২৫ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুরে রাধাকৃষ্ণপুর কলেজের ৩ মাস বেতন বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর, ২১ মার্চ ॥ কলেজ পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিন মাস যাবত বেতনভাতা পাচ্ছেন না রংপুর মহানগরীর রাধাকৃষ্ণপুর অনার্স কলেজের ৫২ শিক্ষক-কর্মচারী। এজন্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়ী করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা । জানা গেছে, তিন মাস আগে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে এই কলেজে ৫ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। কলেজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ৫ সদস্যের কমিটির চারজনই এখনও নির্ধারিত হয়নি। এডহক কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। বেতন না পাওয়ায় এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ওই কলেজের অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমানকে বিভিন্ন অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজ পরিচালনা করে আসছেন ওই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন। আর এডহক কমিটি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ওই কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। জানা যায়, অনুমোদিত এডহক কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও কলেজের অধ্যক্ষ সচিব (পদাধিকার বলে) এবং একজন দাতা সদস্য, একজন বিদ্যোৎসাহী ও একজন শিক্ষক প্রতিনিধি থাকার কথা। কলেজের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন কমিটি গঠনে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন না। কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এডহক কমিটির সভাপতি নিয়ে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমান ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন একমত হলেও কমিটির সচিব কে হবেন তা নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, মশিয়ার রহমান দীর্ঘ তিনবছর ধরে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন । তিনি তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার ও কমিটির সচিব হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন তার পদ ছাড়তে নারাজ। দুজনই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) দেলওয়ার হোসেন বলেন, আমরা একটি কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করছি। মামলা সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রুহুল আমিন মিঞা বলেন, গত সপ্তাহে কমিটির বিষয়ে আলোচনার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে ডাকা হয়েছিল।