২২ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাইবান্ধার মো: মোফাজ্জল হক প্রধান সহ নয় রাজাকারের প্রতিবেদন চুড়ান্ত

গাইবান্ধার মো: মোফাজ্জল হক প্রধান সহ নয়   রাজাকারের প্রতিবেদন চুড়ান্ত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নয় বছর পুর্তির দিনে তদন্ত সংস্থা ৬৯ তম প্রতিবদেন চুড়ান্ত করেছে। তদন্ত সংস্থা মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মোফাজ্জল হক প্রধানসহ ৯ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছে মো. মোফাজ্জল হক প্রধান ওরফে মোফা (৮২), মো. সেকেন্দার আলী (৬৬), মো. আব্দুল করিম (৬৩), মো. ইসমাইল হোসেন (৭০), মো. আকরাম প্রধান (৬৮) ও মো. হাফিজার রহমান (৬৪) কারাগারে আছেন। পলাতক আছেন মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন ওরফে মো. সরফ উদ্দিন খান (৬৪), মো. সামছুল ইসলাম খান (৬৪) এবং মো. আব্দুল মান্নান (৬৪)। সোমবার রাজধানীয় ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ১৮১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মো. হান্নান খান। তদন্ত সংস্থা এর আগে আরো ৬৮টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এদিকে ৯ বছর পূর্তি উপল্েক্ষ ধানমন্ডিস্থ তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে কেক কাটেন সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান। এ সময় সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হকসহ অন্য তদন্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ২৫টি মামলায় ৪০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৮৪৪ জনের বিরুদ্ধে ৭৫৬টি অভিযোগ এসেছে। মোট মামলা ৯৩টি এবং এই মামলার আসামির সংখ্যা ২৯৭ জন।

এদিকে সোমবার গাইবান্ধার নয় রাজাকারের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণসহ মোট চারটি অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদন তুলে তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি শুরু হয়ে সোমবার এ মামলার তদন্ত কাজ শেষ হয়। তদন্তে মোট ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১০ মে থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামিরা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার কাটাবাড়ীর ইউনিয়নের ৭ ও ১০ নম্বর কাটাবাড়ী গ্রাম এবং মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর ও বালুয়া গ্রামে অপরাধ সংগঠন করেন।

তদন্ত সংস্থার সংবাদ সম্মেলনে সমমন্বক সানাউল হক বলেন , রাজাকার কমান্ডার মোফা একাত্তর সালে জামায়াতের নেতা হিসেবে গোবিন্দগঞ্জ থানার রাজাকার কমান্ডার নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আব্দুল করিম ১৯৭১ সালে জামায়াতের কর্মী হিসেবে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। তবে বর্তমানে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ।

এছাড়া শরীফ উদ্দিন, সামছুল ইসলাম খান, সেকান্দার, ইসমাইল, আকরাম, হাফিজার রহমান, আব্দুল মান্নান একাত্তর সালে জামায়াতের কর্মী হিসেবে রাজাকার বাহিনীতে ছিলো। বর্তমানে তারা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে চারটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো হলো-

প্রথম অভিযোগ :- ১৯৭১ সালের ১০ মে আসামিরা কাটাবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর কাটাবাড়ী গ্রামের শহীদ জিয়া মন্ডল , শহীদ মনা মন্ডল ও শহীদ ওমেছ মন্ডলকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন, জবাই করে হত্যা এবং লুণ্ঠন চালান। এরপর শহীদ জিয়া মন্ডলের ছেলে ভিকটিম আব্দুর রশীদ ও আব্দুল জোব্বার এবং কাঠালবাড়ী উত্তরপাড়ার মো. আজিজার রহমানকে আটক, অপহরণ ও নির্যাতন করেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ২২ জুলাই আসামিরা গাইবান্ধা বালুয়া গ্রামের মো. ইউনুস আলী আকন্দের বাড়িতে তার স্ত্রীসহ মোট দুইজনকে ধর্ষণ করেন।

তৃতীয় অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ৩ আগস্ট রাতে আসামিরা গোবিন্দগঞ্জের শ্রীপতিপুর গ্রামের শহীদ আব্দুল কাদের সরকার, শহীদ আব্দুস সোবহান আকন্দ ও শহীদ এমাদ উদ্দিন আকন্দকে আটক, অপহরণ, হত্যা ও শ্রীপতিপুর গ্রামের একজনকে ধর্ষণ করেন।

চতুর্থ অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর আসামিরা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ১০ নম্বর কাটাবাড়ী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলাল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শাহজালাল মিয়া ওরফে ঝালু মিয়াকে আটক, অপহরণ, হত্যা ও লুণ্ঠন করেন।