২৫ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৫০ বছর অবৈধ দখলে চাঁপাইয়ে পাউবো বাঁধ

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ বারঘরিয়া থেকে খালঘাট। দূরত্ব মাত্র সাড়ে তিন থেকে ৫ কিলোমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এটি একটি বাঁধ। ৫০ বছর ধরে এই বাঁধের তত্ত্বাবধানে পাউবো থাকলেও কোন দিন তারা উচ্ছেদ অভিযানে নামেনি। ফলে দুই ধারে গড়ে উঠেছে নানান ধরনের অবৈধ স্থাপনা। মূল্যবান ফলজ ও বনজ উদ্ভিদ রয়েছে কয়েক হাজার।

বারঘরিয়া অংশ নানাভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। কোথাও ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে মহিলা নাম দিয়ে মাদ্রাসা তৈরি করছে। যার আড়ালে রয়েছে বিভিন্ন খাদ ও গর্ত। মাটি ভরাট করে এসব খাদকে প্লটে রূপান্তরিত করে চলেছে। এদের অধিকাংশের ইট ভাটা রয়েছে। ইট তৈরিতে তারা মাটি কেটে বড় বড় গর্ত করেছিল। এখন সে সব ভরাট করে প্লট তৈরি করে বিক্রি করছে। পাশাপাশি বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। কোন বড় ফলদ গাছকে নাড়া করে ডাল কেটে নেয়া হচ্ছে। বহু বড় বনজ গাছ কেটে নিয়ে গেছে দস্যুরা। তারা এখন গাছের ব্যবসায় নেমেছে। কোনটা আবার টিন দিয়ে ঘিরে নিয়ন্ত্রণে নেবার চষ্টো করছে। এই বাঁধের মধ্যখানে রয়েছে একটি স্লুইস গেট। যা মরিচার দাড়া নামে পরিচিত। এই দাড়া বা স্লুইস গেটে মাটি রয়েছে ৫০ একরের অধিক। যার অধিকাংশ দখল হয়ে গেছে কিংবা লিজ দিয়ে পয়সা কামাচ্ছে পাউবোর এক শ্রেণীর কর্মচারী।

তাছাড়া বর্ষা ও বন্যা নামলেই মহানন্দা নদী থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ ভাতার মারির বিলে প্রবেশ করে। এই মাছের সিংহভাগ টাকা চলে যায় এক শ্রেণীর কর্মচারীর পকেটে। এছাড়াও অধিকাংশ জায়গা দখলে নিয়েছে ইটভাঁটির মালিক ও বালু মৌজুদকারীরা। তারাও টাকা দিচ্ছে। এখানে শ্রমিকদের একটি পাকা স্থাপনা রয়েছে। যা বর্তমানে দখলে নিয়ে বেসরকারী ভাটার শ্রমিকরা থাকে। স্লুইস গেটের উজানে খালগাট পর্যন্ত যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তার সংখ্যা কয়েকশ। গাছও রয়েছে কয়েক হাজার। এসব স্থাপনার অধিকাংশ পাকা। একই ভাবে বারঘরিয়ার কাছাকাছি বাঁধের দুই ধারে একটি মার্কেট রয়েছে। যার অধিকাংশ বেদখল হয়ে গেছে। এখানেও বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে দিব্যি ভাড়া খাচ্ছে জনসাধারণ। ভাগ রয়েছে পাউবোর কর্মচারীদের। এসব বাঁধ কেটে চওড়া রাস্তা বানিয়েছেন অধিকাংশ নিচের জমির মালিকরা। কোথাও কোথাও এই রাস্তা দেখিয়ে প্লট বিক্রি হচ্ছে বাড়ি করার নামে। বাঁধের ওপর একটি পাকা সড়ক চলে গেছে খালঘাট পর্যন্ত। খালঘাট অংশের ক’টি সড়ক সংস্কার না করায় পানি জমে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাউবো নির্মাণের পর এসব বাঁধের সংস্কার কিংবা পাকা সড়কের কোন ধরনের মেরামত করেনি।

বর্তমানে এই বাঁধ নিয়ে পাউবো বড় ধরনের বাণিজ্যে নেমেছে। তারা এখন লিজের ব্যবসা করছে। পাউবোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললেই একটি সান্ত¦না বাক্য প্রয়োগ করে থাকে। শীঘ্রই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। তবে বারঘরিয়া অংশে ইদানীংকালে কিছু উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এরা গরিব হওয়ায় বাৎসরিক কিস্তি দিতে পারে না বলে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু যারা পাকা স্থাপনা করে রয়েছে তাদের কিছু বলা হয় না। অবিলম্বে বাঁধটি পুনরুদ্ধার করে সংস্কার করা না হলে এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

নির্বাচিত সংবাদ