২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবেশ বাঁচাবে প্রযুক্তি

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে মানবসভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে, সহজ হচ্ছে দৈনন্দিক জীবন। কিন্তু একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে

পরিবেশ দূষণ, বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে পৃথিবী। এই সমস্যার সমাধানেও কিন্তু ভূমিকা রাখছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। চলুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু পরিবেশবান্ধব আবিষ্কারের

কথা। লিখেছেন- মীম নোশিন নাওয়াল খান

সি-বিন

সি-বিন মূলত একটি স্বয়ংক্রিয় রিসাইকেল বিন, যা সমুদ্রের আবর্জনা পরিষ্কার করে। সমুদ্র, নদী বা হ্রদ-যে কোন জায়গায় এটিকে স্থাপন করা যায়। বৈদ্যুতিক শক্তির সাহায্যে সি-বিন সমুদ্রের পানি থেকে আবর্জনা ছেঁকে নিয়ে পানিটা আবার সমুদ্রে ফিরিয়ে দেয়।

স্মার্ট সোলার প্যানেল

সোলার প্যানেল লাগানো থাকবে বাসাবাড়ির ছাদে আর তা শক্তি সঞ্চয় করবে সূর্যের আলো থেকে-এই ধারণা পাল্টে দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। চীনের গবেষকরা এমন এক ধরনের সোলার প্যানেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন যা বৃষ্টির পানি থেকে শক্তি সঞ্চয় করবে, এবং এই সোলার প্যানেল দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক বলছেন, খুব শীঘ্রই তারা স্মার্টফোনের স্ক্রিন এবং জানালার কাচের সোলার

প্যানেল স্থাপন করবেন।

পানি বিশুদ্ধকরণ স্ট্র

লাইফস্ট্র নামক এই স্ট্র-এর মাধ্যমে আপনি নিজেই দূষিত পানিকে বিশুদ্ধ করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে কোন আলাদা পরিশ্রম করতে হবে না। এই স্ট্র-এর মাধ্যমে দূষিত পানি মুখে টেনে নিলেই তা বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। এর কার্যপদ্ধতিটা বেশ চমকপ্রদ। লাইফস্ট্র তৈরিতে আঁশযুক্ত সরু পর্দা ব্যবহার করা হয়। যখন দূষিত পানি এর মাধ্যমে মুখে টেনে নেয়া হয়, তখন উচ্চ চাপে পানির ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান সরু পর্দায় আটকে পড়ে এবং পাত্রের দূষিত পানিতে ফিরে যায়, আর এই সঙ্গে মুখে টেনে নেয়া পানি হয়ে যায় ৯৯.৯৯% বিশুদ্ধ।

হোম বায়োগ্যাস

হোম বায়োগ্যাস এমন একটি যন্ত্র যা রান্নাঘরের আবর্জনা থেকে গ্যাস তৈরি করে। এই যন্ত্রের ভেতরে যে কোন ধরনের ফেলনা খাবার, শাকসবজি বা ফলের খোসা ফেললে এর মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া সেগুলোকে গ্যাসে পরিণত করে। সেই গ্যাস আবার সরাসরি পৌঁছে যায় রান্নাঘরের চুলায়। এভাবে দিনে তিন ঘণ্টা রান্না করার মতো গ্যাস উৎপাদন

করতে পারে হোম বায়োগ্যাস।

এয়ার ইঙ্ক

গাড়ির কালো ধোঁয়া আর দূষিত করবে না পরিবেশ। এমআইটির গ্র্যাভিকি ল্যাব এমন এক প্রযুক্তি তৈরি

করেছে যার মাধ্যমে যানবাহনের ধোঁয়ায় থাকা

কার্বন-ডাই অক্সাইড থেকে কার্বন সংগ্রহ করা

হয় এবং তা দিয়ে তৈরি করা হয় উচ্চমানের

কালি। এই কালি দিয়ে তৈরি হচ্ছে কলম,

ছবি আঁকার রং, মার্কার পেন ইত্যাদি।

উদ্ভিদভিত্তিক প্লাস্টিক

ইন্দোনেশিয়ার কেভিন কুমালা ও তার পার্টনার মিলে ক্যাসাভা নামক সবজি থেকে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন প্লাস্টিক ব্যাগ। তবে এই ব্যাগের বিশেষত্ব হচ্ছে, এগুলো পচনশীল। এই দুই ইন্দোনেশিয়ান ব্যক্তি মিলে ২০১৪ সালে শুরু করেন তাদের কোম্পানি ‘আভানি ইকো’। এই কোম্পানিটি ক্যাসাভা-প্লাস্টিকের তৈরি খাবারের প্যাকেট ও হাসপাতালের বেড কভার বাজারজাত করে।

ওয়াটার ব্লব

পানি বাজারজাত করায় যে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহৃত হয়, তা পরিবেশ দূষণের জন্য অনেকাংশেই দায়ী। তাই এই সমস্যার সমাধানে কয়েকজন গবেষক মিলে তৈরি করে ফেলেছেন ছোট্ট একটি পানির বল। এই বলে স্ফেরিফিকেশন পদ্ধতিতে পানি রাখা হয় এবং এটি এক ধরনের সামুদ্রিক উদ্ভিদ থেকে তৈরি পদার্থ দিয়ে আবৃত। মুখে দিয়ে চাপ দিলেই বেরিয়ে আসবে বিশুদ্ধ পানি।

গাছ রোপণকারী ড্রোন

মানুষ নয়, ড্রোনই এখন গাছ রোপণ করবে! যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি বায়োকার্বন ইঞ্জিনিয়ারিং এমনই একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। মাটির ছয় ফুট উপর থেকে ড্রোন উড়তে উড়তে মাটিতে এমন বেগে বীজ স্প্রে করবে যে সেগুলো মাটিতে রোপণ হয়ে যাবে।

নির্বাচিত সংবাদ