২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোহামেডানকে পাত্তাই দিল না আবাহনী

মোঃ মামুন রশীদ ॥ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই অথচ মাঠে নেই কোন দর্শক! দু’দলের সমর্থক সংখ্যাও এতটাই নগণ্য যে তা আঙ্গুলে গোনা যায়। একটা সময় আবাহনী-মোহামেডান লড়াই মানেই ছিল উত্তেজনার ডামাডোল, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে (ডিপিএল) দু’দলের মধ্যে বিস্তর ফারাক তৈরি হওয়ায় মাঠের লড়াইয়ে থাকে না কোন টানটান উত্তেজনার বিন্দুমাত্র রেশ। সোমবার তাই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অন্য যেকোন ম্যাচের মতোই দর্শকশূন্য মাঠে আবাহনী- মোহামেডান লড়াইটি হলো একেবারেই নিরুত্তাপ! তাতে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ৬ উইকেটে বিধ্বস্ত করল মোহামেডানকে। আবাহনী ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি দল জিতেছে বলে ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি (৯৬) মিসের আক্ষেপ ভুলে গেলেন। একই দিনে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব ৪৩ রানে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে হারিয়েছে। আর বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে মেহেদী মারুফের টানা দ্বিতীয় শতকে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ; মিরপুর ॥ টস জিতে আগে মোহামেডানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আবাহনী। সাবধানী শুরুর পরেও দলীয় ৪০ রানের সময় ওপেনার লিটন দাস (৩৮ বলে ২৭) সাজঘরে ফিরে যান। তবে আব্দুল মজিদ টেস্ট মেজাজে ৬৭ বলে ২৬ রান করে টিকে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। দুই ওপেনারের বিদায়েই ভাল হয়েছে মোহামেডানের। তৃতীয় উইকেটে ইরফান শুক্কুর ও রকিবুল হাসান ৬৮ রানের জুটিটা গতি বাড়িয়েছে রান তোলার। উভয়ে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। ইরফান ৭৮ বলে ৪ চারে ৫৭ এবং রকিবুল ৫৪ বলে ৫ চারে ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। শেষদিকে চতুরঙ্গ ডি সিলভা ২৪ বলে ১ চার, ২ ছক্কায় ৩২ আর সোহাগ গাজী ২০ বলে ১ চার, ২ ছক্কায় ২৭ রান করলে ৭ উইকেটে ২৪৮ রানের সংগ্রহ পেয়ে যায় মোহামেডান। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ আশরাফুল ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। আবাহনীর পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম অপু ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। জবাব দিতে নেমে আবাহনীর হয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই ১০৫ রান তোলেন জহুরুল ও সৌম্য সরকার। ৫৪ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৪৩ রান করে শাহাদাত হোসেন রাজিবের পেসে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য। তবে এই ব্রেক থ্রু আসলেও দ্বিতীয় উইকেটে ওয়াসিম জাফরের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন জহুরুল। ওয়াসিম ৪২ বলে ৩৮ রান করে শফিউল ইসলামের শিকার হলেও তাতে বিপদ হয়নি আবাহনীর। জহুরুল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে শাহাদাতের বলে বোল্ড হয়ে যান। তিনি ১৩১ বলে ১২ চারে ৯৬ রান করেছিলেন। জয়ের জন্য বাকি ৩৫ রান করতে বেগ পেতে হয়নি আবাহনীকে। ৪৭.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৪ রান তুলে জয় ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় তারা।

স্কোর ॥ মোহামেডান ইনিংস- ২৪৮/৭; ৫০ ওভার (শুক্কুর ৫৭, রকিবুল ৫১, চতুরঙ্গ ৩২, লিটন ২৭, সোহাগ ২৭; অপু ৩/২৯, সাইফউদ্দিন ৩/৩১)।

আবাহনী ইনিংস- ২৫৪/৪; ৪৭.৩ ওভার (জহুরুল ৯৬, সৌম্য ৪৩, ওয়াসিম ৩৮, সাব্বির ২১*; শাহাদাত ২/৫৯)।

ফল ॥ আবাহনী ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ জহুরুল ইসলাম অমি (আবাহনী)।

শেখ জামাল-গাজী গ্রুপ ম্যাচ; ফতুল্লা ॥ টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৭ রানেই প্রথম উইকেট হারিয়েছিল শেখ জামাল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫, চতুর্থ উইকেটে ৫২ ও পঞ্চম উইকেটে ১২১ রানের দারুণ জুটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় তারা। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৮১ বলে ৮ চার, ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮১ ও শ্রীলঙ্কার আসেলা গুণারতেœ ৬৫ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৭৯ রান করেন। গাজী গ্রুপের হয়ে ৩ উইকেট নেন পারভেজ রসুল। জবাবে ৪৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়লেও শামসুর রহমানের ৮৬ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় করা ৮১ ও মেহেদী হাসানের ৬৬ বলে ৭ চারে করা ৬০ রানে দারুণ লড়াই করে গাজী গ্রুপ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪৭ ওভারে তারা গুটিয়ে যায় ২৩৪ রানে। দুই পেসার খালেদ আহমেদ ও সালাউদ্দিন সাকিল ৩টি করে উইকেট নেন।

স্কোর ॥ শেখ জামাল ইনিংস- ২৭৭/৬; ৫০ ওভার (নুরুল ৮১*, গুণারতেœ ৭৯, ফারদীন ৪৬, নাসির ২৩; রসুল ৩/২৩)।

গাজী গ্রুপ ইনিংস- ২৩৪/১০; ৪৭ ওভার (শামসুর ৮১, মেহেদী ৬০, তারেক ২৭; খালেদ ৩/৩১, সাকিল ৩/৪৭, গুণারতেœ ২/৫০)।

ফল ॥ শেখ জামাল ৪৩ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ আসেলা গুণারতেœ (শেখ জামাল)।

রূপগঞ্জ-খেলাঘর ম্যাচ; বিকেএসপি-৩ ॥ টস হেরে আগে ব্যাট করে মাত্র ৩ উইকেট হারালেও খেলাঘর করেছিল ২৬৪ রান। অশোক মেনারিয়া ৭৯ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৭ এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৯৯ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৭৭ ও রবিউল ইসলাম রবি ৮৭ বলে ৬ চারে ৫৩ রান করেন। জবাবে মেহেদী মারুফের ১৩৪ বলে ৮ চার, ২ ছক্কায় করা ১০৮ ও মোহাম্মদ নাইম ৭৩ বলে ৯ চার, ১ ছক্কায় ৭২ রান করলে সহজ জয়ের পথ পেয়ে যায় রূপগঞ্জ। এ দুই ওপেনার ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন। আগের ম্যাচেও মারুফ অপরাজিত ১৩৭ রান করেছিলেন। এরপরও ৪৯.২ ওভার খেলতে হয়েছে রূপগঞ্জকে। ৫ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান তুলে জয় পায় তারা। বাঁহাতি স্পিনার মইনুল ইসলাম ৩ উইকেট নেন।

স্কোর ॥ খেলাঘর ইনিংস- ২৬৪/৩; ৫০ ওভার (মেনারিয়া ৮৭, অঙ্কন ৭৭, রবিউল ৫৩; মুক্তার ১/৪২, শুভাশিষ ১/৫৯)।

রূপগঞ্জ ইনিংস- ২৬৮/৫; ৪৯.২ ওভার (মেহেদী ১০৮, নাইম ৭২, নাঈম ২৮; মইনুল ৩/৪২)। ফল ॥ রূপগঞ্জ ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ মেহেদী মারুফ (লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ)।