২৪ মার্চ ২০১৯

পণ্যভিত্তিক ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব আইসিএবির

পণ্যভিত্তিক ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব আইসিএবির

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পণ্য ভিত্তিক ভ্যাটের হার নির্ধারণ করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সাবেক প্রসিডেন্ট হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সবার জন্য এক ভ্যাট হার কার্যকর করলে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কোন পণ্যর উপর ১৫ শতাংশের বেশি আবার প্রকারভেদে ১০ শতাংশের কম ভ্যাট হার কার্যকর করলে দীর্ঘস্থায়ীভাবে দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে।

রবিবার রাজধানীর কাওরানবাজারের সিএ ভবনে' আগামী জাতীয় বাজেটের উপর চার্টার্ড একাউন্টেন্টদের ভাবনা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সাবেক প্রসিডেন্ট হুমায়‚ন কবির বলেন, আমাদের ৫ বছর দীর্ঘমেয়াদী দেশের অর্থনীতির কথা ভাবতে হবে। এইজন্য করপোরেট কর কমিয়ে আনতে হবে। এতে করে দেশে বিনিয়োগের হার বাড়বে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ কারীদের যদি করের ভয়ে বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করি তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে না। সবার আগে বিনিয়োগের কথা ভাবতে হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদনও বেশি হবে। চীনসহ অনেক উন্নত দেশ করপোরেট কর কমিয়ে দিয়ে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে।

করদাতার সম্পর্কে হুমায়ুন বলেন, ১৬ কোটির দেশে ১৬ লাখ মানুষ আয়কর রির্টান দাখিল করে। দেশ থেকে সবার আগে করের ভয় দূর করে করের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। এই জন্য রাজস্ব বোর্ড্ আরও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। ঢাকা শহরের বাহিরে যে পরিমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, সে পরিমান আয়করকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় নাই। এই জন্য সবার এক সাথে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, করের পরিধি বৃদ্ধি করতে পারলে, কর প্রদানকারীর আর্থিক চাপ কমবে। দেশের রাজস্ব^ বৃদ্ধি করতে হলে আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। এই জন্য রেট কমিয়ে পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়াও অগ্রীম ম‚সক করকে সহজীকরণ করতে হবে।

ভুয়া অডিট রিপোর্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ভুয়া এবং সঠিক অভয়ি রিপোর্ট জমা পড়ে। এই সঠিক রিপোর্ট চিহ্নিত করতে হবে। আমাদের কাছে অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখি। কোন ফার্ম যদি ভুয়া রিপোর্ট পেশ করে থাকে, তাহলে তার অডিট করার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। তবে যেহারে ভুয়া অডিট রিপোর্টের কথা বলা, আমরা সেভাবে প্রমাণ পায় না।

আগামী জাতীয় বাজেটের উপর চার্টার্ড একাউন্টেন্টদের ভাবনা ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) বর্তমান প্রেসিডেন্ট এ এফ নেসারউদ্দিন, সেক্রেটারি মেজর জেনারেল ইমরুল কায়েস (অব), টেকনিক্যাল পরিচালক মাহাবুব আহমেদ সিদ্দিকী, সদস্য স্নেয়াশিষ বড়ুয়া, কাউন্সিলর সদস্য ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, সদস্য রাকেশ সাহা, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিলর মেম্বার নাসির উদ্দিন আহমেদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন সেক্টরে করপোরেট কর ২ শতাংশ হ্রাস করার প্রস্তাব করে আইসিএবি বর্তমান প্রেসিডেন্ট এ এফ নেসারউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের করপোরেট কর অনেক বেশি। তাই ২ শতাংশ কর কমালে রাজস্ব আহরণের গতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ কর বেয়াতের জন্য বিভিন্ন প্রকার হিসাব করা হয় যা অত্যন্ত জটিল। তাই আয়ের ২৫ শতাংশের উপর সরাসরি ১৫ শতাংশ কর বেয়াত প্রদান করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশে ৩২ লাখ ইটিআইএন থাকলেও তার অর্ধেক আয়কর রির্টান দাখিল করে। এই জন্য সকল ইটিআইএন ধারীগণের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করার সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

নেসারউদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই তাদের আয়কে ৩৬ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখলে তারা এবং নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অধিকতর উৎসাহিত হবেন যা অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করবে। এছাড়াও টার্নওভার করের সীমা ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাতে উন্নীত করতে এবং তাদের ৩ শতাংশ কর ধার্যের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব করেন তিনি।

তিনি বলেন,২০১২ সালের মূসক আইন মোতাবেক প্রতিটি আপীল পর্যায়ে হাইকোর্ট আপীল দায়ের কালে ১০ শতাংশ অর্থ জমা রাখা রাখা হয়েছে যাহা অযৌক্তিক। তাই ১৯৯১ সালের বিধান রাখার প্রস্তাব করেন তিনি। রাজস্ব বৃদ্ধি করতে গবেষণা কার্যক্রমে আইসিএবি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নেসারউদ্দিন।

আইসিএবিইয়ের সদস্য স্নেয়াশিষ বড়ুয়া বলেন, ভারতে ২০১৭ সালে আগস্ট মাসে ৩ কোটির কিছু বেশি আয়কর রির্টান দাখিক করেছিল, কিন্তু ১ বছরের ব্যবধানে তা ৫ কোটি ৪ লাখে উন্নতি হয়। ভারতের মত আম,আমাদেরও একই ফলম‚লা কাজে লাগাতে হবে। তাহলে আমাদের রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে। এই জন্য আমাদের প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।

অন্যান্য বক্তরা ইসরাইয়েল উধাহরণ দিয়ে বলেন, ৯০ এর দশকে তারা তাদের দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে উদারনীতি গ্রহণ করে। কোন বিনিয়োগকারীগন যদি ৬০ টাকা বিনিয়োগ করতো তাহলে ইসরাইয়ল সরকার ৪০ টাকা বিনিয়োগ করত । তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সাথে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। তাই আমাদের দেশে কেও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার কোন বিকল্প নেই।