২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নির্মাণের আগেই ভেঙে পড়ল বিদ্যালয়ের ছাদ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নির্মাণের আগেই ভেঙে পড়ল বিদ্যালয়ের ছাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হাওয়ার আগেই ভেঙে পড়ল এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন ভবনের ছাদ। তরিঘড়ি করে সরিয়ে ফেলা হয় ভেঙে পড়া ভবনের নির্মাণ সামগ্রী। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার আগতাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন দ্বিতল ভবনে। এ ঘটনায় এলাকায় অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, আগতাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন ২৯ লাখ ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে নির্মাণের শর্তে মেসার্স আমিন ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজটি পায়। সে মোতাবেক গত বছরের ৩ জুন ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আগতাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করে। নির্মাণ কাজটি চলতি (মার্চ) মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে নির্ধারিত তারিখে দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। দ্বিতল ভবনের এক তৃতীয়াংশের কাজ শেষ হওয়ার পর ওই ভবনের ছাদ ভেঙে পড়ে। ঠিকাদারের নির্মাণ শ্রমিকরা তরিঘড়ি করে ভেঙে পড়া ছাদের অংশ সরিয়ে ফেলেন। বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ভেঙে পড়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী শাহীনুর রহমান ভেঙে যাওয়া ওই ভবন পরিদর্শনও করেননি বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। আগতাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ প্রায় ৬ মাস যাবত ধীরগতিতে চলছে। ওই ভবনের নির্মাণ কাজ বেশির ভাগ সময় রাতে করা হয় বলেও স্থানীয়রা জানায়। নির্মাণ কাজে নিয়োজিত থাকা এলজিইডি’র তদারকি কর্মকর্তা(এসও) মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের কাজ দায়সাড়া ভাবে দেখভাল করার অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্থানীয়রা দাবি করেন, নির্মাণাধীন ছাদে ভিম না করে শুধু কলামের উপর নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে ছাদ ঢালাই করার ফলে ওই ছাদ ভেঙে পড়েছে।

এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মাইনুল ইসলাম বলেন, আগতাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ ভেঙে পড়ার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। কি কারণে ছাদ ভেঙে পড়েছে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, আগতাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজে শুরু থেকেই নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা কমিটি এবং গ্রামবাসী বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর আগে সঠিকভাবে কাজ করার দাবি জানালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন বলেন, ইতোপূর্বে ওই ভবনের নিচতলা যেভাবে কঠিন (মজবুত) করে কাজ করা হয়েছে আমরা দ্বিতল ভবনের কাজ এতো কঠিন (মজবুত) ভাবে করতে পারবো না। আমরা দ্বিতল ভবনের কাজ নরমাল ভাবেই করে যাব। নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় ভবনের ছাদ ভেঙে পড়েছে বলে মনে হয়।

আগতাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন ট্রেডার্সের কর্তৃপক্ষ সুমনের সাথে মুঠোফোনে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করে সম্ভব হয়নি।

নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী শাহীনুর রহমান এ ব্যাপারে কোন প্রকার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, সব বিষয়ে অফিস প্রধানদের মতামতের প্রয়োজন নাই। তবে কনস্ট্রাকশন কাজের ভুলক্রটি হতেই পারে এটা বড় কোন ব্যাপার না। ভুলক্রটি হলে তা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সমাধান করবে।