২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু ও অর্থবহ স্বাধীনতা

  • ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

সমাজ-সভ্যতার ক্রমবিকাশের আধুনিক ধারায় যে সত্যটি সর্বজনবিদিত, তা হলো আদর্শ ও নীতিবিবর্জিত এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে যারা রাজনীতিকে জীবন প্রতিষ্ঠার বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছে, তাদের দিয়ে জাতির ভাগ্য নির্ধারণে কোন কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। জাতির সামগ্রিক উন্নয়নধারাকে নানাবিধ অপকৌশলে তারা বাধাগ্রস্ত করবে, এটিই স্বাভাবিক ও অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা আমাদের যে লক্ষ্যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, তাকে অর্থবহ করার জন্য তাঁর গৃহীত পরিকল্পনা, পদক্ষেপ ও অবদান বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যথার্থ পর্যালোচনা সময় ও তরুণ প্রজন্মের নবতর দাবি। উল্লেখ্য, প্রেক্ষাপটে স্বল্প পরিসরে এই নিবন্ধের উপস্থাপন।

আমাদের সকলেরই জানা আছে যে, ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির পদে ইস্তফা দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও তাঁর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার মূলমন্ত্র ছিল শোষণমুক্ত জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এরই আলোকে ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ অক্ষুণœ রেখে সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ঠিক পরেরদিন রমনা রেসকোর্স ময়দানকে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান নামকরণের ঘোষণা এবং সরকারী আদেশে মদ, জুয়া, হাউজিসহ অনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ করেন।

১৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের হাইকোর্ট অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে হাইকোর্ট গঠন করেন। দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ২১ জানুয়ারি ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেন। ২৪ জানুয়ারি পাক-সামরিক জান্তাদের সহযোগী হয়ে এদেশে যারা মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধকর্মে জড়িত বা দালালি করেছে, তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ৩০ এবং ৩১ জানুয়ারি মুক্তি ও মুজিব বাহিনীর সকল সদস্যবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর কাছে তাঁদের রক্ষিত অস্ত্রসমর্পণ করে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণের ঘোষণা দেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে বেতার ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘শোষণমুক্ত সোনার বাংলা কায়েমই আমাদের লক্ষ্য।’

বঙ্গবন্ধুর ৫৩তম জন্মদিন অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনন্দিত গণতন্ত্রের ভারতকন্যা প্রয়াত শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় আসেন এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২৫ বছরের জন্য শান্তি, সহযোগিতা ও মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২৬ মার্চ দেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালন এবং সকল ব্যাংক, বীমা ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা করা হয়। ৮ মে সারাদেশে কবিগুরুর জন্মদিন যথাযথ মর্যাদায় পালন এবং ২৪ মে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে ঢাকায় নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারকে একটি ভবন ও রাষ্ট্রীয় ভাতা মঞ্জুর করে ২৫ মে এই বিদ্রোহ কবির উপস্থিতিতে অত্যন্ত আড়ম্বর পরিবেশে তাঁর জন্মদিন পালন করা হয়।

স্বাধীনতাকে পরিপূর্ণভাবে অর্থবহ করার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের কার্যকর পদক্ষেপ হিসাবে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। ৭ মার্চের নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, সুন্দর এবং রাজনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল দলের অংশগ্রহণে যথার্থ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা যায় তার জন্য ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারি গণভবনে মন্ত্রীদের উদ্দেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রদত্ত ভাষণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমার দেশ চলবে। এটা যে শুধু আমার কথা তা নয়। যে শাসনতন্ত্র আমরা দিয়েছি সে শাসনতন্ত্রে সেটা প্রত্যেক অক্ষরে অক্ষরে গ্রহণ করা হয়েছে। এটা শাসনতন্ত্রের মূলনীতি। যে শৃঙ্খলাকে ভিত্তি করে শাসনতন্ত্র দিয়েছি যার জন্য আমরা স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছি এত শহীদ হয়েছে, এত রক্ত দিয়েছি এটা মিথ্যা হয়ে যাবে যদি আমরা আমাদের আদর্শ এবং মূলনীতি থেকে দূরে সরে যাই।’

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে বেতার ও টেলিভিশনে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় দিবস। আরও স্পষ্ট কথা বিজয় দিবস। লাখো শহীদের রক্তমাখা এই দিন। লাখো মা-বোনের অশ্রুভেজা এই দিন। আবার সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর স্বপ্ন ও পরম আকাক্সক্ষার এই দিন। এই দিন আমরা পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সোনার বাংলার মানুষ বিদেশী শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তি পেয়েছে। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে বড় পবিত্র, বড় বেশি গৌরব ও আবেগম-িত। এই দিন আমরা শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করি আমাদের স্বাধীনতা-সংগ্রামীদের, আবার এই দিন আমরা আনন্দ উৎসব করি, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাফল্যের জন্য। এই দিন এক যুদ্ধ শেষ আর এক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমাপ্তি। এই একই দিনে আমাদের দেশ গড়ার সংগ্রাম শুরু। স্বাধীনতা সংগ্রামের চাইতেও দেশগড়া বেশি কঠিন। দেশগড়ার সংগ্রামে আরও বেশি আত্মত্যাগ, আরও বেশি ধৈর্য, আরও বেশি পরিশ্রম দরকার।’

বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে বহুবার উচ্চারিত হয়েছেÑ স্বাধীনতা পাওয়া যেমন কষ্টকর স্বাধীনতা রক্ষা করাও তেমন কষ্টকর। ত্রিশ লাখ শহীদানের মা, বিধবা বোনের কান্না এখনও বাংলাদেশকে প্রতিমুহূর্তে কাঁদাচ্ছে। তাঁরা জীবন বিসর্জন দিয়েছিল বাংলার মানুষকে শুধু স্বাধীন করার জন্য নয়, স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যেন সকল মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। দু’বেলা পেটভরে খেতে পারে। শহীদানের আত্মা শান্তি পাবে না যদি না দেশের সকল মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে না পারে। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, ‘আমি চাই সোনার বাংলা, আমার সোনার মানুষ। সোনার মানুষ যেন সোনার বাংলায় পয়দা হয়। সোনার মানুষ না হলে সোনার বাংলা আমি গড়তে পারব না। আমার স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষমতার মোহে যেন মানুষ পাগল না হয়ে যায়। ‘মানুষকে যেন মানুষ ভালবাসে এবং মানুষের ভালবাসার মতো অতবড় জিনিস আর দুনিয়ায় কিছুই হয় না’ (ভাষণ ১৩/০২/১৯৭৩, সুনামগঞ্জ)।

বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা সৃষ্টিতে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠিন সংগ্রামে জনগণকে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ে। কেন যে মানুষ অমানুষ হয়ে যায়, এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের অনেকের কেন চরিত্রের পরিবর্তন হয় না এবং ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি আর মুনাফাখোর কীভাবে বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে তার বিশদ বক্তব্য সর্বত্রই জোরালো কণ্ঠে উপস্থাপন করেছেন। কীভাবে গুটিকয়েক চোরাকারবারি, মুনাফাখোর ও ঘুষখোর দেশের সম্পদ বাইরে পাচার করে, জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়, খাবার জিনিস গুদামে মজুদ করে মানুষকে না খাইয়ে মারে- এ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি এসব অপশক্তিকে উৎখাত করার আহ্বান জানান।

চোরের শক্তি বেশি না ঈমানদারের শক্তি বেশি, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে তাঁর মত- জনগণকেও উজ্জীবিত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি পঁচিশ বছর পাকিস্তানী জালেমদের বিরুদ্ধে লড়তে পারি, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ থেকে আরম্ভ করে গোলাম মোহাম্মদ, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আইয়ুব খান আর ইয়াহিয়া খান পর্যন্ত সবার সঙ্গে বুক টান করে সংগ্রাম করতে পারি, ৩০ লাখ লোকের জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারি, তাহলে দুর্নীতি, ঘুষখোরি, মুনাফাখোরি আর চোরাচালানও নিশ্চয়ই নির্মূল করতে পারব। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, তোমরাও প্রতিজ্ঞা করো। বাংলাদেশের জনগণ প্রতিজ্ঞা করুক। আমার আর সহ্য করবার শক্তি নেই।’ (ভাষণ ১১/০১/১৯৭৫, কুমিল্লা)।

গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে মানুষকে শুধু সামাজিক জীব হিসেবে নয়, রাজনীতিক জীব হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। সমাজকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেবা প্রদান এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখে রাষ্ট্র ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অর্জনের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধনের যে নীতি ও আদর্শ, তারই সাধারণ নাম হচ্ছে সুষ্ঠু বা সুস্থ রাজনীতি। এ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নির্দেশনা একটি জাতিকে যেমন দান করে সামগ্রিক উন্নয়ন রোডম্যাপ বা রূপকল্প, তেমনি বিপরীতমুখী বা সমাজ বিধ্বংসী রাজনীতিকে পরিচর্যার মাধ্যমে যে কোন সমাজকে করতে পারে সুদূরপ্রসারী বিপন্ন ও বিপর্যস্ত।

যে কোন জাতিসত্তার পরিচিতিকে সমৃদ্ধির ভিত্তিতে জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রকাঠামো গঠনের অঙ্গীকার রাজনীতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। ফরাসী বিপ্লবের দর্শন তথা সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতার চিরায়ত অনুপ্রেরণা পরবর্তী সময়ে সকল স্বাধীনতাকামী জাতিগোষ্ঠীর মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তা কিন্তু শুধু স্বাধীন ভৌগোলিক ভূ-খ-ের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ভিন্নমাত্রায় তা ছিল জাতি-রাষ্ট্রের সকল জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক উন্নয়ন অর্থাৎ অর্থবহ স্বাধীনতার মৌলিক সূচক/নিয়ামকগুলোকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করে পরিপুর্ণ জীবনযাত্রার মানদ- হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কোন একটি সমাজ কতটুকু অগ্রসর বা অনগ্রসর, উন্নয়ন-অনুন্নয়নের অবস্থান নির্ধারণে বিবেচ্য উপাদানসমূহকে যথাযথ গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় না আনা হলে স্বাধীনতার সার্থকতা অসারে পরিণত হবে।

পবিত্র এই স্বাধীনতাকে সত্যিকার অর্থে অর্থবহ করার জন্য জাতির জনকের আরাধ্য স্বপ্নপূরণের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করে দেয়া হয় ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট। সভ্যসমাজের ইতিহাসে সর্বনিকৃষ্ট, নৃশংস ও বর্বর হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে বঙ্গমাতা, শিশু শেখ রাসেলসহ প্রায় সপরিবারে শাহাদাত বরণকারী বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনা যে চিরঞ্জীব ও চিরজাগরুক সেটি আজ বিশ্বসমাদ্রিত। তাঁর সুযোগ্য তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই মহান আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শাণিত চেতনায় দেশের সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্ভীক সাহসিকতা ও প্রাজ্ঞ-বিচক্ষণতায় দেশেকে বিশ্বপরিম-লে উন্নয়ন-অগ্রগতির অনন্য উচ্চতায় ইতোমধ্যেই সমাসীন করেছেন।

উন্নত বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত দেশ ও জাতি আজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সকল ত্যাগ ও বিসর্জনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দেয়া দিক-নির্দেশনা প্রতিপালনে সমগ্র জাতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীনতার মাসে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদান, দুই লাখ জননী-জায়া-কন্যার সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং ১৯৭৫, ১৫ আগস্ট বঙ্গমাতাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি। এই নিবন্ধে অন্যত্র প্রকাশিত আমার নিবন্ধসমূহের কোন উদ্ধৃতি বা পুনঃউল্লেখ থাকতে পারে- এজন্য পাঠকের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি প্রার্থনা করছি।

লেখক : শিক্ষাবিদ, উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়