২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রাজস্ববান্ধব ভ্যাট চালুর প্রস্তাব

  • বাজেটে প্লাস্টিক শিল্প খাতের টার্নওভার কর ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ক্ষুদ্র-মাঝারি ও সেবা খাত শিল্পের উন্নয়নে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য রাজস্ববান্ধব ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্লাস্টিক শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের মতে, প্লাস্টিকপণ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি বা শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর পরও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে এ শিল্পখাতের। কিন্তু শিল্পবিকাশে ফলপ্রসূ এবং বাস্তবসম্মত কর ও ভ্যাটহার কার্যকর না হওয়ায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এ শিল্পখাত। এ খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে বার্ষিক টার্নওভারের উর্ধসীমা বর্তমানের ৮০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শিল্প খাতের টার্নওভার কর ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে উদ্যোক্তার।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক এ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) পক্ষ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় এসব দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবনাটির বাস্তবায়নে এর কপি তুলে দেয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের হাতে। এছাড়া ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের কাছেও এর একটি কপি হস্তান্তর করা হয়েছে। এফবিসিসিআই’র বাজেট প্রস্তাবনায় প্লাস্টিক শিল্পখাতের কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিপিজিএমইএ’র সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, রফতানি বাণিজ্যে প্লাস্টিক শিল্পখাত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ শিল্পে এখন দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে বেড়েছে রফতানি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা হারানোর পরও ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে এ শিল্পের। তিনি বলেন, প্লাস্টিক শিল্পখাত আরও বিকশিত হবে, এজন্য প্রয়োজন নীতি সহায়তা। বিশেষ করে একটি রাজস্ববান্ধব ভ্যাট ব্যবস্থা বলবৎ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রূপকল্প-২১ বাস্তবায়ন ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে উন্নত বিশ্বের ন্যায় প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। কিন্তু সেই উৎপাদন ও বিনিয়োগ কোথায়? তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে গঠিত পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। যৌক্তিক পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এজন্য বিপিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে একটি বাজেট প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি, প্লাস্টিক শিল্পখাত উন্নয়নে বাজেট প্রস্তাবনাটি কার্যকর করা হবে।

প্রস্তাবনায় যা রয়েছে ॥ শিল্প খাতের বার্ষিক টার্নওভারের উর্ধসীমা বর্তমানের ৮০ (আশি) লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্প খাতে টার্নওভার কর ৩ শতাংশ নির্ধারণ এবং টার্নওভার করের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী অর্থবছরের আয়কর নির্ধারণকালে অনুমোদিত টার্নওভারের ভিত্তিতে দাখিলপত্রে প্রদর্শিত টার্নওভারের পরিমাণ বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিলার মাস্টার ব্যাচ ও কালার মাস্টার ব্যাচ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে ভ্যাট রেজিস্ট্রার্ড শিল্প হিসেবে আমদানি শুল্ক ৫ অথবা সর্বনি¤œ পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পিভিসি স্টেবিলাইজার, স্টিয়ারিং এসিড, পলিইথাইলিন ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ট্রান্সফার পেপার শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ, আনপ্রিন্টেডলাইলিন, ফ্লিম ইন রোল ফরম এগুলো সব মৌলিক কাঁচামাল। এসব কাঁচামাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়েল প্যাকিং এবং খাদ্য দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ কারণে কোনভাবে এসব পণ্যের আমদানি ভ্যাট ৫ শতাংশের ওপরে যেন কার্যকর করা না হয়। বন্ডেড ওয়্যার হাউস, লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ, দ্রুত এবং অটোমেশনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া দেশীয় উৎপাদিত প্লাস্টিক খেলনা সামগ্রী যেমন বিশেষ করে গাড়ি, প্লেন, বাশি, পুতুল, চশমা, ঘড়ি, খেলনা সেট, খেলনা গেম, ক্রিকেট বল-ব্যাট, রেকেট, পানির গেম, খেলনা ঝুনা, পাউডার দানি, আয়নার ফ্রেম, কলম দানি, কাপড় কাঁচার ব্রাস, কাপড় ক্লিপ, প্লাস্টিক এর রেহাল, প্লাস্টিক এর বৈয়ম। এসব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত আছে।

বর্তমান বাজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা চট্টগ্রামে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করবে তাদের ওপর ১৫ শতাংশ মুসক প্রযোজ্য হবে। আর যে সমস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উপকরণ রেয়াত গ্রহণ করবে না তাদের জন্য ৩ শতাংশ ভ্যাট ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশীয় খেলনার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত হওয়ার পর থেকে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কেননা-দেশীয় খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ক্ষুদ্র, এদের ভ্যাট দেয়ার ক্ষমতা নেই।

ভ্যাটের খাতাপত্র মেইনটেইন করার সামর্থ্য নেই। এছাড়া ১৫ ভাগ ভ্যাটের কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় বিদেশী নিম্নœমানের পণ্য বাজারে আসছে। ক্ষুদ্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভ্যাট প্রত্যাহার আবশ্যক ও প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করার প্রস্তাব করা হলো।