২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চিনিকলে ভিন্ন উৎপাদন

চিনিকল চিনি উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে- এটা প্রাথমিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু শুধু চিনি উৎপাদন করলেই যে আর্থিকভাবে পোষাবে এমনটা নাও হতে পারে। দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো তাহলে লাভের পথেই থাকত। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দুর্ভাবনার কারণ ঘটত না। রবিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বেসরকারী খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচী গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, এ শিল্প লাভজনক করতে চিনিকলে শুধু চিনি করলেই চলবে না, অন্যান্য খাদ্যপণ্যও উৎপাদন করতে হবে। এ লক্ষ্যে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

চিনি একটি সম্ভাবনাময় রফতানি পণ্য। কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বাংলাদেশ এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে। যেমন: কারখানাগুলোর আধুনিকীকরণ, পূর্ণমাত্রায় আখ উৎপাদন, সহজশর্তে আখচাষীদের ঋণ প্রদান, রিফাইনারিগুলোকে পূর্ণমাত্রায় চিনি উৎপাদনের জন্য অনুমতি প্রদান, আখ চাষ ও চিনি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ, মিল কর্মচারীদের অপকর্ম থেকে বিরত রাখা এবং চিনিকলগুলো থেকে উৎপাদিত উপজাত পণ্যের (বাইপ্রোডাক্ট) সঠিক ও ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে মোট ১৫টি চিনিকল চালু রয়েছে। যার মধ্যে তিনটি ব্রিটিশ আমলে, নয়টি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে এবং তিনটি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের চিনিকলগুলোয় সরাসরি ১৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। আর আখ চাষের ওপর নির্ভর করে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ লাখ চাষীসহ প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা। কৃষিভিত্তিক চিনি শিল্পকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ এলাকায় রাস্তাঘাট, বিদ্যুত কেন্দ্র, ব্যাংক, হাটবাজার, অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। চিনির উপজাত চিটা গুড়, আখের ছোবড়া ইত্যাদি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেও বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে বহু কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

কৃষিভিত্তিক এ শিল্পকে লাভজনক করতে চিনিকলের উপজাত ব্যবহার করে নতুন পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। চিনিকলগুলোতে বিদ্যমান কাঁচামাল ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদনের প্রয়াস জোরদার করা চাই। চিনির বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে চিনিকলে ওয়াইন ও এ্যালকোহল উৎপাদন করা হয়ে থাকে বাইরের অনেক দেশে। আমাদের দেশে করা যায় কিনা সে ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখন বিদেশে বিদ্যুতও (বায়োব্যাটারি) উৎপাদিত হচ্ছে চিনি থেকে। প্রতি কিলোগ্রাম চিনি থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৫৯৬ এ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা/ কিলোগ্রাম শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা চিনিকলগুলোকে লাভের মুখ দেখতে অচিরেই চিনিজাত বিচিত্র পণ্যের উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।