২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঠিক পথে আছে বিএনপি ॥ আমির খসরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি সঠিক পথে আছে জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে বিএনপি যেভাবে চলছে সেটাই সঠিক পথ। অতীতেও বিএনপি এভাবে চলে এসেছে আগামীতেও এমনভাবেই চলবে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহিলা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতায় সুখী দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ ১০ ভাগ নিচে নেমে গেছে।

খসরু বলেন, দেশের জনগণ তাদের মালিকানা বারবার আদায় করেছে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কেউ যদি মনে করে তারা গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে দেবে, তাহলে তারা বোকার রাজ্যে বসবাস করছে। দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। তাকে মুক্ত করে আবার জয়ের পথে ফিরে যেতে হবে।

খসরু বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সেটার আন্দোলন কী হবে, কর্মসূচী কী হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। আমাদের অনেকে বলেন, রোজার পরে, ঈদের পরে নাকি আন্দোলন হবে। আন্দোলন কখনও বলে-কয়ে হয় না। পানি যেমন তার গতি বেছে নেয়, আন্দোলনও তার গতি বেছে নেয়। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে আন্দোলন হবে সে আন্দোলন বলে-কয়ে আসবে না। আন্দোলন আসবে, দেশ মুক্ত হবে, খালেদা জিয়াও মুক্ত হবে।

আমির খসরু বলেন, যারা বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলেন তাদের উদ্দেশে বলছি বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সেটা এখন চিন্তার বিষয়। কারণ, তারা আবার এ দেশের মানুষের কাছে কিভাবে ফিরে যাবে, সে চিন্তা করতে হবে। তারা অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেছে। এর উত্তর একদিন দেশের মানুষকে দিতে হবে। জবাব দিতে হবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন তারা কীভাবে ফিরিয়ে দেবে?

খসরু বলেন, বিএনপির পথ গণতন্ত্র মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার পথ। এ পথ থেকে বিএনপি বিচ্যুত হয়নি, সামনেও হবে না। যারা বিচ্যুত হয়েছে তারা কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে এটাই হচ্ছে আজকের আলোচ্য বিষয়। যতদিন দেশে গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন না হয়, আইনের শাসন ফিরে না আসে, বাকস্বাধীনতা ফিরে না আসে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে না আসে, মৌলিক অধিকার ফিরে না আসে, আমরা আমাদের পথে চলব। এটাই জয়ের পথ, ন্যায়ের পথ, জনগণের পথ।

জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কবির মুরাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়য়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।

আলোচনা সভায় শামসুজ্জামান দুদু বলেন, রাজপথে লড়াই ও রক্ত দেয়া ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে, উঠে না দাঁড়াতে পারলে আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব না। তবে কালকে আমার নামে মামলা হতে পারে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য এমন উস্কানি দিয়েছিলেন মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সত্য কথা হচ্ছে হরতাল ছাড়া এ দেশে গণতন্ত্র আসেনি, হরতাল ছাড়া আইয়ুব খানকে এ দেশ থেকে উৎখাত করা সম্ভব হয়নি।

দুদু বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক মামলায়, প্রতিহিংসার কারণে জেলখানায় রাখা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি আন্দোলন করবেন আর শেখ মুজিবকে মানবেন না তা হবে না। আর ভাল শাসক হতে হলে আপনাকে জিয়াউর রহমানকে মানতে হবে। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লড়াই আমাদের একটা করতে হবে। তবে আমরা খালি নিজেদের বিরুদ্ধে, পরস্পরের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলছি। আসুন ঐক্যবদ্ধ হই, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি।

সরকারের ব্যর্থতায় সুখী দেশের তালিকায় দেশ নিচে নেমেছে- মঈন খান ॥ উন্নয়নের কথা বললেও সরকারের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ সুখী দেশের তালিকা থেকে ১০ ভাগ নিচে নেমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মহিলা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগসহ দেশের সব সেক্টর এই সরকার দখল করেছে এবং আওয়ামী লীগের নির্দেশেই খালেদা জিয়াাকে আটক করে রাখা হয়েছে।

মঈন খান বলেন, এই সরকার জনগণের ওপর অলিখিত বাকশাল কায়েম করে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু তারা চিরদিন এটা করতে পারবে না। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ, স্বাধীনতাকামী মানুষ এর প্রতিবাদ করবেই। তিনি বলেন, ক’দিন আগে একটি কথা শুনেছি বাকশালের মাধ্যমে নাকি গণতন্ত্র হয়। আমার প্রশ্ন পৃথিবীতে যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বই লিখেছেন তারা কি সেই বই বাতিল করে নতুন করে বই লিখবেন বাকশাল এর মাধ্যমে গণতন্ত্র হয় বলে।

মঈন খান বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশে পুনরায় তাঁর নেতৃত্বেই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। জিয়াাউর রহমান বাকশাল থেকে এদেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোন দিন এদেশে গণতন্ত্র চায়নি। তারা চেয়েছে একদলীয় শাসন। ১৯৭৫ সালে তারা বাকশাল কায়েম করেছিল। কিন্তু দেশের মানুষ সেটা গ্রহণ করেনি।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, রোকেয়া চৌধুরী তামান্না, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সামসুন্নাহার প্রমুখ।

খালেদার মুক্তির দাবিতে রিজভীর মিছিল ॥ কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানীতে মিছিল করেছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের কিছু নেতাকর্মীকে নিয়ে মিছিল করেন তিনি। মিছিলটি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর সরকার প্রমুখ।