২৩ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাজীপুরে বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরে বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধ না করে এক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা অবস্থান ও বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-গাজীপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে। পুলিশ সন্ধ্যায় লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ওই সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

কারখানার সহকারী (উৎপাদন) ব্যবস্থাপক মোঃ আবু তসলিম জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গেটের পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুরা এলাকার ইন্ট্রামেক্স গ্রুপ পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৮-৯ মাসের বেতন এবং শ্রমিকদের ৩ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের কয়েক দফা তারিখ ঘোষণা করেও তা প্রদান করেনি। সর্বশেষ শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধের জন্য বুধবার নির্ধারণ করে ঘোষণা দেয়। কিন্তু বুধবার শ্রমিকরা তাদের পাওনাদির জন্য কারখানার গেটে অপেক্ষা করতে থাকে। দিনভর অপেক্ষার পর বিকেলে কর্তৃপক্ষ কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধ না করে পরদিন বৃহস্পতিবার পরিশোধের ঘোষণা দিয়ে পুনরায় তারিখ নির্ধারণ করে। শ্রমিকরা কারখানা এলাকা ত্যাগ করার পর গভীর রাতে ওই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে নোটিস গেটে টানিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ আশ্বাসের প্রেক্ষিতে পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা হতে ওই কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের পাওনাদির জন্য কারখানার সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। এ সময় কারখানায় গিয়ে ফটকে তালা ও কারখানা বন্ধের নোটিস দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ সময় তারা কারখানার গেটে অবস্থান নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধ না করে এক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে সকাল ৮টার দিকে তারা মিছিলসহ কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-গাজীপুর সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীরা সড়কের উপর বসে ও শুয়ে পড়ে অবরোধ তৈরি করে। তারা কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করে। এতে ওই সড়কে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় দিকে আটকা পড়ে ওই সড়কের চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে জেলা শহরের শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। গাড়ি থেকে অনেক যাত্রীদের হেঁটে বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরতদের বুঝিয়ে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু শ্রমিকরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচী রাখে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে আন্দোলনরতদের ছত্রভঙ্গ করে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। কারখানার কর্মচারী ও শ্রমিকরা জানায়, কারখানা শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধের কয়েক দফা আশ^াস দিলেও কর্তৃপক্ষ তা রক্ষা করেনি।