১৭ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লভ্যাংশ প্রদানে এগিয়ে স্বল্প মূলধনী কোম্পানি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মিউচুয়াল ফান্ড বাদে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বর্তমানে ৩২২টি। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা বা শেয়ার সংখ্যা ১ কোটির নিচে রয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ৩২টি। এই ৩২টি কোম্পানি স্বল্প মূলধনী কোম্পানি হিসাবে পরিচিত। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ হিসাব বছরে ১৭টি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, ৪টি কোম্পানি ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে এবং ৩টি কোম্পানি ২ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে। অন্যদিকে, ৭টি স্বল্প মূলধনী কোম্পানি বিনিয়োগাকারীদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ হিসাব বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩২২টি কোম্পানির মধ্যে ২৮টি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি।

১৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয়া ১৭ কোম্পানি : সর্বশেষ হিসাব বছর ২০১৮ সালে ১৫ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়া ১৭ কোম্পানি হলো স্টাইলক্রাপ্ট, মুন্নু স্ট্যাফলার্স, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, ফার্মা এইড, আরামিট লিমিটেড, এমসিএল (প্রাণ), রহিম টেক্সটাইল, এ্যাম্বি ফার্মা, ন্যাশনাল টি, লিবরা ইনফিউশন, বিডি ল্যাম্প, এ্যাপেক্স ফুড, এ্যাপেক্স স্পিনিং, রংপুর ফাউন্ড্রি, বিডি অটোকার, জেমিনি সী ফুড ও বঙ্গজ লিমিটেড। অন্যদিকে, রেকিট বেনকিজার সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্টাইলক্রাপ্ট লভ্যাংশ দিয়েছে ৪১০ শতাংশ স্টক, মুন্নু স্ট্যাফলার্স ৩৫০ শতাংশ স্টক, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট ১০০ শতাংশ নগদ, ফার্মা এইড ৫০ শতাংশ নগদ, আরামিট লিমিটেড ৫০ শতাংশ নগদ, এমসিএল (প্রাণ) ৩২ শতাংশ নগদ, রহিম টেক্সটাইল ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক মিলিয়ে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ, এ্যাম্বি ফার্মা ৩০ শতাংশ নগদ, ন্যাশনাল টি ২২ শতাংশ নগদ, রংপুর ফাউন্ড্রি ২২ শতাংশ নগদ, লিবরা ইনফিউশন ২০ শতাংশ স্টক, বিডি ল্যাম্প ২০ শতাংশ নগদ, এ্যাপেক্স ফুড ২০ শতাংশ নগদ , এ্যাপেক্স স্পিনিং ২০ শতাংশ নগদ, বিডি অটোকারস ১৩ শতাংশ স্টক ও ২ শতাংশ নগদ মিলিয়ে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ, জেমিনি সী ফুড ১৫ শতাংশ স্টক এবং বঙ্গজ লিমিটেড ১৫ শতাংশ স্টক। অন্যদিকে, বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার গতবছর বিনিয়োগকারীদের ৭৯০ শতাংশ ক্যাশ লভ্যাংশ দিয়েছে।

১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয়া ৪ কোম্পানি : ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয়া ৪ কোম্পানির মধ্যে রেনউইক যজ্ঞেশ্বর ১২ শতাংশ নগদ, সোনালী আঁশ ১০ শতাংশ নগদ, দেশ গার্মেন্টস ১০ শতাংশ স্টক এবং জিকিউ বলপেন ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

২ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয়া ৩ কোম্পানি : ২ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয়া ৩ কোম্পানির মধ্যে আজিজ পাইপ ৫ শতাংশ নগদ, কেএ্যান্ডকিউ ৫ শতাংশ নগদ ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। অন্যদিকে, লভ্যাংশ না দেয়া ৭ কোম্পানি হলো- সাভার রিফেক্টরিজ, জুট স্পিনার্স, নর্দার্ন জুট, দুলামিয়া কটন, ইমাম বাটন, শ্যামপুর সুগার মিল ও ঝিলবাংলা সুগার মিল।

এদিকে, লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৮) মুনাফায় প্রবৃদ্ধি রয়েছে ১২ কোম্পানি। মুনাফায় প্রবৃদ্ধি থাকা কোম্পানিগুলো হলো- মুন্নু স্ট্যাফলার্স, ফার্মা এইড, এমসিএল (প্রাণ), এ্যাম্বি ফার্মা, ন্যাশনাল টি, এ্যাপেক্স স্পিনিং, বিডি অটোকারস, বঙ্গজ লিমিটেড, স্টাইলক্রাপ্ট, দেশ গার্মেন্টস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, কেএ্যান্ডকিউ ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক।

অন্যদিকে, লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুনাফায় নেতিবাচক প্রবণতায় রয়েছে ১২ কোম্পানির। কোম্পানিগুলো হলো- ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, লিবরা ইনফিউশন, সোনালী আঁশ, আরামিট লিমিটেড, জেমিনি সী ফুড, এ্যাপেক্স ফুড, দেশ গার্মেন্টস, আজিজ পাইপ, রহিম টেক্সটাইল, বিডি ল্যাম্প ও জিকিউ বলপেন।

লভ্যাংশ ঘোষণার স্বল্প মূলধনী ২৪ কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা : ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের ৯ লাখ ৯৪ হাজার, লিবরা ইনফিউশনের ১৫ লাখ ২ হাজার, রেনউইকের ২০ লাখ, মুন্নু স্ট্যাফলার্সের ২০ লাখ ৭০ হাজার, এ্যাম্বি ফার্মার ২৪ লাখ, সোনালী আঁশের ২৭ লাখ ১২ হাজার, ফার্মা এইডের ৩১ লাখ ২০ হাজার, জেমিনি সী ফুডের ৪২ লাখ ৭০ হাজার, বিডি অটোকারসের ৪৩ লাখ ২৬ হাজার, রেকিট বিনকিজারের ৪৭ লাখ ২৫ হাজার, কে এ্যান্ড কিউর ৪৯ লাখ ৩ হাজার, স্টাইলক্রাপ্টের ৫০ লাখ ৪৯ হাজার, আজিজ পাইপের ৫০ লাখ ৯৩ হাজার, এপেক্স ফুডের ৫৭ লাখ ৩ হাজার, আরামিট লিমিটেডের ৬০ লাখ, দেশ গার্মেন্টসের ৬০ লাখ ৪৬ হাজার, বঙ্গজের ৬৩ লাখ ১৫ হাজার, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের ৬৪ লাখ ৬১ হাজার, এনটিসির ৬৬ লাখ, এএমসিএল প্রাণের ৮০ লাখ, এপেক্স স্পিনিংয়ের ৮৪ লাখ, বিডি ল্যাম্পের ৯৩ লাখ ৭১ হাজার এবং রংপুর ফাউন্ড্রির ১ কোটি শেয়ার রয়েছে।