ে স্বতঃস্ফূর্ততা নেই। এক সহকর্মী আমাকে ওজর হিসেবে আর একটা জ্ঞানদান করেছিল এই বলে, সে ভোট দিতে যাবে না কারণ এটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে ক’মাস পরেই- নির্ধারিত সময়ে। ফালতু সময় নষ্ট করে লাভ কি।’ এই সঙ্গে একটা কথা জানিয়ে দেই সেটা হলো এখানে ভোট নিয়ে উৎসব করার সুযোগ নেই বরং কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে আশপাশে পর্যন্ত জটলা করার ব্যাপারে। তাই উৎসব তো উৎসব, যে স্কুলগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেগুলোতে এখন পরিষ্কার বাংলায় লেখা থাকে ‘এখানে ইতস্তত ঘোরাফেরা করবেন না। কারও প্রশ্ন হতে পারে এটা কি কেবলই বাংলায় নাকি? সেটা অবশ্য নয়, আমাদের সিটির অফিসিয়াল ভাষা ইংরেজী, বাংলা, স্প্যানিশ, হিন্দী, চাইনিজ এই পাঁচটা ভাষা রয়েছে ভোট কেন্দ্রে এবং পাঁচ ভাষাতেই ব্যালট পত্র রয়েছে- ইন্টারপ্রেটার রয়েছে।

ঢাকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং নির্বাচনে মেয়রসহ যাবতীয় পদে ঢাকাবাসী ভোট দিয়েছেন ৫০% হারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। বিজয়ী আতিক পেয়েছেন আট লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। এই সংখ্যাটি অত্যন্ত কম গণ্য করে এবং এটাকে অজুহাত তুলে দেশের অন্যতম বড় দলটিসহ এক শ্রেণীর মিডিয়া ও তথাকথিত সুশীল সমাজ চিৎকার শুরু করেছিল গণতন্ত্র গেল গেল বলে। বলা বাহুল্য, তারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে কোন কোন নেতা বলেছেন একটানা ছুটি, শৈত্যপ্রবাহ এবং বৃষ্টি নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসবার ব্যাপারে যেটি বলার কথা ইসির। এর পর পর এলো প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচন। সেখানেও মূল ভোটের ৪৩ শতাংশ উপস্থিতি কাউকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এতে করে গণতন্ত্র বিফলে গেল বলে দেশে কেউ কেউ পুনরায় কান্না জুড়েছেন। কিন্তু নিউইয়র্কের পাবলিক অ্যাডভোকেট পদে ভোটের হার শুনে তারা কি তবে ‘ভিরমি’ খাবেন যার পরিমাণটা দেখে নিউইয়র্ক নগরের কারও কারও চোখে জ্বলেছে আশার আলো। কারণ, এবার তো যা হোক ৮%এর কিছু বেশি পড়েছে- কিন্তু বিগত নির্বাচনে যার পরিমাণ ছিল আরও কম। এবারকার নির্বাচনে সর্বমোট ভোটারের পরিমাণ চার লাখ ১০ হাজার। আলোচ্য ইলেকশনে বিজয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জুমাইন উইলিয়ামস এবং পরাজিত রিপাবলিকান প্রার্থী এরিক উলরিচের প্রাপ্ত ব্যালটে ছিল বিশাল ব্যবধান। জুমাইন যেখানে পেয়েছেন ১৩৪.০০০ এরিকার পরিমাণ ৭৭,০২৬টি।

মজার কথা বর্তমান নিউইয়র্ক মেয়র গত ১৩ সালে প্রথমবার যখন বিজয়ী হন তখন সর্বমোট ভোট পড়েছিল ২৬%। কিন্তু প্রায় আড়াই শ’ বছরের পুরনো গণতন্ত্রের দেশ আমেরিকায় এই নাজুক ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কখনও কি কেউ প্রশ্ন তুলেছেন? তবে প্রশ্ন না হোক এবার নগরের ডেইলি নিউজ পত্রিকা অনুযোগের সুরে বলেছে প্রতি সপ্তাহে এই নগরের যত মানুষ ব্রডওয়ে শো উপভোগ করেন তার পরিমাণ এর দ্বিগুণ। পত্রিকাটি আরও বলেছে এই নগরের অধিবাসীরা তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন না।

আমাদের দেশের একটি মহল বিএনপি কর্তৃক সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা নির্বাচন বয়কট প্রসঙ্গে সোচ্চার কণ্ঠে বলছে এতে করে নির্বাচন ঔজ্জ্ব¡ল্য হারিয়ে ফেলেছে, আংশিক গণতন্ত্র হয়েছে। তাহলে এখনও স্মরণ করিয়ে দিতে হয়Ñ ১৯৭০ সালের জাতির সেই মাইল স্টোন নির্বাচনে এক ভোট বর্জনের কথা। তখন ভাসানী ন্যাপ ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনের প্রাক্কালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ‘ভোটের আগে ভাত চাই’ বলে নির্বাচন থেকে দূরে রইলেন। কিন্তু তাতে কি জাতির ক্ষতি হয়েছিল কিছু? ইতিহাস বলে সারাবাংলার ভোটাররা বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীকে একতাবদ্ধ হয়ে এনেছিলো মহাসমুদ্রের প্লাবন।

সেই নির্বাচনে পূর্বপাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ১৭০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ লাভ করেছিল ১৬৮টি এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৩০০ আসনের ২৯৫টি আসন। আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো জয় বাংলা ধ্বনিতে ভেসে গেছে খড়কুটোর মতো। সে সময় বাংলার কোন মীরজাফর দূরে থাক তাদের প্রভু পাকিস্তানী সামরিক জান্তা পর্যন্ত এই নির্বাচনে মওলানার ভোট বর্জন কিংবা অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের গো-হারানকে কারচুপি বলতে সাহস পায়নি বা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বিজয়কে প্রত্যাখ্যান করার ধৃষ্টতা দেখায়নি। ভাসানীর ন্যাপ সে সময় নির্বাচন বর্জন করেছিলেন বলে ’৭০-এর বিজয় প্রক্রিয়াকে আজকের মতো কোন সুশীল সেই ভোটকে আংশিক গণতন্ত্র কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস হলো বলে নতুন মতবাদ সৃষ্টি করেননি। আসলে সেই সময়টাতে রাজনীতিবিদ নামধারী কিছু ব্যক্তি এক কান কাটা ছিলেন বটে- যাদের কিছুটা হলেও হায়া লজ্জা বলতে কিছু একটা ছিল। বর্তমানে দুকান কাটাদের বেলায় কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রিয় দলকে ভোট দেয়নি বলে পরবর্তী সময়ে তারা মেয়র ও উপজেলা নির্বাচনে ভোট বর্জন করেছে। এটা তাদের ইচ্ছা এবং জাতির তাতে কিছুই আসে যায়নি।

বর্তমান সময়ে কি ভাসানীর মতো বিশাল মাপের কোন নেতাও এখন থাকলে তবু কথা হতো।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্যারিশমাটিক নেতা শেখ হাসিনা দেশের সর্ব শ্রেণীর মানুষকে নিয়ে রেইনবো কোয়ালিশন গড়ে তুলেছিলেন তাতে বাংলার মানুষ স্নাত না হয়ে পারেনি। এবারের নির্বাচন সময়টা অনেকটা ছিল যেন ’৭০-এর প্রতিবিম্ব অথচ ঐক্যফ্রন্ট নেতা এখনও এই নির্বাচনকে আখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন- রাত কি কাজ হিসেবে। দেশে বিদেশে অপপ্রচারের মাধ্যমে এটিকে কোথাও বিশ্বাসযোগ্য করার প্রয়াস পেয়েছেন কোন প্রমাণ না দেখিয়েও।

সবাই জানেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ বিজয় ছিল শেখ হাসিনার বিজয়- তার হাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অর্জন এবং তার সুদৃঢ় নেতৃত্ব বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের বিজয়। নির্বাচনের পূর্বে বিশ্বের দেশী-বিদেশী নামী-দামী মিডিয়া তার দলের বিপুল বিজয় সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল। তাদের যে কা-ারি কামাল হোসেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহস পর্যন্ত রাখেননি তিনি সেই বিজয়ে এবং তার দলের অবশ্যম্ভাবী পরাজয়কে এখন ‘রাত কা কাজ’ এর বাতচিৎ বানাচ্ছেন।

এরপর খামোখা মাঠ গরমের অপচেষ্টায় একই মহল ডাকসু নির্বাচনকে নিয়ে মেতেছে। সব মিলিয়ে অবস্থাটা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, যেন প্রত্যেক দলই জয়ী হয়েছে এই নির্বাচনে- পরাজিত কেবল ছাত্রলীগ। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তারা যে সমস্ত অপসংবাদ প্রচার ও হাস্যকর কর্মকা- করে যাচ্ছে তার কোন ধারাবাহিকতা নেই। তাদের সমর্থিত ভিপি পদে নির্বাচনে জিতে একেক সময় একেক কথা বলছেন।

অথচ ডাকসু ভিপি পদে পরাজিত প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন দেশের এমন পরিবেশে কেমন শান্তভাবে তার পরাজয় মেনে নিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে বিজয়ী এই নুরের সঙ্গে বুকে বুক মেলাল তাতে আশ্চর্য না হয়ে পারিনি। তার পক্ষের ছেলেরা তখন প্রতিবাদে-কান্নায় ফেটে পড়েছে বার বার সে সময়টায় নিজে কেঁদেও তাদের সান্ত¡না দিয়ে নিবৃত্ত করল। অথচ সে বলতে পারত ডাকসুতে ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতে ছাত্রলীগ বিজয়ী হয়েছে প্রচুর ভোটের ব্যবধানে- আমাকে ষড়যন্ত্র করে কারচুপির মাধ্যমে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। আসলে গণতান্ত্রিক পরিবার ও পরিবেশের উত্তরাধিকারী হয়ে যারা রাজনীতিতে আসে তারাই ধারক বাহক হতে পারে গণতন্ত্রের।

আমার পিতামহের গ্রাম ভূরুঙ্গামারীতে শোভনের পরিবারটিকে চিনি বহুকাল ধরে। তার পিতামহ শামসুল হক চৌধুরী তার এলাকা থেকে ৭০ সাল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন কয়েকবার। ওর চাচা আক্তারুজ্জামান ছিলেন ৭০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি। দাদার সেই এলাকা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তার পিতা এবং মা স্কুল শিক্ষিকা। শিক্ষিত ও রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়ে ও লালিত পালিত হয়ে শোভন নামের যুবকটির আচরণ এমনটি হওয়াই তো সকলের কাম্য। কামনা করি, তার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশের প্রবীণ অগণতান্ত্রিক এই নেতাদের মেধা ও মননে জাগরুক হোক গণতান্ত্রিক আচরণ ও সৌন্দর্য।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

a.malek5271@gmail.com