২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আরও দৃষ্টিনন্দন হচ্ছে

  • শিশু পার্ক অংশে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ, শেষ হওয়ার কথা ডিসেম্বরেই

ওয়াজেদ হীরা ॥ মুক্তিযুদ্ধ ধরে রাখতে ঢেলে সাজা হচ্ছে স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান। সেই সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে স্বাধীনতা স্তম্ভের অসমাপ্ত কাজ। বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি দৃষ্টিনন্দন করে রাশিয়ার ভিক্টোরিয়া পার্কের আদলে পুরো সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান সাজানো হচ্ছে। শুধু তাই নয় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তাঈ সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের স্থান চিহ্নিত করে সেখানে একটি সৌধ নির্মাণ করা হবে। এসব বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান দেখে সময়ের স্রোতে হারানো সেই দিনগুলোর বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে গণপূর্ত বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পের আওতায় যেসব কাজ সম্পন্ন হবে তার মধ্যে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৬ ডিসেম্বর হানাদার পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্থানগুলোয় ভাস্কর্য নির্মাণ, স্বাধীনতা টাওয়ার প্লাজার সংস্কার, জনসভার মঞ্চ স্থাপন, ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণ, বসার বেঞ্চ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা তৈরি, বৈদ্যুতিক কাজ করার পাশাপাশি শিশুপার্কের দেয়ালে ম্যুরাল স্থাপন, শিশুপার্কে বিভিন্ন ধরনের আরও তেরোটি রাইড স্থাপন এবং উদ্যানে জলাধার নির্মাণ।

প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও একাধিক সূত্র বলছে সময় একটু বাড়তে পারে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ওপরের চাপ রয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোয় এমনভাবে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হবে যে এসব স্থাপনা দেখে পরবর্তী প্রজন্ম ইতিহাসের ধারাবাহিক পাঠ নিতে পারবে। ইতোমধ্যেই সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন শাহবাগের শিশুপার্কটি নতুন বছরের শুরু থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় শিশুপার্কটি একটু পশ্চিম অংশে আরও আধুনিক হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে দেখা গেছে শিশুপার্ক ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যএন চলমান বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ। ১৫০ ফুট উচ্চতার স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে প্রায়ই নানাবয়সী মানুষের মিলনমেলা থাকে। কেউ কেউ মুঠোফোনে সেলফিতে লিপ্ত থাকেন। অনেকে বিশেষ করে যারা ঘুরতে আসে তারা এখানকার নানা ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কথোপকথনে মেতে উঠেন। এদিকে, শিশুপার্কের প্রবেশপথে ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগের (যান্ত্রিক) নির্বাহী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদের নামে দেয়া বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে। তাতে লেখা রয়েছে, ঢাকার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় শাহবাগ শিশুপার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন কাজ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।

এই মাত্রা পাওয়া