২৫ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চারদেশীয় ট্রেন চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু

  • বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা রুট

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ২২ মার্চ ॥ বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা রুটে চারদেশীয় ট্রেন শীঘ্রই চলাচল করবে। এই ট্রেন পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ বছরেই ২শ’ মিটারগেজ রেলওয়ে কোচ সংযোজন করা হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে রেলমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন। এই কোচগুলোর মাধ্যমে আমাদের রেলওয়েতে যে ঘাটতি আছে ও চাহিদা রয়েছে তা মেটানো সম্ভব হবে। এছাড়া আগামী বছরের মধ্য সাড়ে ৫শ’ নতুন কোচ সংযোজন করা হলে সারাদেশে যে চাহিদা রয়েছে তা আমরা পূরণ করতে পারব। বন্ধ থাকা সব রেললাইন ফের চালু করা হবে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও আধুনিক করতে রেলকে ঢেলে সাজানের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিনি ভারত বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলের সম্ভাব্যতা ও চারদেশীয় ট্রেন চলাচলের সম্ভবতা যাচাই করতে শুক্রবার দুই দিনের সফরে এসে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে এদিন সকালে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলস্টেশনে পৌঁছান। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এর পর কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি শেষে আবারও লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ‘শাটল’ ট্রেনে চড়ে পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। বুড়িমারীতে মাত্র এক হাজার মিটার গেজ রেললাইন পুনর্স্থাপন করলে ভারতের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ শুরু করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

এদিকে চারদেশীয় বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় স্থলবন্দর ব্যবসায়ীসহ এ অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা। রেলপথমন্ত্রী বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় পাঁচ শ’ গজ ভেতরে ভারতের অভ্যন্তরে চ্যাংরাবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পরিদর্শন করবেন।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ মতিয়ান রহমান জানান, রেলমন্ত্রীর কাছে লালমনিরহাটবাসী ও রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার মোহাম্মদ শফিকুর রহমান রেলওয়ের উন্নয়নকল্পে কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবিসমূহ লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের ওপর দিয়ে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ, তিস্তা কাউনিয়া রুটে একটি রেলওয়ে সেতু নির্মাণ, মোগলহাট রেলওয়ে রুট চালু, তিনবিঘা করিডোর এক্সপ্রেস ট্রেন চালু, দুটি ইঞ্জিনসহ নতুন দুটি রেলওয়ে কোচের ডেকার চালু ও বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে মালবাহী ট্রেন চালুর দাবি তুলে ধরেন। মন্ত্রী এ সময় জানান, সরকারের পরিকল্পনায় এইসব আছে। তাহা পর্যায় ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলওয়ের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আগামীতে এসব দৃশ্যমান হতে শুরু করবে। তখন রেলওয়ে আরও নিরাপদ হবে।

এদিকে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ শওকত জামিল মোহসী জানান, মন্ত্রীর বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা রুট সফর সম্পর্কিত বিষয়টি বিজিবি-বিএসএফের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা চলছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ‘তিনবিঘা করিডোর এক্সপ্রেস’ নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুত বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ঢাকা অভিমুখে চলার বিষয়টিও মন্ত্রীর নিশ্চিত করবেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, রেলমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন, লালমনিরহাট এক আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সাবেক নারী সংসদ সদস্য সফুরা বেগম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শফিকুর রহমানসহ রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে জানান, রেলমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বর্তমান সরকার সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের অংশ হিসেবে রেলপথের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। রেলওয়েকে তার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সব এলাকাকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বছরের মধ্যে সাড়ে ৫শ’ কোচ ও এক শ’ ইঞ্জিন আমদানি করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে কুড়িগ্রাম ও রমনা স্টেশন পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাফর আলী, জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মোঃ মেহেদুল করিম ও রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচিত সংবাদ