২৪ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘুরে দাঁড়ানো এক নারীর কথা

  • ফেরদৌসী পপি

একটি ঝলমলে মঞ্চে প্রথমবারের মতো দাঁড়িয়ে মহিলাটি কোন কথাই বলতে পারছিল না। ব্যাপারটা যে ভয়ের একেবারেই তা নয়। বরং একদমই উল্টো, আপ্লুত চোখ এবং আবেগ মিশ্রিত কণ্ঠ বার বার তার বাক রোধ করে যাচ্ছিল। কিন্তু চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। অনেক্ষণ পর কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলেন, আজ যেন আমি নতুন জীবনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি, মনে হচ্ছে অনেক দিন পর প্রাণ ভরে শ্বাস নিচ্ছি। কথাগুলো মঞ্চে উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। তার সঙ্গে অন্যরাও যেন এক আবেগময়তায় ভাসতে থাকে। নীরবতা ভেঙ্গে মুহূর্তেই করতালিতে উদ্ভাসিত হয় ছোট্ট সে অডিটরিয়ামটি। আর হবেই বা না কেন? এ তো এক উজ্জীবিত নারীর কথা যা অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে অনেককেই। নাম তার আসমা বেগম, জীবনযদ্ধে একজন সাহসী যোদ্ধা।

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে দিন আনি দিন খাই, অনেক সময় এ প্রবাদও যেন মিথ্যা হয়ে যায়। যেমনটা ঘটেছে আসমা বেগমের ক্ষেত্রে। স্বামীর একক উপার্জনে এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে যেন হিমশিম খাচ্ছিলেন। দিন আনি দিন খাই সে অবস্থাতেও ছিলেন না। পড়াশোনা করেছেন একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। স্বামীকে সহযোগিতা করতে নিজে কিছু করার চিন্তা করছিলেন বহুদিন। কিন্তু পুঁজির অভাবে কখনই সেভাবে আর সাহস করে উঠতে পারেননি। অবশেষে দেখলেন আলোর মুখ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আরবান নেইবারহুড ডেভেলপমেন্ট পাশে এসে দাঁড়ায়। জানতে চায় আসমা বেগম কি ধরনের কাজ করতে বা ব্যবসা করতে ইচ্ছুক। সব বিবেচনা করে আসমা বেগম কাপড়ের ব্যবসা করতে সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যবসা করার প্রাথমিক পুঁজি ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহায়তায় নেইবারহুড পৌঁছে দেয় আসমা বেগমের হাতে। কঠোর পরিশ্রমের গুণে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকে ব্যবসা। কাপড়ের ব্যবসা করার অন্যতম কারণ হলো টেইলারিংয়ে আসমা বেগমের হাত বেশ দক্ষ। সে ভালবাসা থেকেই কাপড়ের ব্যবসায় আসা। ব্যবসার গতি বৃদ্ধি করতে তাকে একটি সেলাই মেশিন দিয়ে সহযোগিতা করে নেইবারহুড। ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে তখন থেকেই। কারণ কাপড়ের ব্যবসা এবং টেইলারিং যেন একে অপরের পরিপূরক। যে কারণে সমীকরণ দুয়ে দুয়ে চার হতে সময় লাগেনি। কাপড় বিক্রির পাশাপাশি চলতে থাকে পোশাক তৈরির কাজ। অল্প পুঁজির ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এমন কি এক বছরের মাথায় ভাল একটি ফলাফল নিয়ে আসতে সক্ষম হন আসমা বেগম। বর্তমানে নিজের ব্যবসায় বেশ ব্যস্ত আসমা বেগম। বিশেষ করে ঈদ বা পার্বণে যেন দম ফেলার সময় পান না। নিজের ব্যবসায় আয় দিয়ে সংসার চালাতে এখন তেমন আর বেগ পোহাতে হয় না। তাকিয়ে থাকতে হয় না স্বামীর রোজগারের দিকে।

সাধারণত নিজের ভাগ্য চাকা ঘুরিয়ে নিতে অনেকেই লম্বা সময় পার করে দেয়। কিন্তু আসমা বেগম অনেকটাই ব্যতিক্রম। এক বছরে নিজের ঐকান্তিক চেষ্টা এবং পরিশ্রম তাকে দেখিয়েছে সফলতার মুখ। তার এ ঘুরে দাঁড়ানো গল্প শোনার জন্য আরবান নেইবারহুড ডেভেলপমেন্ট আয়োজন করেছিল এক অনুষ্ঠানের। সেখানে তাকে উপস্থাপন করা হয় সফলতার পথে হাঁটা এক নারীর দৃষ্টান্ত হিসেবে। পুরস্কৃত করা হয় তাকে। পুরো দৃশ্যপটই ছিল অনুপ্রেরণার গল্পে ভরা। যা অন্যান্য সুবিধা বঞ্চিত নারীদের যুগিয়েছে অনুপ্রেরণা।