২৫ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবারও ফিঞ্চ ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ ভারত সফরে বিরাট কোহলিদের ওপর দিয়ে স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন উসমান খাজা। ২-০’তে পিছিয়ে পড়েও টানা তিন জয়ে ৩-২এ স্মরণীয় এক সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন খাজা। আমিরাতে এবার পাকিস্তানকে পেয়ে বসেছেন এ্যারন ফিঞ্চ! দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারসেরা অপরাজিত ১৫৩ রানের দুরন্ত এক ইনিংসে সফরকারীদের ৮ উইকেটের বড় জয় উপহার দিয়েছেন অজি অধিনায়ক। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সেঞ্চুরি (১১৫) ও অধিনায়ক শোয়েব মালিকের (৬০) হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৪ রান করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু উসমান খাজা (৮৮) ও ফিঞ্চের ক্ল্যাসিক্যাল ব্যাটিংয়ে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৮তম ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ফিঞ্চ। দুবাইয়ে তৃতীয় ওয়ানডে বুধবার।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ ২০৯ রান করে ২৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন খাজা ও ফিঞ্চ। ১৯৯৩ সালে এই মাঠে ২০৪ রান করেছিলেন সে সময়ের পাকিস্তান তারকা সাঈদ আনোয়ার ও রমিজ রাজা। বড় রানের জবাবে এদিন অনবদ্য ব্যাটিংশৈলী উপহার দেন খাজা ও ফিঞ্চ। শুরুতে শট খেলে রানের চাকা সচল রেখেছিলেন বাঁহাতি খাজা। একটু সময় নেয়া ফিঞ্চ পরে চড়াও হন বোলারদের ওপর। ইয়াসির শাহকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় খাজার বিদায়ে ভাঙ্গে ৩৬.৪ ওভার স্থায়ী জুটি। বাঁহাতি ওপেনারের ১০৯ বলে খেলা ৮৮ রানের ইনিংস সাজানো ৮ চারে। দুই ছক্কায় ১৯ করে রান আউট হন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। শন মার্শকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন ফিঞ্চ। দলের জয়কে সঙ্গে নিয়ে ফেরা এই ওপেনারের ১৪৩ বলে খেলা ১৫৩ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস গড়া ৬ ছক্কা ও ১১ চারে। দাপুটে সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ফিঞ্চ। প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফর্মে ফেরা অধিনায়ক ফিঞ্চ সেদিনে খেলেছিলেন ১১৬ রানের ইনিংস। খাজাকে নিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গড়েছেন একাধিক রেকর্ড। ২০০১ সালের ১৪ জানুয়ারি ব্রিসবেনে ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে এ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও মার্ক ওয়াহ উদ্বোধনী জুটিতে ২০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিদেশের মাটিতে ওপেনিংয়ে ১৮ বছর আগের করা সেই জুটির রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ফিঞ্চ-খাজা জুটি। তবে সর্বোপরি উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি পাকিস্তানীদের দখলে। ইমাম-উল-হক ও ফখরে জামানের জুটিই এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা উদ্বোধনী জুটি। ২০১৮ সালের ২০ জুলাই জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে এ জুটি ৩০৪ রান সংগ্রহ করেছিল। অবশ্য নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ানদের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ড ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেডের দখলে, ২০১৭ সালের ২৬ জুনে এ্যাডিলেডে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৮৪ রান করেছিলেন তারা। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি পাকিস্তানের। শূন্য রানে ফেরেন ইমাম-উল-হক। খানিক পর ফিরে যান শান মাসুদও। দুই ওপেনারকে বিদায় করা পেসার জাই রিচার্ডসন ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়ে একাদশ ওভারে মাঠ ছাড়েন। কাঁধে চোট পাওয়া এই বোলার সিরিজে বাকি তিন ম্যাচে আর খেলতে পারবেন না।

একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অন্যপ্রান্তে মিল ছিল না তেমন সহায়তা। ভাল শুরুটা বড় করতে পারেননি হারিস সোহেল ও উমর আকমল। অধিনায়ক শোয়েব মালিক ক্রিজে আসার পর পাল্টায় চিত্র। দ্রুত জমে যায় তার সঙ্গে রিজওয়ানের জুটি। ৬১ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৬০ রান করা মালিককে বিদায় করে ১২৭ রানের জুটি ভাঙ্গেন এ্যাডাম জ্যাম্পা। আগের সেরা অপরাজিত ৭৫ ছাড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেয়া রিজওয়ান থামেন ১১৫ রানে। এই কিপার ব্যাটসম্যানের ১২৬ বলের দায়িত্বশীল ইনিংস গড়া ১১ চারে। শেষের দিকে ১০ বলে অপরাজিত ১৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ইমাদ ওয়াসিম। ৫ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রিচার্ডসন। তার অনুপস্থিতিতে হাত ঘুরানো ফিঞ্চ বেঁধে রাখেন পাকিস্তনের ব্যাটসম্যানদের। অনিয়মিত বাঁহাতি এই স্পিনার ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট! পাঁচ ম্যাচের সিরিজে টিকে থাকতে পরের ম্যাচটা জিততেই হবে পাকীদের।