২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তরায় শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নিয়ে তুলকালাম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর উত্তরায় এক শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটেছে। ওই গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে ওই ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসার সামনে বিভিন্ন পরিত্যক্ত জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ফায়ার সার্ভিসের তিন ইউনিট আগুন নেভাতে এলে বাধার মুখে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর ভবনের ছয়তলার বাসা থেকে বৈশাখী (১২) নামে এক শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। বৈশাখীর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজন ছুটে আসে। বৈশাখীকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে তারা। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকাবাসীরা বৈশাখীর পরিবারের সঙ্গে যোগ দেয়। এ সময় এলাকাবাসীরা ওই বাসার সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা বাসার সামনে বিভিন্ন পরিত্যক্ত জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা ওই ভবনের নিচতলা থেকে সাইকেল ও আসবাব নিয়ে আগুনে দেয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধরা ওই ভবনের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। এতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে ঢুকতে চাইলে বিক্ষোভকারীরা বাধা দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে এলাকাবাসীদের বুঝিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেই ভবনে প্রবেশ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌসের বাসায় কাজ করত বৈশাখী। গৃহকর্তা রিফাত স্ত্রী ও এক শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে বৈশাখী দাদি মারা গেলে সে গ্রামের বাড়ি নওগাঁয় যায়। সোমবার ঢাকা ফিরলে তার মা তাকে ওই বাসায় পৌঁছে দেয়। সোমবার রাতের যে কোন সময় বৈশাখী গলায় ফাঁস দেয়। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে খবর পেয়ে দরজা ভেঙ্গে বৈশাখীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এই মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি বৈশাখীর আত্মীয়-স্বজন। এরপরই ঘটে এই ঘটনা। পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান জানান, দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডে ওই ভবনের ৫ তলার বাসিন্দা রিফাত পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে একটি কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভেতর থেকে জানালায় ঝুলন্ত অবস্থায় বৈশাখীর লাশ উদ্ধার করে। রিফাত ও তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে এসি কামরুজ্জামান জানান, ছুটিরদিন হওয়ায় তারা দেরি করে ঘুম থেকে উঠে দেখে পাশের ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেন গৃহকর্তা। বৈশাখীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজন ছুটে আসে। মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তারা। এলাকার লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে তারা বাসার সামনে বিভিন্ন পরিত্যক্ত জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ওই ভবনের নিচতলা থেকে সাইকেল ও আসবাব নিয়ে আগুনে দেয়া হয়। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গেলেও সেখানে তাদের ঢুকতে দেননি বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশ বুঝিয়ে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দিয়ে ফায়ারের কর্মীরা আগুন নিভিয়ে ফেলে। উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই দেলওয়ার হোসেন বৈশাখীর লাশ উদ্ধার করে বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। বিক্ষুদ্ধ নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, বৈশাখী দুই মাস আগে এই বাসায় কাজ নেয়। কয়েকদিন আগে তার দাদি মারা যায়। পরে সে গ্রামের বাড়ি নওগাঁ যায়। সোমবার ঢাকা ফিরলে তার মা তাকে ওই বাসায় পৌঁছে দেয়। সুস্থ মেয়ে বাসায় পৌঁছে দেয়ার পর আজ গলায় ফাঁস দেয়। মৃত্যুর খবর কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার ফরিদ উদ্দিন জনকণ্ঠকে জানান, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকল কর্মীরা উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ওই বাড়িতে গেলে বাধার মুখে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে ফায়ারের কর্মীরা ওই ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

নির্বাচিত সংবাদ