২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ব্রীজ আছে রাস্তা নেই

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ব্রীজ আছে রাস্তা নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ব্রীজ নির্মানের দেড় বছর অতিবাহিত হলেও দু’পাশে মাটি ভরাটসহ সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে চরম দূর্ভোগে পড়েছে উপজেলার ৭টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। নাগরপুর উপজেলা সদরে আসতে মরনফাঁদ অতিক্রম করতে হচ্ছে উপজেলা সদর ইউনিয়নের আলোকদিয়া, আন্দিবাড়ি, পানান, পাইশানা ও ভাদ্রা ইউনিয়নের কোদালিয়া, সিংদাইর, খাগুরিয়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে।

এলাকাবাসী জানান, আশেপাশের প্রায় ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরে আসার জন্য দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের নাগরপুর উপজেলার ভালকুটিয়া পাকার মাথা থেকে একটি পাকা রাস্তা ও নোয়াই নদীর উপর একটি ব্রীজ। নোয়াই নদীর উপর ব্রীজ নির্মিত হলেও দূর্ভোগ কমেনি এলাকাবাসীর। সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ব্রীজ নির্মিত হলেও তারা ব্রীজ ব্যবহার করতে পারছে না। তার উপর তাদের যে পায়ে হাটার রাস্তা রয়েছে সেটিও বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে।

নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৬ সালে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভালকুটিয়া থেকে আলোকদিয়া যাওয়ার পথে নোয়াই নদীর উপর ৭২.৬ মিটার ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরু হয়। মের্সাস দাস ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ বছর পর বিগত ২০১৭ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করে। ব্রীজ নির্মাণের পর ব্রীজের দু’পাশে ২০০ মিটার করে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও মাটি ভরাট করা হয়নি। চলাচলের বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ব্রীজের নিচ দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা চন্দনা আক্তার, রহিমা বেগম, আকলিমা আক্তার জানান, আগে ব্রীজ ছিল না তখন যেভাবে নৌকায় ও কাপড় ভিজিয়ে রাস্তা পাড় হয়েছি, ব্রীজ নির্মানের পরও একই অবস্থা। আলোকদিয়া গ্রামের আলম শিকদার জানান, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন করছে ব্যাপক হারে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, অবহেলা এবং সরকারী কর্মকর্তাদের উদাসীনতা বর্তমান সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে।

নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আলম হোসেন জানান, এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী ছিল ব্রীজ। কিন্তু ব্রীজ নির্মিত হলেও এর কোন সুফল আমরা পাচ্ছি না। রাস্তা না থাকায় রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত দুরহ হয়ে পড়েছে। মাটি ভরাটের কাজ নিয়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে জটিলতা বাধে। তারা অন্যের জমিতে বাংলা ড্রেজার লাগিয়ে বালু তুলতে গেলে জমির মালিক বাধা দেয়। এরপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাট না করেই চলে যায়।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী শাহীনুর আলম জানান, মামলা জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। আমরা নতুন করে মাটি ভরাটের জন্য টেন্ডার আহবান করবো। আর পাকা রাস্তা থেকে ব্রীজ পর্যন্ত একটি রাস্তার জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি।

নির্বাচিত সংবাদ