১৮ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রডের বদলে বাঁশ নয়

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা আগামী বাংলাদেশের যথার্থ নির্মাতা। তাদের মেধা, মনন ও অর্জিত জ্ঞান নতুন বাংলাদেশ গড়ার নিয়ামক শক্তি। টেকসই উন্নয়ন এবং অগ্রগতির ধারাকে জনকল্যাণে নিবেদন করতে সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জনবান্ধব সমাজ তৈরিতে ভূমিকা পালন করে যেতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির অব্যাহত গতিপ্রবাহে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে গেলে দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকা সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য মোঃ আবদুল হামিদ স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন আবেদন জানান। বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০২১ এবং ২০৪১ এর মহাপরিকল্পনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তৈরিতে যেমন স্বপ্ন তুলে ধরা হয়েছে, তাকে সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের লব্ধ জ্ঞান যথার্থভাবে প্রয়োগ করতে হবে। নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার পৃথিবীব্যাপী যে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে পরিকল্পিত ধারায় এগিয়ে দিচ্ছে, সেখানে নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদেরও যুগান্তাকারী ভূমিকা রাখতে হবে। স্নাতক ডিগ্রী আয়ত্ত করা নতুন প্রকৌশলীদের তিনি মনে করিয়ে দেন অবকাঠামো উন্নয়নে বহুতল ভবন, সেতু, কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার ঘটনা মাত্র কিছুদিন আগের। তেমন ন্যক্কারজনক কর্মকা- আর যেন আমাদের দেখতে না হয়। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী তৈরি করতে সরকারকে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। দেশীয় সম্পদে যাদের তৈরি করা হয়, জাতির প্রতি তাদেরও অনেক দায়-দায়িত্ব থাকে। বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাই ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় মনোনিবেশ করে। পরবর্তীতে তারা আরও উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পায়। এক সময় দেখা যায় অনেকেই আর দেশে ফিরে আসে না। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে নিজেদের নিবাস গড়ে তোলে। শুধু তাই নয়, তাদের মেধা ও মননের চমৎকার সৃজনদ্যোতনার অংশীদার হয় দেশ নয় বিদেশ। এমন বিষয়েও নতুন করে ভাববার অবকাশ রয়েছে বলে রাষ্ট্রপতি দৃঢ়ভাবে অভিমত ব্যক্ত করেন। দেশ ও মানুষের প্রতি শিক্ষিত প্রজন্মের যে দায়বদ্ধতা, তা কোনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। উচ্চতর শিক্ষার শীর্ষস্থানে পৌঁছে তার অর্জিত সম্পদ দেশ ও জাতির কল্যাণে বিনিয়োগ করার লক্ষ্য হওয়া উচিত সংশ্লিষ্টদের। স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সততা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত তৈরি করার অনুরোধ করেন। বিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রায় প্রকৌশলীদের সময়োপযোগী ভূমিকা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের চাবিকাঠি। সেই লক্ষ্যে নীতিনিষ্ঠতা, আদর্শবোধ, মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে জনবান্ধব দেশ তৈরিতে অনন্য অবদান রাখতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশ যাতে কোনভাবে পিছিয়ে না পড়ে সে দিকেও সচেতন দৃষ্টি নিবদ্ধ করা সংশ্লিষ্টদের অন্যতম দায়বদ্ধতা। নবীন প্রকৌশলীদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে রাষ্ট্রপতি নিজের চাইতেও দেশের প্রতি বেশি দায়িত্বশীল হতে পরামর্শ দেন। সততাই সাফল্যের চাবিকাঠি। আর এই সফলতা ক্ষুদ্র ব্যক্তিক জীবনকে অতিক্রম করে যেন বৃহত্তর সামাজিক আঙিনায় বিস্তৃতি লাভ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।