১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার জঙ্গীবাদ ও উগ্রবাদের জন্য বিশাল হুমকি

  • নাগরিক সংলাপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ ও সহিংসতার জন্য এখনো বড় সমস্যা হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবির। একই সঙ্গে সহিংসতা-উগ্রবাদ দূর করতে পরিবারভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র সহযোগিতায় ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তারা এসব কথা বলেন। ‘তারুণ্য রুখবে সহিংস উগ্রবাদ’ শীর্ষক এ নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সম্প্রীতি প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আইরিন বাশার রিফাত, ইসরাত পারভীন, মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ শায়লা মনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় লালমাটিয়া কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের বিতার্কিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে লুৎফল কবির বলেন, জঙ্গীবাদ হচ্ছে কারো দ্বারা প্ররোচিত ও প্রভাবিত এক অবয়ব মাত্র। শুধু এ দেশ নয় যে কোন দেশ দ্বারা এটি প্রাভাবিত হয়। এ পর্যন্ত দেশে যতটুকু সফলতা এসেছে তার সকল অবদান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা নয় জনগণের কারণেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে সহিংসতা ও উগ্রবাদ মোকাবেলায় আমরা তৃপ্ত নই। বর্তমানে জঙ্গীবাদের সহজলভ্য মাধ্যম হিসেবে তথ্য প্রযুক্তি কাজ করছে। এটি এখনও জঙ্গীবাদ ও উগ্রতার জন্য বিশাল সমস্যা। তাই উগ্রবাদ মোকাবেলায় তরুণদের নিয়ে কাজ করতে চাই। কারণ তরুণরাই পারে একমাত্র উগ্রবাদ ও সহিংসতামূলক জঙ্গীবাদ রুখতে। ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বাঙালীদের নেই। এই বাঙালী সত্তাকে সব সময় জাগ্রত রাখতে হবে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনের সাদৃশ্য রয়েছে। সে অনুসারে এই অপরূপ প্রকৃতির দেশে বাঙালী সত্তাকে সমন্বিত করলেই আমাদের সংবিধান সার্থক হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, সহিংসতা-উগ্রবাদ দূর করতে পরিবারভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষাকে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ ও সর্বশেষ রাষ্ট্রীয়ভাবে উগ্রবাদবিরোধী মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। উগ্রবাদ চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় না দিলে কোন দেশেই তথা বিশ্বের উগ্রবাদ শব্দটিই আর থাকবে না। যুগান্তর সম্পাদক বলেন, লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো উগ্রবাদীদের লালন পালন করে। তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশও উগ্রবাদের সূচনা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। আমাদের দেশের জনগণ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের তথা সরকারের বিষয়টি অপছন্দ বলেই এই উগ্রবাদকে দমন করা গেছে। ধর্মের বিষয়টি যদি রাষ্ট্র, সমাজ, গোত্রের বাইরে রাখতে পারি তাহলে এ ক্ষেত্রে আরও সফলতা আসবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সহিংস উগ্রবাদের মতো নিষ্ঠুর বাস্তবতা কোন রাজনৈতিক মতবাদ বা নির্দিষ্ট উদ্দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিসংখ্যান বলে, উগ্রবাদ সৃষ্টির কোন নির্দিষ্ট কারণ নেই। কেননা, একেক পরিস্থিতিতে একেকভাবে উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে। কোন ছকেই এই উগ্রবাদকে সরলীকরণ করা যাবে না।