২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয়তাবাদী সাইবার দল সভাপতি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রবিরোধী গুজব, অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি আশেক আহমেদকে (৪০)। সে সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা। রবিবার রাত ১১টার দিকে তেজগাঁও থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

এ সম্পর্কে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক এমরানুল হাসান সোমবার দুপুরে কাওরান বাজার সংবাদ সম্মেলনে জানান- আশেক তার ফেসবুক পেজে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর, বিতর্কিত ও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে। এছাড়াও তিনি জাতীয় নেতাদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে আশেক জানায়, ছাত্রজীবন থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে অধ্যয়নকালে বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে তিনি ইতালিতে চলে যান এবং ২০১৪ সালে দেশে এসে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আশেক নিজেকে নাটোর জেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি এবং নাটোর জেলা জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি বলে দাবি করছেন। ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সাইবার অপরাধী হিসেবে তাকে আটক করেছিল। এরপর মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান। তাকে এসব অপপ্রচারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি ইতালি থেকে ফিরে নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিত। এর আড়ালে তিনি এসব অপপ্রচারের লিপ্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়েছে।

এছাড়াও সে জ্ঞাতসারে জাতীয় নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে বিকৃত কুরুচিপূর্র্ণ মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করতেন। তার ফেসবুক পেজে পোস্টকৃত বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্তিতিশীল করা এবং জনসাধারণের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, ফেসবুকে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ছাড়াও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য সে সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের আত্মীয়, সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানের পরিচয়ে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণামূলক বিভিন্ন কাজে জড়িত ছিল। সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল অংকের টাকা উপার্জন করেছে। এছাড়াও মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সে দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ছবি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করত। তার পিতার নাম নাঈম উদ্দীন। বাড়ি পালপাড়া, বড়াইগ্রাম নাটোর। বর্তমানে বসবাস- ২৫১/২/এ, সুরাইয়া ভিলা, নাখালপাড়া।