১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা

  • বিষয় ॥ বাংলা প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক :

মধুমতি একটি অবহেলিত গ্রাম। জনসংখ্যা কম নয়। তবু শিক্ষার হার কম হওয়ায় এগোতে পারছে না গ্রামটি। রশিদ সাহেব গ্রামের অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য গ্রামবাসীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হলেন। গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রামে পরিণত করলেন। রশিদ সাহেব আজ নেই, তবু মধুমতি গ্রামের প্রতিটি মানুষ তাঁকে তাঁর কীর্তির জন্য শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।

ক. চির শিশু শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : চির শিশু শব্দের অর্থ হলো চিরকাল যে শিশুর মতো সহজ, অকৃত্রিম ও মমতাময়।

খ. মুজিব আয় ঘরে ফিরে আয়- এই বাক্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মুজিব আয় ঘরে ফিরে আয় মুজিব কবিতার এই বাক্যের তাৎপর্য হলো-যত দিন বাঙালি থাকবে, তত দিন তারা বঙ্গবন্ধুকে কাছে পাওয়ার জন্য আকুল হবে।

কারণ বঙ্গবন্ধুর জন্যই আজ আমরা স্বাধীন রাষ্ট্রে বাস করছি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তাঁর একক নেতৃত্বই জাতির মনে জাগিয়েছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। তাঁর অশেষ অবদানের কথা স্মরণ করে বাঙালি যত দিন বেঁচে থাকবে, তত দিন তাদের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হবে।

গ. বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে মুজিব কবিতার ভাবগত দিক তুলে ধরো।

উত্তর : উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে মুজিব কবিতার ভাবগত সাদৃশ্য হলো দেশ প্রেম।

উদ্দীপকের রশিদ সাহেব মধুমতি গ্রামের শিক্ষাসহ সব ধরনের অধিকারবঞ্চিত গ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রামে পরিণত করেন।

মুজিব কবিতার শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানি স্বৈরাচারীদের শাসন- শোষণ, অত্যাচার, হত্যা ও রক্তপাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। তাঁর একক নেতৃত্বই জাতির মনে জাগিয়েছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, মুক্তি-সংগ্রামের প্রেরণা। তাঁর আহ্বানে ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কিছু ষড়যন্ত্রকারী পাকিস্তানি দোসর ছাড়া সমগ্র জাতি অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীন করে। স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু জন্মভূমি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং আত্মনিয়োগ করেন তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে। উপযুক্ত বক্তব্যই উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. মধুমতি গ্রামটি যেন মুজিব কবিতার স্বাধীন বাংলার কথাটির সার্থকতা প্রমাণ করে।

উত্তর : মধুমতি গ্রামটি যেন মুজিব কবিতার স্বাধীন বাংলা মন্তব্যটি যথার্থ।

কারণ উদ্দীপকের রশিদ সাহেব একক প্রচেষ্টায় মধুমতি গ্রামের শিক্ষার অধিকারবঞ্চিত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রামে পরিণত করেন। তাঁর অবর্তমানেও গ্রামের সবাই তাঁর কীর্তির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

‘মুজিব কবিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেমের কথা কবি রোকনুজ্জামান খান গভীর মমতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। আমাদের জীবনের সব স্তরে প্রতিমুহূর্তেই তাঁর উপস্থিতি অনুভব করা যায়। সবুজ শ্যামল বাংলার মাঠ-নদীতীর বালুচরে তাঁর উপস্থিতি, সোনালি ফসল ভরা মাঠ দেখে মনে হয় মুজিবের হাসি। আবার শিশুদের কলহাস্যে বাঙালির ঘর যখন আনন্দ মুখর হয়ে ওঠে, তখন তাঁদের মাঝেই চিরশিশুরূপে মুজিবকে খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি এই স্বাধীন দেশের স্থপতি, জাতির জনক। এই দেশকে ভালোবাসতেন বলেই তিনি সংগ্রাম করেছেন। তাঁর একক নেতৃত্বই জাতির মনে জাগিয়েছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, মুক্তি সংগ্রামের প্রেরণা। সোনার বাংলা গড়ার কাজে মৃত্যুর পূর্বমুহূত পর্যন্ত তিনি আত্মনিয়োগ করেছেন। তাই যত দিন বাঙালি থাকবে, তত দিন তারা বঙ্গবন্ধুকে কাছে পাওয়ার জন্য আকুল হবে।

-শিক্ষাসাগর ডেস্ক